গল্প:শ্যামা সুন্দরী (পর্ব :০১)

 

লেখিকা:সুরভী আক্তার 

 

পর্ব:০১




- " গায়ের রং লইয়া কথা কইলে একটা মাইনষের যে কতটা কষ্ট লাগে তা যদি মাইনষে বুঝতো তাইলে হয়তো আর কখনো গায়ের রং লইয়া কথা কইতো না,, তাইনা আম্মা ?? "

উঠানে পিঁড়িতে বসে চাল ঝাড়ছিলেন ' অলকানন্দা ' হঠাৎ মেয়ের এমন কথায় হাত থমকে যায় তার । চোখ দুটো ছলছল করে ওঠে ,, তবে এই দুর্বলতাকে আড়াল করে তিনি মেয়ের দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বলেন...

- তুই আবার এমন কথা কইতাছোস শ্যামা,,তোরে না কইছি মাইনষের কথায় কান না দিতে। তুই জানোস না মানুষ মাইনষের দুর্বলতাকে লইয়া কথা কইয়া মজা পায় । 

- বাইরের মাইনষে কইলে আমার কষ্ট হয় না আম্মা , বাইরের মাইনষের কথা আমার গায়ে সইয়া গেছে । কিন্তু আমার আপন মানুষ, তারা ক্যান আমারে সবসময় খোটা দিয়া কথা কয় আম্মা? কথার আঘাত যে সবচেয়ে বেশি ব্যথা দেয় আম্মা । দেহের আঘাতে না মরলেও কথার আঘাতে বারবার মরি আমি । আমি কি আর নিজে থাইকা কালা হইছি ? ঐ আল্লাহ তো আমারে কালা বানাইছে।

মেয়ের কথার পরিপেক্ষিতে কি বলবে বুঝতে পারে না অলকানন্দা । গত ১৯ বছর ধরে তো অনেক কিছুই বলেছেন তিনি, কিন্তু কারোর ভাবনার কোন পরিবর্তন হয়েছে কি? না হয়নি । আচ্ছা মানুষের গায়ের রংটাই কি সবকিছু ? 
অলকানন্দা বলেন...

- শোন শ্যামা !!
একখান কথা সবসময় মনে রাখবি ,,আল্লাহ কাউরে অসুন্দর বানায় না,, মানুষ মাইনষেরে অসুন্দর বানায় । আর কেডায় কয় তুই কালা ? তুই তো আমার শ্যামাসুন্দরী মাইয়া , যার সৌন্দর্য সবার চোখে পড়বো না , সবাই বুঝবো তোর সৌন্দর্য । 

মায়ের কথায় নিরব থেকে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে শ্যামা । জড়োসড়ো হয়ে বসে দুই হাটুর উপর মাথা রেখে । নিঃশব্দে চোখের পানি বিসর্জন দেয় সে । 
আসরের আজানের ধ্বনি বেজে ওঠে । অলকানন্দা চলে গেছেন রান্না ঘরে ,আর শ্যামা একই ভঙ্গিতে বসে মন‌ দিয়ে আজানের ধ্বনি শুনছে । এমন সময় পাশ থেকে কেউ খ্যাক খ্যাক করে চেঁচিয়ে বলে ওঠেন..

- ঐ মাইয়া,,আজান দিতাছে কানে যায় না ? ওমন শংয়ের মতো বইসা আছোস কিল্লাইগা ,, আমার ওজুর পানি কেডায় দিবো ?  

দাদির কথায় ধড়ফড়িয়ে উঠে দাঁড়ায় শ্যামা । চোখের কোনে জমে থাকা শুকনো পানি আবারো মুছে নেয় । তারপর দৌড়ে যায় ওজুর পানি আনতে। পানি নিয়ে ফিরে এসে দেখে দাদি কল পাড়ের বাইরের কাঠের তক্তার উপর বসে আছেন,, কপালে ভাঁজ এবং চোখমুখে একরাশ রাগ নিয়ে । শ্যামা ভয়ে ভয়ে দাদির সামনে গিয়ে ওজুর বদনাটা এগিয়ে দেয়,, এমন সময় কাকরি বুড়ি অর্থাৎ শ্যামার দাদি তিরষ্কারের সুরে বলে ওঠেন.. 

- এই মাইয়া তোর তো চেহারার কোনো শ্রী নাই,, তার উপর আবার সারাডা দিন এমন ব্যারামি (অসুস্থ) মাইনষের নাকান ঝিম ধইরা থাকোস তোর যে কি হইবো কেডায় যানে। আইজ মোখলেছ ( শ্যামার বাবা ) বাড়ি আহুক, তারপর তোর একখান দফারফা কইরাই ছারমু । তোরে আর সহ্য হইতাছে না আমার…

দাদির কথায় শ্যামার বাড়িয়ে দেওয়া হাত থমকে যায়,,গলার শব্দ রুদ্ধ হয়ে আসে , যেনো গলায় নিঃশ্বাস আটকে গেছে,, দলা পাকিয়ে আছে শ্বাস টুকু । দুচোখ ছলছল করে ওঠে তবুও মাথা নিচু করে নিজেই নিজেকে সামলে নিয়ে পানির বদনাটা এগিয়ে দেয়। এমন সময় বাড়ির দেওড়ির কাছ থেকে কেউ উচ্চস্বরে ডেকে ওঠেন..

- কোই গো মোখলেছ মিয়া,, বাড়ি আছো নি ? 

শ্যামার দাদির চোখ চকচক করে ওঠে,, তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন...

- সৈয়দ ঘটক আইছে যে,,,ঐ সৈয়দ এইহানে আয় ,, মোখলেছ বাড়িত নাই‌ । তোর লগে আমার কথা আছে ,,আয় ।

সৈয়দ ঘটকের কথা শুনে শ্যামা ধক্ করে ওঠে । এক দৌড়ে চলে যায় রান্না ঘরের দিকে আম্মার কাছে । শ্যামাকে এই ভাবে দৌড়ে পালাতে দেখে কাকড়ি বুড়ি মুখ বাঁকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠেন..

- মাইনষের ঘরে এমন মাইয়া জন্মায় নাই‌ ,যারে 
 লুকাইয়া লুকাইয়া রাখোন লাগে । 

এরপর সৈয়দ ঘটকের উদ্দেশ্যে বলেন..

- ও সৈয়দ এই মাইয়াডারে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার বাড়ি থাইকা বাইর করার ব্যবস্থা কর হে,,ওরে যে আর সহ্য হইতেছে না আমার ।

- কি করমু কও খুঁড়ি,, তোমাগো মাইয়ার যে গায়ের রং,, তাতে তো সম্বন্ধ নিয়া যাওনের আগে সেই সম্বন্ধ ভাইঙ্গা যায় । গায়ের রংয়ের কথা শুনলে না কইরা দেয় সবাই । দেখার হেতু প্রকাশ করে না । তোমাগো বাকি দুইটা মাইয়ার মতো গায়ের রং হইলে তো পাত্রের লাইন লাগাইয়া দিতে পারতাম। এইটারে বাদ দিয়া আগে ছোডো টার বিয়া দেও তারপর এইডার ব্যবস্থা করা যাইবো নে।

- কি কস ,, ? আমি আমার ময়না'রে এহন বিয়া দিমু না। আগে এই আপদটারে বিদায় করমু, তারপর আমার ময়না'রে অনেক বড়লোক বাড়িতে বিয়া দিমু । তুই এহন যা,, ঐডার একটা ব্যবস্থা কর ।

সৈয়দ ভারী শ্বাস ফেলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন..

- আইচ্ছা খুঁড়ি,, আমি দেখতাছি কি করবার পারি । এহন আসি ।

★ 

এদিকে শ্যামা দৌড়ে এসে মায়ের কাছে হুড়মুড়িয়ে বসে । কাঁপা গলায় বলে..

- আ.. আম্মা,,,ঐ সৈয়দ ঘটক আবার আইছে । দাদি আবার ওনারে ডাকছে আম্মা । 

অলকা ভ্রু কুঁচকে খানিক সময় নিয়ে বলেন...

- তাতে তুই ভয় পাইতাছোস কিল্লাইগা ,, তোর লগে আমি সব সময় থাকমু । তোর জীবনের সব সিদ্ধান্ত যহন আমি লইছি তহন তোর জীবনের এই সব থাইকা বড় সিদ্ধান্ত টাও আমিই নিমু । তোর কেউ কোনো ক্ষতি করতে পারবো নারে মা । 

শেষের কথাটা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন তিনি । 
পাশ থেকে কাকরি বুড়ি দাঁতে দাঁত পিষে বলে ওঠেন..

- আদিখ্যেতা দেখলে গাঁ জ্বইলা যায় । জন্ম দিছোস তো একটা কালা মাইয়া,, আরো তো দুইডা মাইয়া পেটে ধরছোস ওরা তো এমন কালা হয় নাই । 

শাশুড়ির কথায় অলকানন্দা শান্ত কন্ঠে বলেন ..

- মাইয়া জন্ম আমি দিছি,,ওর লাইগা আপনারে ওতো ভাবোন লাগবো না । আপনি গিয়া নামাজ পইড়া লন ।

- আমি ভাবমু না তো কেডায় ভাববো ,,, বয়স তো কম হইলো না, আর গায়ের রংয়ের যে শ্রী ,,কেডায় বিয়া করবো ওরে ? ছোডবেলা থাইকা কইতাছি মাইয়াডারে একটু লবণ-হলুদ দিয়া ঘইসা ফেলাও , কিছু ধলা হইলে মাইনষে না হয় একটু মাইনা নিতো ।

এবার অলকানন্দা রেগে গিয়ে চোখে মুখে হিংস্রতা প্রকাশ করে নিরেট কন্ঠে বলেন..

- আবার আপনি এক কথা কইতাছেন । আপনি যদি এইহানে দাঁড়াইয়া আর একখান কথা কন তাইলে ভালো হইবো না কইয়া দিলাম । 
আমার মাইয়া যেমন ও তেমনই সুন্দর,, কিন্তু আফসোস ওর সৌন্দর্য আপনাগো মতো মাইনষের চোখে পড়ে না ।

অলকানন্দার কথায় আর কিছু বলে না কাকরি বুড়ি বরং মুখ বাঁকিয়ে চলে যায় নিজের ঘরে । সত্যি বলতে গেলে অলকানন্দাকে ভয় পায় বুড়ি,, তবে একবার শ্যামাকে কটু কথা বলার সুযোগ পেলে সেই সুযোগ ছাড়েন না । 

মায়ের এতোসব‌ কথায় শ্যামা মাকে জড়িয়ে ধরে নরম গলায় বলে...

- তোমার মতো কইরা সবাই ভাবে না ক্যান আম্মা ? তোমার মতো কইরা যদি সবাই আমারে ভালোবাসতো তাইলে কতোই না ভালো হইতো ।

মেয়ের কথায় অলকানন্দা স্মিথ হেসে শান্ত কন্ঠে বলেন...

- কারন সবাই যে তোর আম্মা না । সবার মাঝে মাতৃত্ব থাহে না রে । এহন যা দেহি আগে নামাজ পইড়া নে , আজান তো অনেকক্ষণ আগেই দিছে , আসরের নামাজ দেরি কইরা পড়োন যায় না । 

মায়ের কথায় বাধ্য মেয়ের মতো নামাজ পড়তে চলে যায় শ্যামা ‌ । এদিকে মেয়ের যাওয়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন অলকানন্দা । 

★★★

সালটা এখন ১৯৯৩ । শ্যামার বয়স ১৯ । ছোট বেলা থেকেই শ্যামা শান্ত ভিতু স্বভাবের মেয়ে । কারোর দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে কথা বলার মতো সাহস নেই ওর মাঝে । গায়ের রংয়ের সাথে মিলিয়ে অলকা ওর নাম রাখেন শ্যামা । তবে এই শ্যামলা গায়ের রংটাই যেন শ্যামার জীবনের কাল । শ্যামারা তিন বোন,, বাকি দুই বোনের গায়ের রং যেমন দুধেআলতা ,, রূপ সৌন্দর্যে তেমন সুন্দর । তবে শ্যামার গায়ের রং শ্যামলা হলেও চেহারার রয়েছে মাধুর্য আর রহস্যের মায়া ,, মুখখানি কোমল ,, চোখ দুটো গভীর- যেন দুটো ছোট নদী - যা শ্যামার হৃদয়ের 
না বলা কথা গুলো প্রকাশ করে । শ্যামার হাসিটা খুব মোলায়েম - নিঃশব্দ ঝর্নার মতো । শ্যামার এই সৌন্দর্য , এই শ্যামলা ত্বক যেন সন্ধ্যার আলতো আলো । এতো স্নিগ্ধ কোমল সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও শ্যামা কে সবাই বিচার করে ওর গায়ের রং দিয়ে । 

সন্ধা গড়িয়ে রাত নেমেছে । ' মাধবপুর' গ্রামের চারদিক অন্ধকারে তলিয়ে গেছে । গ্রামের কিছু কিছু বাড়ি ব্যাতীত প্রায় সব বাড়িতেই বিদ্যুৎ আছে,,শ্যামাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই । একেই টানাটানির সংসার তার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকাটা বিলাসীতা । হারিকেনের ছিপছিপে আলোয় মায়ের সাথে বারান্দায় বসে আছে শ্যামা । আকাশে তারার মেলা বসেছে আজকে ,, শ্যামা বাচ্চাদের মতো সেই তারা গুনে হিসেব মেলাতে ব্যস্ত । এদিকে মেয়ের ছেলেমানুষি দেখে মিটি মিটি হাসছেন অলকা ।

এমন সময় উঠানে কারো পায়ের শব্দ শুনে অলকানন্দা উঠে হারিকেনের আলো বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে যান ...

- আইজকা আইতে এতো দেরি হইলো যে? 

এদিকে বাবার উপস্থিতি টের পেয়ে গুটিয়ে যায় শ্যামা । কালো বলে ওর বাবাও তো ওকে কম অবহেলা করে না ,, বাবার কোলে কখনো উঠেছিল কি না তাও জানে না শ্যামা । বড় আপা রুপা আর ছোট বোন ময়না কে বাবা অনেক আদর করে কিন্তু শ্যামা- ওর দিকে তো ফিরেও তাকায় না । এই বাড়িতে একমাত্র মা আর বড় আপাই শ্যামাকে ভালোবাসতো । কিন্তু বড় আপার বিয়ের পর একটা ভালোবাসার মানুষ কমে যায় শ্যামার জীবনে। এই বাড়িতে মা ছাড়া ওকে আর কেউ ভালোবাসে না,, ছোট বোন ময়নাও ওকে দেখে তাচ্ছিল্য করে । বড় আপা আর ছোট বোনের মাঝে থেকে শ্যামা নিজেকে শুধু একটা অস্তিত্ব মনে করে ।

অলকানন্দার কথার উত্তরে শ্যামার বাবা বলেন..

- দেরি হইবো না,,আইজ মুকুন্দপুরের আড়তে গেইছিলাম । এই লাইগা দেরি হইছে । দেও আমার গামছাডা গোসল কইরা আহি ।

বলেই গামছা নিয়ে কলতলায় চলে যায় শ্যামার বাবা । অলকাও চলে যায় ভাত বাড়তে । 
শ্যামা গুটি গুটি পায়ে নিজের ঘরে গিয়ে খাটের উপর বসে পড়ে । শ্যামার বাবা নদী থেকে মাছ ধরে আড়তে বিক্রি করে সংসার চালায়,, অনেক সময় টানাপড়েন হয় এই সংসারে । শ্যামাদের বাড়িটা নদীর একদম পাশে,, বাড়িতে তিনটা ঘর - সব চেয়ে বড় ঘরটায় শ্যামার বাবা-মা থাকেন,,একটাতে কাকরি বুড়ি থাকে ,, তার ঘরটা তুলনামূলক ছোট । আর একটাতে শ্যামা আর ময়না থাকে ।

শ্যামার বাবা গোসল করে খাবার খেয়ে খাটের উপর আধশোয়া হয়ে দাঁত খিলাল করছিলেন,,এমন সময় কাকরি বুড়ি ঘরে এসে বলেন..

- মোখলেস ,, তোর লগে আমার কথা আছে,, আমার ঘরে আয় ।

- কি কথা,, আম্মা ? এইহানেই কও ।

- এইহানে কওন যাইবো না দেইখা তোরে ঘরে ডাকতাছি ,,আয় ঘরে আয় । 

চোখের ইশারায় কিছু একটা বুঝিয়ে কথাটা বলে কাকরি বুড়ি । 
মোখলেস কিছুটা বিরক্ত হলেও মায়ের কথা উপেক্ষা করতে পারে না । তিনি উঠে কাকরি বুড়ির পিছু পিছু ঘরে যান । ঘরে যেতেই কাকরি বুড়ি দরজা চাপিয়ে দেয় । 
বারান্দা থেকে অলকানন্দা সব কিছুই লক্ষ্য করেন , কিন্তু কিছু বলেন না । এটা তো নিত্যদিনের ঘটনা,,এখন নিশ্চয়ই শ্যামার বিয়ে নিয়ে ছেলের কান ভাঙ্গাবে কাকরি বুড়ি । অলকানন্দা মুখে 'চ' সূচক শব্দ করে শ্যামার ঘরের দিকে এগিয়ে যায় । ঘরে গিয়ে দেখে শ্যামা খাটের উপর গুটি শুটি হয়ে বসে জানালা দিয়ে বাইরের আকাশ দেখছে। অলকানন্দা এগিয়ে গিয়ে খাটে বসে বলেন...

- কি রে মা ঘুম আইতাছে না..? 

- আম্মা তুমি..? ঐ আমার ঘুম আইতাছে না দেইখা বইসা আছি । তুমি ঘুমাইবা না..? 

- আইজ আমি তোর লগে ঘুমামু । 

মায়ের কথায় শ্যামার চোখ খুশিতে চিক চিক করে ওঠে । ও লাফিয়ে মায়ের কাছে এসে বলে..

- সত্যি আম্মা..?

- হ .. এহন আয় দেখি তোর মাথায় হাত বুলাইয়া দিয়া তোরে ঘুম পারাই দেই । 

মায়ের কথায় শ্যামা তৎক্ষণাৎ মায়ের কোলে শুয়ে পড়ে । চোখ বন্ধ করে মায়ের গায়ের ঘ্রাণ অনুভব করে । অলকানন্দা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকেন । 

এদিকে,,কাকরি বুড়ি চোখে মুখে চাপা উত্তেজনা নিয়ে নিচু স্বরে মোখলেসকে বলে..

- তুই এহন এই বাড়ির কর্তা,, আর শ্যামা যাই হোক না ক্যান-তোর মাইয়া , তাই কথা গুলো তোরে কইতেই হইবো..

তার পর কন্ঠ স্বর আরো নিচু করে যেন বাতাস ও শুনতে না পায়...

- দেখ.. তোর বড় মাইয়াডার বিয়া হইয়া গেছে,, আর ছোটডারো বিয়ার বয়স হইছে । কিন্তু ঐ কালা মাইয়াডারে নিয়া আমি আর পারতাছি না,, এবার ওর একটা ব্যবস্থা করোন লাগবো । ওর বিয়া দেওয়ার পর আমি আমার ময়না'রে অনেক বড়লোক ঘরে বিয়া দিমু । অলকা' রে বোঝাইয়া লাভ নাই,, তাই তোরেই কইতাছি,,। 

কাকরি বুড়ি মোখলেছকে আরো অনেক ভংচং বোঝায়‌,, কিন্তু প্রতি উত্তরে মোখলেছ কিছুই বলে না । বরং চুপচাপ ঘরে এসে শুয়ে পড়েন । 

★★★★

পরদিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়েছে । শ্যামা যোহরের নামাজ শেষে বাড়ির পিছনে নদীর ঘাটে গিয়ে বসে ।
বসতেই হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ঘন কালো চুল গুলো ঘাটের সিঁড়িতে ছড়িয়ে পড়ে । নদীর পাড়ের হালকা মৃদু হাওয়ায় চুল গুলো এলোমেলো ভাবে উড়ছে । শ্যামা শান্ত দৃষ্টিতে নিষ্পলক চেয়ে থাকে নদীর পানির দিকে ,, শ্যামার নিজের নিরব ও একাকিত্বে সময় কাটানোর স্থান হলো এই নদীর ঘাট । নদীর শান্ত স্রোতে যেন শ্যামার মন ও ভেসে যায় । দুই হাঁটুতে থুতনি রেখে শ্যামা উপভোগ করে এই নিরব অনুভূতি । এমন সময় পিছন থেকে কেউ মৃদু ধাক্কা দেয় শ্যামাকে,, শ্যামা ভয়ে হকচকিয়ে তড়িৎ গতিতে পিছন ফিরে তাকায় । মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে উচ্চারিত হয়...

- ফুলি....

চলবে.....
  
 

 

Post a Comment

0 Comments

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন। ×