পর্ব:১০
আমি- ঠিক আছে চলো তবেঁ যাই, গিয়ে কোন লাভ নেই এখন কোন কাজ নেই দেখতে কেউ এখন জমির দিকে যায়না। আমি সকালেও দেখে এসেছি। তুমি যেতে চাইছ তবে চলো।
মা- হ্যা বেলা পরে গেলে যাবো তুই গরু গুলোকে একটু খাঁবার দে তারপর ঘরে তুলে রেখেই যাবো। আমি- আচ্ছা বলে গরু গুলোকে কাঁচা ঘাস দিলাম এবং জল খাওয়ালাম। মা- এসে বলল হয়েছে। আমি- হ্যা বেলা আছে তো ঘরে এখুনি তুলবো। মা- হ্যা তুলে দে এসে মশারি দিয়ে দেবো। আমি- এরপর গরু তুললাম ঘরে। সব বেঁধে রেখে হাত মুখ ধুয়ে কি এখন যাবে। মা- হ্যা চল বেলা তো পরে এসেছে এখন যাই। গামছা নিবিনা। এই নে গামছা নে না হলে চাষি মনে হয় নাকি। আমি- আচ্ছা বলে গামছা কাঁধে নিয়ে মায়ের সাথে জমির দিকে গেলাম। কাছে গিয়ে বললাম দ্যাখ পাট কতসুন্দর দাড়িয়ে আছে এখনও সবুজ। দুই একটা বৃষ্টি হলেও কিছু হবেনা। মা- বাব্বা গাছ তো অনেক বড় হয়ে গেছে এখন দারালেও এদিক থেকে ওদিক দেখা যায়না। বেলা ডুবে যাওয়ার আগে চলো চারপাশ ঘুরে দেখে আসি। আমি- আচ্ছা বলে চারপাশের আলের উপর দিয়ে হেটে হেটে দেখতে লাগলাম। এদিক থেকে দেখতে দেখতে ঐ দুই জমির আলের উপর দিয়ে হেটে দুই জমির মাজখানে গেলাম। আর বললাম দেখলে তো কোন সমস্যা আছে। এখন বৃষ্টি হলে বরং ভালো হবে। যদি দুবে যায় তবে সমস্যা হবে না হলে কোন সমস্যা নেই। মা- বলল এই ঘাস গুলো কি ফেলে দিয়েছিস কোথায় যেন রেখেছিলি। আমি- কেন ওইদিকে মাজখানের আলে রেখেছিলাম এত দিনে শুকিয়ে খর হয়ে গেছে। দেখবে কেমন শুকিয়ে গেছে। চলো তাহলে। মা- হ্যা চল বলে আমার পেছন পেছন এল। আমি- গিয়ে মাকে দেখিয়ে বললাম এই দ্যাখ কেমন শুকিয়ে চুপসে গেছে। মা- বলল আরো শুকাতো যদি পাট গাছ গুলো বড় না হত এখন আলের উপর দারালেও দেখা যায়না কিছুই তাইনা। আমি-হ্যা গাছ অনেক বড় হয়ে গেছে আর বাড়বে না এবার পাকবে নিচের পাতা কেমন হলুদ হচ্ছে। ,দেখলে তো এবার চলো বাড়ি যাই। মা- আমার হাত ধরে বলল দ্যাখ বাবা আমরা একবার ভুল করেছি আর এই ভুল আমরা করতে চাইনা সেজন্য তোকে এখানে নিয়ে এলাম। আমি- দ্যাখ মা তুমি বলতে পারবে তোমাকে আমি একবারের জন্য জোর করেছি, এই বিষয়ে কোন কথা বলেছি, একবারের জন্য তোমাকে কিছু বলিনি বাঃ জিজ্ঞেস করিনি। তোমার অমতে আমি কিছু কোনদিন করতে চাইনি। এখন তো আশা ছেরে দিয়েছি। আমি মনে করি ওটা একটা স্বপ্ন ছিল। মা- আমার হাত ধরে বলল না আমার ছেলে বড় হয়েছে, আমার আর চিন্তা নেই, খুব ভয় ছিল এটা নিয়ে আমার। তুমি নিজেকে সামলে নিয়েছ এর থেকে বড় কিছু হয়না। সত্যি অনেক ভয় করছিল আমার তুমি যদি কাউকে বলে দাও বাঃ তোমার বাবাকে বলে দাও এইসব সব সময় আমার মাথার মধ্যে ঘুরত। আমি- এবার বিশ্বাস হয়েছে তো, এবার চলো আমার এখানে দম বন্ধ হয়ে আসছে এখানে একদম ভালো লাগছেনা আমার। সত্যি আমি সব ভুলতে চেয়েছিলাম। মা- আমাকে ধরে বলল সত্যি ভুলে থাকতে পারবে তো, আমার দিকে তাকিয়ে বল আমাকে। আমি- বললাম তুমি কি পেড়েছ ভুলতে তুমি আগে বল। এই বলে মায়ের মুখটা তুলে একদম চোখে চোখ রাখলাম। মা- মাথা নিচু করে, না পারিনি বলেই ফিরে এলাম এখানে। এই সেই জায়গা যেখানে বসে আমরা মহা পাপ করেছি। আমি- বললাম এটা তোমার মনের ধারনা, আসলে এটা কোন পাপ না আমি মনে করি, লোকে জানলে পাপ না হলে কিসের পাপ। আমার পাপ বোধ নেই। যদি পাপ বোধ হত বাঃ নিষিদ্ধ হত তবেঁ কেন আমাদের মধ্যে এমন উত্তেজনা হবে। মা- কি বল তুমি এটা কোন পাপ না। আমি- বললাম লোকে জানলে ছি ছি করতে পারে না হলে কিসের পাপ। কিন্তু অনেকেই আবার আমার মতন তাদের মাকে চায়, বলতে পারেনা তাই। আমার মনে হয় সব ছেলেই সবার আগে মাকে এই চোখে দেখে আমি তার ব্যাতিক্রম না। তোমাকে বলেছি না একটা ইন্ডিয়ান গল্পর বই পড়েছি তাতে সব মা ছেলে, বাবা মেয়ে, ভাইবোন সবার গল্প লেখা। সব গল্পে লেখা এটা তার জীবনের সত্যি ঘটনা। মা- তোমার কাছে আছে সেই বই, কোথায় পেলে। আমি- বললাম উপজেলার বইয়ের দোকান থেকে কিনেছিলাম পুজার সময়। তুমি যদি পড়তে চাও তবে তোমাকে আমি বাড়ি গিয়ে দেবো। ও না না দাড়াও আমি প্যাস্টিকে করে জমিতে এনেছিলাম এই ঘাসের নিচে রাখা আছে। মা- উৎসুক হয়ে বলল কই। আমি- ঘাস সরিয়ে বের করলাম বইটা এবং প্লাস্টিকের ভেতর থেকে বের করলাম। এরপর পাতা উলতে দ্যাখ বলে গল্পর শিরোনাম গুলো বলতে লাগলাম। “ জীবোন যৌবন মা এবং ছেলে” এরপর, “মায়ের থেকে বেশী সুখ কেউ দিতে পারেনা” “মা আমার রতি সঙ্গিনী” এরপর “ বাবার সাথে বউ বদল” বাকি গুলো ভাইবোন আর বাবা মেয়ে এইকয়টা মা আর ছেলে। তুমি বল এরা কি করেনি না হলে লিখবে কেন। মা- এরা করেও আবার বই লিখেছে, তা আবার ছাপাও হয়েছে। আমি- বললাম এই নাও বই বাড়ি ঘিয়ে পরে দেখবে কেমন লাগে। মা- না না আমাকে আর পড়তে হবেনা, নাম শুনেই আমার হয়ে গেছে। না সূর্য ডুবে গেছে হালকা আলো আছে বাড়ি যেতে হবে। আমি- তবে চলো যাই দেরী করে কি করব। এই বলে বইটা নিয়ে আবার প্লাস্টিকে ভরে রাখতে গেলাম। মা- দরকার নেই আমাকে দাও। আমি নিয়ে যাবো। এখন তোমার পকেটে রাখ বাড়ি গিয়ে আমাকে দেবে। আমি- আচ্ছা বলে পকেটে ভরে নিলাম।আর বললাম বাড়ি যাবে তো নাকি আরো কিছু কাজ করবে। মা- কি কাজ করব, এখন কি কোন কাজ আছে। বাড়ি যাওয়া ছাড়া। আমি- বললাম মা তুমি যেমন আমাকে বোঝ ঠিক তেমন আমিও তোমাকে বুঝি, গামছা নিয়ে তো তুমি আমাকে আসার সময় বললে তাই নিয়ে এসেছি, যদি মনে ইচ্ছে করে তবে বলতে পারো। মা- ঝাঁঝিয়ে উঠে বলল কি বলব তোমাকে। আমি- ঠিক আছে চলো বাড়ি যাই আর কিছু বলব না। মা- না তুমি বল কি বলতে চাইছ বলে ফেল। আমি- বললাম আমাকে আরেকটা, সুযোগ দেবে, তোমাকে সেদিন সুখী মনে হচ্ছিল, যা তখন বলেছিলে। আরেকবার আমার আবদার রাখো। আরেকবার সুযোগ দাও দয়া করে মা। এরপর পাট উঠলে আমি তোমাদের ছেরে দূরে কোথাও চলে যাবো এভাবে বাচা যায়না মা। আমি এইভাবে আর বাঁচতে পারবোনা। যদি কোঠাও দূরে চলে যাই দেখা হবেনা, কথা হবেনা একদিন তুমি আমাকে ভুলে যাবে আর সমস্যা হবেনা। তুমি ভেবনা পাট তুলে দিয়েই চলে যাবো আর তোমাকে মুখে দেখাবোনা। শরে কোথাও গিয়ে লোকের গোলামী করব। তবেঁ তোমাকে আর এই মুখ দেখাবোনা কথা দিলাম।
চলবে......... |
0 comments:
Post a Comment