Bangla Choty Golpo

গল্প:রাগী মায়ের রাগ মোচন (০১)


 

প্রথমেই পরিচয় দেয়া যাক


আমাদের বাড়িটা শুধু ইট-পাথরের দেয়াল নয়, বরং পরদাদার আমল থেকে চলে আসা এক বিশাল ঐতিহ্যের সাক্ষী। শহর থেকে অনেকটা দূরে আমাদের এই বড় বাড়িটিতে কক্ষের অভাব নেই, আর প্রতিটি কক্ষের নিজস্ব এক একটি গল্প আছে। তবে এই অট্টালিকার প্রাণ হলো এর মানুষগুলো:

জয়া রায় (মা): ৩৮ বছর বয়সী মা এই বাড়ির দোর্দণ্ড প্রতাপশালী অভিভাবক। তাঁর রূপ যেমন অনন্য, গুণও তেমন অতুলনীয়। কিন্তু তাঁর রাগের কাছে আমরা সবাই তটস্থ থাকি। তাঁর একটি হুঙ্কারেই পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে যায়।

সোহম রায় (বাবা): ৫৬ বছর বয়সী বাবা একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত। কাজের চাপে হোক বা স্বভাবগত কারণে, তিনি অত্যন্ত গুরুগম্ভীর মানুষ। অপ্রয়োজনীয় কথা তিনি একদমই বলেন না।

পূবালি রায় (দিদা): বাড়ির সবচেয়ে বড় সদস্য। পরদাদার আমলের সেই পুরনো ঐতিহ্যের শেষ প্রতিনিধি তিনি। বাড়ির গম্ভীর পরিবেশের মাঝে তিনিই একমাত্র শান্ত ও শীতল ছায়া।

অজয় রায় (আমি): আমার বয়স ১৯। ইন্টার পরীক্ষা শেষ করে এখন জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি—ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা। মায়ের শাসন আর বাবার প্রত্যাশার মাঝে নিজের স্বপ্নগুলোকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

সীতা রায় (ছোট বোন): বাড়ির সবচেয়ে ছোট আর আদরের সদস্য। ও এখন ক্লাস তে পড়ে। ওর চঞ্চলতা মায়ের রাগের সামনে এসে একদম থমকে যায়।


-----------------



শহর থেকে বহু দূরে, নদী-মেঠো পথ পেরিয়ে আমাদের এই গ্রাম। এখানে আমাদের রায় বাড়িটা এক বিশাল মহীরুহের মতো দাঁড়িয়ে আছে। পরদাদা যখন এই অট্টালিকাটি বানিয়েছিলেন, তখন এটিই ছিল এলাকার সবচেয়ে বড় বাড়ি। অনেকগুলো কক্ষ, বিশাল সব থাম আর মাথার ওপর অনেক উঁচু সিলিং—সব মিলিয়ে বাড়িটা যেন এক গোলকধাঁধা। ছোট বোন সীতা মাঝে মাঝে লুকোচুরি খেলতে গিয়ে কোন রুমে ঢুকে যায়, তা খুঁজে পাওয়াই দায় হয়ে পড়ে।
বিকেল বেলাটা এখানে খুব মায়াবী। উঠোনের এক কোণে সীতা ক্লাস -এর বই নিয়ে বসে আছে। ওর মনটা হয়তো বাইরে আমবাগানে পড়ে আছে, কিন্তু ও জানে—মা জয়া রায় আশেপাশে থাকলে নড়াচড়া করা নিষেধ। ৩৮ বছর বয়সী মায়ের রূপ যেমন অনন্য, তাঁর গুণও ঠিক তেমনই। তবে মা যখন রেগে যান, তখন এই বিশাল বাড়ির নিস্তব্ধতা যেন আরও গাঢ় হয়ে যায়। মাকে আমিসহ আমরা সবাই মোটামুটি ভয় পাই।
আমি ১৯ বছর বয়সী অজয়। ইন্টার পরীক্ষা শেষ করে এখন জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি—ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা। আমি যখন বারান্দার এক কোণে বসে ফিজিক্সের জটিল সব সার্কিট নিয়ে ভাবছি, তখন বাবা ৫৬ বছর বয়সী সোহম রায় অফিস থেকে ফিরলেন। বাবা এক প্রাইভেট কোম্পানিতে বেশ ভালো বেতনের চাকরি করেন। সারা সপ্তাহ কাজের চাপে ওনার মুখটা সবসময় পাহাড়ের মতো গম্ভীর থাকে।
বাবা ঘরে ঢুকেই ব্যাগটা নামিয়ে রেখে আমার দিকে একবার তাকালেন। বাবার সেই তীক্ষ্ণ চাহনিতেই যেন হাজারটা প্রশ্ন লুকানো থাকে। মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাবাকে জল দিলেন। মা আমার দিকে ফিরে বললেন,
“অজয়, আমি চাই আজ রাতের মধ্যে তুই ম্যাথের ওই চ্যাপ্টারটা শেষ করবি। মনে রাখিস, এই বাড়িতে ফাঁকিবাজির কোনো জায়গা নেই।”
আমি আমতা আমতা করে বললাম, “মা, তুমি সবসময় এতো রাগ করো কেন? আমি তো পড়ছিই।”
মা চোখটা একটু বড় করে বললেন, “পড়লে হবে না, রেজাল্ট চাই। তুই বড় কোনো ভার্সিটিতে চান্স পেলে তবেই আমার শান্তি।”
ঠিক তখনই দিদা, মানে পূবালি রায়, লাঠি ঠকঠক করে নিজের ঘর থেকে বারান্দায় এলেন। দিদা এই বাড়ির সবচেয়ে পুরনো সাক্ষী। পরদাদার আমলের সেই আভিজাত্য এখনো দিদার শান্ত মুখে স্পষ্ট। তিনি হেসে বললেন,
“আরে জয়া, ছেলেটাকে এতো বকিস না। ও তো সারাদিন বই নিয়েই পড়ে থাকে।”
মা দিদাকে সম্মান করেন ঠিকই, কিন্তু নিজের শাসনের রাশটা কোনোভাবেই আলগা করেন না। মা গম্ভীর স্বরে বললেন, “মা, আপনি ওকে আদর দিয়ে মাথায় তুলবেন না। এই বড় বাড়িতে নিয়ম না থাকলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে।”
বিশাল এই গ্রামে আমাদের রায় বাড়িটা যেন এক আলাদা জগত। গ্রামের শান্ত পরিবেশের মাঝেও আমাদের বাড়ির ভেতরটা সবসময় এক ধরণের কড়া নিয়মে চলে। রাত নামলে যখন উঠোনে শেয়ালের ডাক শোনা যায়, তখন এই পুরনো কক্ষগুলোর নোনা ধরা দেওয়ালগুলো যেন রায় পরিবারের হাজারো গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। মা রাগী হতে পারেন, বাবা হয়তো অত্যন্ত গুরুগম্ভীর—কিন্তু এই বড় বাড়িটার ভিত্তি তো তাঁদের শাসনের শক্ত বাঁধনেই টিকে আছে।


মা যখন ঘরের বারান্দা দিয়ে হেঁটে যান, তখন তাঁর দীর্ঘ ও সুডৌল গড়ন এই বিশাল বাড়ির থামগুলোর মতোই এক অটল আভিজাত্যের পরিচয় দেয়। মায়ের গায়ের রং তপ্ত কাঞ্চনের মতো উজ্জ্বল শ্যামলা, যা দুপুরের রোদে এক অদ্ভুত আভা ছড়ায়। তাঁর মুখাবয়ব যেন পাথর খোদাই করা কোনো প্রাচীন দেবীর মতো—তীক্ষ্ণ নাসা আর উন্নত ললাট তাঁর শাসনের দাপটকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মায়ের টানা টানা আয়ত চোখ দুটো যখন স্থির হয়, তখন যেন পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে যায়; সেই চোখের মণি দুটো কুচকুচে কালো, যার গভীরতা মাপা সাধারণের সাধ্য নয়।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো মায়ের সেই একঢাল ঘন কৃষ্ণবর্ণ কেশরাশি। স্নানের পর মা যখন চুলগুলো পিঠের ওপর মেলে দেন, তখন মনে হয় যেন শ্রাবণের মেঘের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পিঠ বেয়ে। মা যখন নিপুণ হাতে সিঁথিতে গাঢ় লাল সিঁদুর পরেন এবং কপালে একটি বড় সিঁদুরের টিপ দেন, তখন তাঁর সেই রাজকীয় সৌন্দর্যের সামনে আমরা সবাই যেন ম্রিয়মাণ হয়ে যাই। তাঁর পাতলা ওষ্ঠাধরে সবসময় এক দৃঢ় সংকল্পের ছাপ থাকে, যা তাঁর রাগি স্বভাবের পরিচয় দেয়। মায়ের হাতের আঙুলগুলো দীর্ঘ এবং নমনীয় হলেও, ঘর সামলানোর কাজে সেগুলো এক অদ্ভুত ক্ষিপ্রতায় চলে। আর পায়ের পাতায় সবসময় আলতার একটা সূক্ষ্ম রেখা লেগে থাকে, যা এই বড় বাড়ির ঐতিহ্যের সাথে তাঁর রূপকে একাত্ম করে দেয়।
মায়ের এই রূপের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে তাঁর সেই অসামান্য গুণ আর ব্যক্তিত্ব, যা দিয়ে তিনি বাবা থেকে শুরু করে আমাদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছেন।

এইতো, আজ আমাদের বাড়ির বিশাল সেগুন কাঠের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আমি স্তব্ধ হয়ে রইলাম। পড়ার টেবিল থেকে উঠে জল খাওয়ার নাম করে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু বারান্দার শেষ মাথায় মায়ের ঘরের আধখোলা দরজার ওপার থেকে আসা এক অলৌকিক দৃশ্য আমাকে আটকে দিল।
বিকেলের মরা রোদটা পশ্চিমের বড় জানলা দিয়ে চুইয়ে এসে ঠিক মায়ের গায়ের ওপর পড়েছে। মা তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের একঢাল ভেজা চুল শুকোচ্ছেন। ভয়ের চোটে আমরা যে রাগী মানুষটাকে সবসময় সটান হয়ে চলতে দেখি, নির্জনে তাঁর এই রূপটা যে এত মোহময় আর শান্ত হতে পারে, তা আমার কল্পনার বাইরে ছিল।
মায়ের গায়ের সেই উজ্জ্বল শ্যামলা রঙটা রোদে পুড়ে যেন তপ্ত সোনার মতো জ্বলছে। পিঠের ওপর ছড়িয়ে থাকা ভিজে চুলের গোছাগুলো থেকে টুপটুপ করে জল চুঁইয়ে পড়ছে তাঁর সুডৌল কাঁধের ওপর। মা যখন দু-হাত তুলে চুলগুলো ঝাড়ছিলেন, তখন তাঁর দীর্ঘ বাহু দুটোর ভঙ্গি যেন কোনো ধ্রুপদী নাচের মুদ্রার মতো দেখাচ্ছিল। আড়ালে দাঁড়িয়ে আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম মায়ের সেই টানা আয়ত চোখ দুটো—যাতে সবসময় শাসনের আগুন জ্বলে, এখন সেখানে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা আর প্রশান্তি খেলা করছে।
মায়ের সেই তীক্ষ্ণ নাসা আর উন্নত ললাটে ঘামের বিন্দুগুলো মুক্তোর মতো চিকচিক করছিল। তিনি আলতো করে কপালে একটা বড় লাল সিঁদুরের টিপ পরলেন। টিপটা পরার সময় মায়ের পাতলা ওষ্ঠাধর একটু কুঁচকে গেল, যেন কোনো গভীর চিন্তায় মগ্ন তিনি। মা যখন তাঁর সেই দীর্ঘ, নমনীয় আঙুল দিয়ে সিঁথিতে গাঢ় করে সিঁদুর দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর সেই রাজকীয় অবয়বের সামনে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল।
হঠাৎ মা আয়নার প্রতিফলনে আমার ছায়াটা দেখতে পেলেন কি না জানি না, কিন্তু তিনি একটু স্থির হয়ে গেলেন। তাঁর সেই তেজস্বী ঘাড়টা সামান্য ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকানোর আগেই আমি দ্রুত পায়ে পড়ার ঘরে ফিরে এলাম। হৃদপিণ্ডটা তখন ধকধক করছে।
বইয়ের পাতায় চোখ রাখলেও মনের ভেতর তখন শুধু মায়ের সেই শান্ত অথচ প্রখর রূপটাই ভাসছে। আমি বুঝলাম, মা কেবল আমাদের শাসনই করেন না, তিনি এই পুরনো দালানের প্রতিটি কোণকে নিজের এই ধ্রুপদী আভিজাত্য দিয়ে আগলে রেখেছেন। বাইরের সেই কঠিন খোলসের নিচে যে এমন এক স্নিগ্ধ লাবণ্য লুকিয়ে থাকতে পারে, তা আজ না দেখলে বিশ্বাসই হতো না।


মিনিট দশেকও কাটেনি, কাঠের সিঁড়িতে সেই পরিচিত খড়ম পায়ের শব্দ। আমি চট করে বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজলাম, যেন খুব মনোযোগ দিয়ে ইন্টিগ্রেশনের কোনো জটিল সমাধান করছি। কিন্তু মনের ভেতর তখনও মায়ের সেই ভিজে চুলে রোদের আলপনা আঁকা রূপটা দাউদাউ করে জ্বলছে।
ঘরের দরজায় ছায়া পড়ল। মা ঢুকলেন। হাতে একটা কাঁসার থালায় যত্ন করে সাজানো লুচি আর আলুর দম, পাশে এক গ্লাস জল। কিন্তু ঘরে ঢোকার সাথে সাথে মায়ের সেই আগের স্নিগ্ধতা যেন কর্পূরের মতো উবে গেল। এখন তাঁর কপালে সেই পরিচিত ভাঁজ, চোখে সেই তীক্ষ্ণ শাসনের চাউনি।
মা থালাটা টেবিলের একপাশে শব্দ করে রাখলেন। আমি মাথা নিচু করেই বললাম, "রাখো মা, এই অঙ্কটা শেষ করে নিচ্ছি।"
মা একটু ঝুঁকে আমার খাতার দিকে তাকালেন। তাঁর শরীর থেকে আসা ভেজা চুলের হালকা সুবাস আর দামী চন্দনের সাবানের ঘ্রাণ আমার নাকে এল। ওই গন্ধে একটা আশ্চর্য সম্মোহন আছে। মা তাঁর সেই দীর্ঘ, সুন্দর আঙুল দিয়ে আমার খাতার এক কোণ চেপে ধরে বললেন, "অঙ্ক তো করছিস, কিন্তু তোর মনটা কোথায়? দরজা দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারার সময় তো পেন হাতে ছিল না।"
মায়ের গলায় সেই চিরচেনা গম্ভীর স্বর। আমি চমকে উঠলাম। মা কি তবে দেখে ফেলেছেন? আমি আমতা আমতা করে বললাম, "না মানে... জল খেতে গিয়েছিলাম তো, তাই..."
মা আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন। তাঁর সেই আয়ত চোখের মণি দুটো এখন যেন আরও কালো দেখাচ্ছে। ওই চোখে তাকিয়ে মিথ্যে বলা অসম্ভব। মা তাঁর পাতলা ওষ্ঠাধর একটু কুঁচকে বললেন, "পড়ার সময় ওসব আড়চোখে দেখার স্বভাবটা ছাড়। ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষাটা কি মামার বাড়ির আবদার? নিজের মায়ের রূপ দেখে সময় নষ্ট না করে বইয়ের পাতায় নজর দে।"
আমি একদম চুপ হয়ে গেলাম। মা তাঁর সুডৌল বাহু দিয়ে শাড়ির আঁচলটা কাঁধে ঠিক করে নিলেন। তাঁর ওই রাজকীয় ভঙ্গিতে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আমি দেখলাম, আলতা রাঙানো পায়ের প্রতিটি পদক্ষেপে যেন এই বাড়ির ইতিহাস কথা বলছে।
মা চলে যাওয়ার পর আমি লুচিটার দিকে তাকালাম। মা রাগী হতে পারেন, কিন্তু এই খাবারের স্বাদ আর পরিবেশনের শ্রী বলে দেয়—কঠোর শাসনের আড়ালে তিনি কতটা যত্নশীল। আমার মনে হলো, মায়ের এই রূপ আর গুণের সংমিশ্রণই তো এই বড় বাড়িটার আসল প্রাণ। তিনি না থাকলে পরদাদার বানানো এই দালানটা হয়তো কবেই প্রাণহীন ইটের স্তূপ হয়ে যেত।
মায়ের ওই তেজস্বী রূপটা যেমন আমাকে ভয় দেখায়, ঠিক তেমনই এক অদ্ভুত ভরসাও দেয়। আমি আবার পেন তুলে নিলাম, এবার দ্বিগুণ উৎসাহে।


কিন্তু কলমটা মুখে নিয়েই সেদিনের কথা মনে পড়ে গেল।

সেদিন বিকেলের ঘটনাটা আমার মনে গেঁথে আছে, যেখানে মায়ের সেই প্রলয়ংকরী রূপ আর রাজকীয় সৌন্দর্যের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন দেখেছিলাম।
সবে ভার্সিটি ভর্তির একটা কঠিন চ্যাপ্টার শেষ করে জানলার ধারে বসেছিলাম। হঠাৎ নিচ তলা থেকে মায়ের গম্ভীর গলার আওয়াজ এল। বুঝলাম, বাড়িতে কোনো একটা বড়সড় গোলমাল হয়েছে। নিচে নেমে দেখলাম, বৈঠকখানার মাঝখানে মা দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর সেই দীর্ঘ গড়ন আর উন্নত শির যেন পরদাদার আমলের বিশাল থামগুলোকেও হার মানাচ্ছে।
মায়ের পরনে ছিল একটা চওড়া লাল পাড়ের গরদ শাড়ি। রাগে তাঁর ফর্সা কপালটা ঈষৎ লাল হয়ে উঠেছে, আর সেই প্রশস্ত কপালে থাকা বড় সিন্দুরের টিপটা যেন অগ্নিপিণ্ডের মতো জ্বলছে। মা চিৎকার করছেন না, কিন্তু তাঁর সেই নিচু অথচ তীক্ষ্ণ স্বরে পুরো বাড়িটা থমথমে হয়ে আছে। সীতা ভয়ে দিদার ঘরের কোণে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছে, আর বাবাও গম্ভীর মুখে সোফায় বসে খবরের কাগজের আড়ালে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
মা যখন তাঁর লম্বা ও নিপুণ আঙুল তুলে কাজের লোকের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর হাতের সোনার শাঁখা-পলাগুলো ঠকঠক করে বাজছিল। আমি আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম—মায়ের সেই আয়ত চোখ দুটো এখন রাগে স্থির, যেন কোনো দেবীমূর্তি প্রাণ পেয়ে রণচণ্ডী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর ধারালো নাসা আর কুঁচকানো ওষ্ঠাধর এক অদ্ভুত আভিজাত্য তৈরি করেছে। রাগের মাথায় মায়ের খোঁপাটা সামান্য আলগা হয়ে ঘাড়ের ওপর ঝুলে পড়েছে, আর সেখান থেকে দু-একটি অবাধ্য অলক তাঁর ললাট স্পর্শ করছে।
হঠাৎ মায়ের নজর আমার ওপর পড়ল। আমি কুঁকড়ে গেলাম। মা তাঁর সুডৌল বাহু দিয়ে আঁচলটা কোমরে শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে বললেন, "ওখানে দাঁড়িয়ে নাটক দেখছিস কেন? তোর কি পড়ার টেবিল নেই? নাকি মনে করেছিস মা বকছে বলে আজ ছুটি?"
আমি কোনো কথা না বলে সুড়সুড় করে নিজের ঘরে ফিরে এলাম। কিন্তু মনের ভেতরে মায়ের সেই তেজস্বী রূপটা তলোয়ারের মতো বিঁধে রইল। কিছুক্ষণ পর ঘরে এলাম জল নিতে। দেখলাম মা রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছেন। বিকেলের মরা আলোয় মায়ের সেই আলতা রাঙানো পায়ের পদচিহ্ন যেন মেঝেতে এক নতুন ছন্দ তৈরি করছে।
মায়ের এই রাগটা আসলে আগুনের মতো—যা পুড়িয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু সোনাকে খাঁটিও করে তোলে। আমি বুঝতে পারি, তাঁর এই দাপট আর রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে এই বিশাল সংসারটাকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার এক কঠিন সংকল্প। মা না থাকলে আমাদের এই 'বড় বাড়ি'র গরিমা হয়তো কবেই ধুলোয় মিশে যেত।


সেদিনের ঘটনাটা ছিল আরও ভয়ংকর। আমাদের এই পরদাদার আমলের বিশাল দালানে বৃষ্টির দিনে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে আসে। সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মায়ের গর্জনে। ঘটনার সূত্রপাত খুব সামান্য—আমি পড়ার ফাঁকে সীতার সাথে একটু খুনসুটি করতে গিয়ে ভুল করে মায়ের শখের একটা পুরনো ফুলদানি ভেঙে ফেলেছিলাম।
নিচতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে মায়ের ওঠার শব্দটা যখন কানে এল, আমার বুকটা দুরুদুরু করে কাঁপতে শুরু করল। মা যখন ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালেন, বাইরের মেঘলা আকাশ যেন তাঁর মুখের ওপর এক ছায়া ফেলেছে। মায়ের সেই তপ্ত কাঞ্চনের মতো গায়ের রঙটা রাগে কেমন যেন তামাটে হয়ে উঠেছে। তাঁর টানা আয়ত চোখ দুটো এখন আর স্নিগ্ধ নেই, সেখান থেকে যেন ঠিকরে বেরোচ্ছে আগুনের ফুলকি।
মা কোনো কথা না বলে শুধু ভাঙা ফুলদানিটার দিকে একবার তাকালেন, তারপর আমার দিকে। তাঁর সেই তীক্ষ্ণ নাসা আর উন্নত ললাটে রাগের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মা তাঁর দীর্ঘ বাহু দুটো বুকের ওপর আড়াআড়ি করে রেখে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর গলার স্বরটা একদম নিচু, কিন্তু তাতে যে ধার ছিল, তা কোনো তলোয়ারের চেয়ে কম নয়।
মা বললেন, "অজয়, তুই কি নিজেকে খুব বড় ভেবে ফেলেছিস? ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছিস বলে কি ধরাকে সরা জ্ঞান করছিস?"
মায়ের পাতলা ওষ্ঠাধর থরথর করে কাঁপছে। রাগে তাঁর সিঁথির সিঁদুরটা যেন আরও বেশি গাঢ় দেখাচ্ছে। মা যখন রাগে ফুঁসছেন, তখন তাঁর গলার কাছে একটা শিরা ধকধক করে কাঁপছিল। আমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু আড়চোখে মায়ের সেই প্রলয়ংকরী রূপটা না দেখে পারছিলাম না। রাগের মাথায় তাঁর শরীরের বাঁধুনি যেন আরও শক্ত হয়ে উঠেছে, আর একদলা ঘন কৃষ্ণবর্ণ চুল তাঁর কাঁধের ওপর অবিন্যস্তভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
হঠাৎ মা আমার কলারটা একটু চেপে ধরলেন। তাঁর হাতের আঙুলগুলো নমনীয় হলেও তাতে যে এত শক্তি ছিল, তা আগে বুঝিনি। মা খুব কাছে এসে বললেন, "এই বাড়িটা নিয়ম আর শৃঙ্খলায় চলে। তুই যদি মনে করিস পড়াশোনার দোহাই দিয়ে যা খুশি করবি, তবে ভুল ভাবছিস। এখন থেকে এই ঘর তুই নিজ হাতে পরিষ্কার করবি।"
মায়ের শরীরের সেই চন্দনের সুবাস আর রাগের তপ্ত নিঃশ্বাস আমার মুখে এসে লাগছিল। তাঁর চোখের মণি দুটো তখন এত কাছে যে মনে হচ্ছিল আমি কোনো গভীর অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছি। মা যখন ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন, তখন তাঁর আলতা রাঙানো পায়ের ধুপধাপ শব্দ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল।
আমি বুঝলাম, মা যখন রাগেন, তখন তিনি কেবল মা থাকেন না; তিনি হয়ে ওঠেন এই বাড়ির একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী। তাঁর সেই রাগী রূপের আড়ালে যে আভিজাত্য আর লাবণ্য ছিল, তা যেমন আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তেমনই মনে এক অদ্ভুত শ্রদ্ধার জন্ম দিল। কিছুক্ষণ পর যখন নিচে নামলাম, দেখলাম মা রান্নাঘরে খুব শান্তভাবে কুটনো কুটছেন। যেন একটু আগের সেই ঝড়টা ছিল কেবলই এক অলীক কল্পনা। কিন্তু মায়ের সেই জ্বলন্ত চোখ আর টানটান অবয়বটা আমার মনের ভেতরে সারাদিনের মতো গেঁথে রইল।



চলুন এবার ডাইনিং টেবিলের কাহিনীটা বলি-
আমাদের পুরনো দালানের ডাইনিং রুমটা বেশ বড়। মাঝখানে বিশাল এক সেগুন কাঠের টেবিল, যার চারধারে আমরা সবাই খেতে বসি। সেদিন রাতে আবহাওয়াটা বেশ গুমোট ছিল, আর ঠিক তেমনই থমথমে হয়ে ছিল ডাইনিং টেবিলের পরিবেশ।

আমরা সবাই খেতে বসেছি। রাতের নিস্তব্ধতায় কেবল কাঁসার থালা-বাসনের টুংটাং শব্দ হচ্ছে। মা জয়া রায় যখন খাবার নিয়ে ঘরে ঢুকলেন, তখন ঘরের তাপমাত্রা যেন এক ডিগ্রি বেড়ে গেল। মায়ের পরনে পাতলা একটা তাঁতের শাড়ি, যা তাঁর শরীরের প্রতিটি ভাঁজকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
মা যখন ঝুঁকে বাবার থালায় মাছের ঝোল দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর শরীরের সেই বিশাল স্তনের গঠনটা একদম চোখের সামনে চলে এল। শাড়ির আঁচলটা কাঁধ থেকে সামান্য সরে গিয়েছিল, আর ব্লাউজের ভেতর থেকে তাঁর ডাগর ডাগর ও ভারী দুধের একাংশ উঁকি দিচ্ছিল। মায়ের বিশাল মাই দুটো তাঁর প্রতিটি নিশ্বাসের সাথে ওঠা-নামা করছিল, যা তাঁর রাগী ব্যক্তিত্বের সাথে এক অদ্ভুত লাবণ্য যোগ করেছে। মা যখন সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, তাঁর সেই চওড়া আর ভারী পাছা শাড়ির ভাঁজে প্রকট হয়ে উঠল। তাঁর শরীরের এই সুগঠিত ও ভারি অবয়ব এই বাড়ির রাজকীয় মেজাজকে যেন আরও বাড়িয়ে দেয়।

হঠাৎ মা আমার দিকে তাকালেন। তাঁর সেই আয়ত চোখে আগুনের ফুলকি। মা টেবিলের ওপর হাত রেখে দাঁড়াতেই তাঁর চওড়া পাছার ভাঁজটা আরও টানটান হয়ে উঠল। তিনি গম্ভীর গলায় বললেন, "অজয়, খাবারের দিকে তাকিয়ে কী ভাবছিস? পড়াশোনা কি মাথায় ঢুকছে না, নাকি সব মন এই ভাতের থালাতেই পড়ে আছে?"
মায়ের সেই তীক্ষ্ণ স্বর আর তাঁর শরীরের এই বিশাল ও প্রলয়ংকরী রূপ আমাকে একদম স্তব্ধ করে দিল। তাঁর সেই পুষ্ট ও বড় স্তন দুটো রাগে কাঁপছিল। তিনি যখন ডাইনিং রুমের একপাশ থেকে অন্যপাশে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তাঁর সেই ভারি দেহের প্রতিটি আন্দোলন মেঝেতে এক কম্পন তৈরি করছিল। আলতা রাঙানো পায়ের ধুপধাপ শব্দ আর মায়ের সেই গম্ভীর ব্যক্তিত্ব মিলেমিশে এক অদ্ভুত গাম্ভীর্য তৈরি করেছিল।
মা যখন রান্নাঘরের দিকে ফিরে গেলেন, আমি কেবল তাঁর সেই চওড়া আর বিশাল পাছার ছন্দময় দুলুনিটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মায়ের এই রূপ আর রাগের সংমিশ্রণই আমাদের এই পুরনো দালানের প্রতিটি কোণকে শাসন করে চলেছে।



এরপর.....




এরপর কি হলো তা জানতে হলে বেশি বেশি লাইক এবং রেপুটেশন দিয়ে সঙ্গেই থাকবেন।

সঙ্গে থাকার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Share:

0 comments:

Post a Comment

Xgossip. Bangla Choty Golpo

Tags

Xgossip— Bangla Choty Golpo. Powered by Blogger.

Ad Space

Featured post

গ্রাম্য জীবনের সুখ দুঃখে মা ও ছেলে(১৫)

  পর্ব:১৫ বাবা- কি বলব বাবা তোকে, আসলে তোর মাকে বকা ঝকা করেছি তার কারন আছে তুই আমার ছেলে তোকে কি বলব সব তো খুলে বলা যায়না। আমি- কেন বাবা আমি...

Search This Blog

🔞 ১৮% সতর্কবার্তা

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন।

About Us

About Us
এই খানে পাবেন বিভিন্ন লেখকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরির চটি গল্প।

Translate

Popular Posts

Popular Posts