গল্প: অঘটনঘটন পটিয়সী (পর্ব:১১ আপডেট:০৩-০৪)


পর্ব:১১

আপডেট:(গ)



মাহফুজ যতই তার লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকুক আর লক্ষ্য অর্জনে

যত মরিয়া হোক না কেন এরপর আর কয়েক সাপ্তাহ চলে গেলেও

তেমন কোন ওপেনিং পাচ্ছিল না। সাবরিনা যেন এক দূর্ভেদ্য বর্ম

পরে রয়েছে যার কোন দূর্বল জায়গা নেই যেখানে মাহফুজ তীর

চালাতে পারে। ওদিকে সাবরিনাও নিজের ভিতর কঠোর প্রতিজ্ঞা

নিয়ে বসে আছে যে কোন মূল্যে ও এতদিনের শেখা পারিবারিক

সংস্কার গুলো ধূলায় মিশতে দিবে না। একদিন স্বপ্নে স্খলন আর

বাস্তব জীবনে পা ফসকানোর মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত সেটা

সাবরিনা জানে। তাই স্বপ্নে স্খলনে পাপবোধ, দ্বিধা জন্ম নিলেও

সেটার যেন বাস্তব জীবনে সব কিছুতে আঘাত না হানে তাতে সাবরিনা

সতর্ক।


সব গুলো পর্বের লিংক



সেই সতর্কতার কারণেই মাহফুজের সাথে ওর এই শীতল

ব্যবহার। মাহফুজের ভিতর কিছু একটা আছে যেটা সাবরিনার

ভিতরে সব সংস্কার মূল্যবোধ কে নাড়িয়ে দিচ্ছে এটা সাবরিনা টের

পায়। এইজন্য যতটুক্কু সম্ভব দূরুত্ব রাখা যায় সেটার চেষ্টা করছে।

অফিসের পলিটিক্সে এমনিতে কোনাঠাসা তার উপর এই প্রজেক্টটা

সফল হতে না পারলে এই কর্পোরেট হাউসে ওর অস্তিত্ব হুমকির মুখে

পড়বে। তাই মাহফুজ কে একদম দূরেও ঠেলে দিতে পারছে না।

মাহফুজের দক্ষিণ ঢাকা নিয়ে যেমন আইডিয়া আছে, সাবরিনার

পরিচিত আর কার তেমন নেই। এমন কি সাবরিনাদের কর্পোরেট

হাউজেও তেমন কেউ নেই। সবাই খালি ডাটা নিয়ে এক্সেল শিটে

প্ল্যান বানায় কিন্তু বাস্তবে সেই ডাটার কোন ভ্যালু আছে কিনা এটা

নিয়ে আইডিয়া নাই। গ্রাউন্ড রিয়েলিটি নিয়ে আইডিয়া নাই।

সাবরিনা বুঝতে পারছে ওর প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট স্কিল আর

মাহফুজের গ্রাউন্ড নলেজ এক করা গেলে সুন্দর একটা স্ট্যাটেজিক

প্লান দাড় করানো যাবে। এই মূহুর্তে অফিস পলিটিক্সে কোনাঠাসা

সাবরিনার এমন একটা পারফরমেন্স দরকার। এর আগে পর পর

কয়েকজন ঢাকা দক্ষিণের জন্য ওদের স্ট্যাটেজিক প্ল্যান বানাতে ব্যর্থ

হয়েছে সেখানে সাবরিনা কে পাঠানো হয়েছে এটা ধরে নিয়ে যে

সাবরিনা ব্যর্থ হবে এবং এর পরিণতিতে ওকে আর কোনাঠাসা করা

হবে। সেখানে সফল একটা প্ল্যান ভাল কাউন্টার অফেন্সিভ হবে।

তবে এখানে একটা মূল সমস্যা হল মাহফুজ। একদিকে মাহফুজের

প্রতি একটা ফিলিং ভিতরে ভিতরে গড়ে উঠছে এটা সাবরিনা টের

পাচ্ছে আবার মাহফুজ কে পুরো দূরেও ঠেলে দিতে পারছে না কারণ

তাহলে ওর পুরো প্রজেক্টটার সফলতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। ব্যক্তিগত

মূল্যবোধ বজায় রাখা আর প্রফেশনাল সাফল্যের দ্বন্দ্বে সাবরিনা

ভিতরে ভিতরে জ্বলছে।




মাহফুজ সাবরিনার এই শীতল যুদ্ধের পরের চালটা অবশ্য এই দুই

জনের কার কাছ থেকে আসল না। পরের চাল টা ছিল অপ্রত্যাশিত।

সাবরিনার অফিসে সাবরিনা কে এনেছিল রাইয়ান, তাই অফিসে

জয়েন করা মাত্র সাবরিনা রাইয়নের গ্রুপের লোক বলে পরিচিত হয়ে

গিয়েছিল। এই কারণে রাইয়ান কে দেখতে না পারা গ্রুপটার

অটোমেটিক শত্রু তালিকায় সাবরিনার নাম উঠে গিয়েছিল।

রাইয়ানের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে সাবিত তাই সাবরিনা কে দিয়ে রাইয়ান

কে ঠেস দেবার পরিকল্পনাটাও সাবিতের তৈরি। অবশ্য এসব কিছুই

তখন সাবরিনা জানে না। সাবরিনার দ্বায়িত্ব হল ঢাকা দক্ষিণের

সেলস নিয়ে একটা ডিটেইলড প্ল্যান অফ একশন তৈরি করে দেওয়া

স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং এর ডিভিশন এর পক্ষ থেকে। সাবিত বুদ্ধি করে

উপর মহলে কথা তুলল যে এই প্লান তৈরি করার দ্বায়িত্ব যার তার

সেলেসের সব কিছু নিয়ে খুটিনাটি জ্ঞান থাকা দরকার। তাই

সেলেসের বিভিন্ন মাইক্রো পার্টে সাবরিনা কে কয়দিনের জন্য দ্বায়িত্ব

দেওয়া হোক যাতে তার প্রাকটিক্যাল নলেজ হয়। সাবরিনা কে এই

বিষয়ে ডাকতেই সাবরিনা প্রতিবাদ করল বলল প্ল্যানিং এর জন্য ওর

সব জায়গায় চাকরি করলে ওর ডিভিশনের সবাই কে তো নিজেদের

কাজ বাদ দিয়ে অন্য ডিভিশন গুলাতে চাকরি করতে হবে। সাবরিনা

নানা যুক্তি তর্ক দিয়ে কিছু এড়াতে পারলেও স্টক ম্যানেজমেন্টের

ব্যাপারটা এড়াতে পারল না। খুচরা বিক্রেতার কাছে যাওয়ার আগে

সব সময় কোম্পানি তার মালামাল ঐ এলাকার কোন গোডাউনে রাখে

যাতে অল্প সময়ে সেখানে থেকে দরকার মত বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার

কাছে পৌছান যায়। এই গোডাউনের ব্যবস্থাপনার উপর অনেক কস্ট

বেনিফিটের হিসাব কিতাব নির্ভর করে। সত্যি বলতে সাবরিনার

সেলসের এই ব্যাপারটা নিয়ে ধারণা খুব কম তাই শেষ পর্যন্ত

ব্যাপারটা মেনে নিতে হল। ঠিক হল সাবরিনা দুই সাপ্তাহের জন্য

সোয়ারি ঘাট, শাহাজানপুর আর পশ্চিম ধানমন্ডির গোডাউন গুলোর

ম্যানেজমেন্টের দ্বায়িত্ব নিবে।



গোডাউন ম্যানেজমেন্টের প্রথম সাপ্তাহ মোটামুটি সব ঠিকঠাক

গেলেও গন্ডগোল লাগল দ্বিতীয় সাপ্তাহে সোয়ারি ঘাটের গোডাউন কে

ঘিরে। সোয়ারিঘাট হচ্ছে পুরান ঢাকার একদম শেষ প্রান্তের একটা

এলাকা, পাশেই বুড়িগঙ্গা আর একটু দূরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল।

পুরান ঢাকার মালামালের একটা বিশাল অংশ যায় এই গোডাউন

থেকে, শুধু তাই না বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের কিছু জেলায় নৌপথে

মালামাল পরিবহনের জন্যও এই গোডাউন ব্যবহার করা হয়। তাই

স্ট্রাটেজিক ভাবে খুব গূরুত্বপূর্ণ একটা হাব এটা সাবরিনার প্রতিষ্ঠানের

জন্য। একদিন এই গোডাউন থেকে সাপ্লাই বন্ধ থাকলে এর এফেক্ট

খালি দক্ষিণ ঢাকা না বরং দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গুলোতেও পড়বে।

এই সময় একদিন বিকাল বেলা সাবরিনার কাছে ফোন আসল

গোডাউন থেকে একদল লোক মাল বের করতে দিচ্ছে না। সাধারণত

বিকাল বেলা আর সন্ধ্যার সময় গোডাউন থেকে মাল বের করে কার্গো

শিপে উঠানো হয় বরিশাল বা দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গুলোতে

পাঠানোর জন্য। বিকাল, সন্ধ্যায় মাল তোলার কারণ হচ্ছে এই কার্গো

গুলা সব ছাড়ে রাত দশটার পর আর এইসময় তাই মেইনলি মাল

তোলা হয়। তাই আজকে মাল তোলা না গেলে কার্গো ছাড়বে না আর

কার্গো না ছাড়লে কালকে ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালীতে কোম্পানির

মাল পৌছাবে না। সাবরিনা এইসব চিন্তা করে প্রমাদ গুণল। কারণ

এই সমস্যা তাড়াতাড়ি সমাধান না করলে কালকে সকালেই বরিশাল,

ভোলা আর পটুয়াখালীর অফিস থেকে কলের পর কল আসবে হেড

অফিসে, হেড অফিস চাপ দিবে নিচে। আর তখন খোজা হবে বলির

পাঠা কে। সাপ্লাই চেনের এই সমস্যার জন্য তখন সাবরিনা কে দায়ী

করা হবে যদিও সে এই সেলস এন্ড সাপ্লাই টিমের লোক না। ঢাকার

সাপ্লাই চেনের অংশ যে গ্রুপটা দেখে সাবিত ভাই তাদের বস। সাবিত

ভাই কে ফোন দিতেই সব শুনে সাবিত ভাই ঠান্ডা গলায় বলল এই সব

সমস্যার জন্য কাউকে কল দেওয়া অযোগ্যতা, এই জন্য সে কম

বয়েসী অভিজ্ঞতা কম কাউকে নিতে আগেই বলেছিল। সাবরিনা

বুঝল সাবিত তার রাগ ঝাড়ার সুযোগ পেয়েছে। সাবিত কে সাবরিনা

অনুরোধ করল এই গোডাউনের দ্বায়িত্ব নরমালি যে থাকে তাকে

অন্তত তার সাহায্যে পাঠাতে। সাবিত বলল রুম্মান তো অফিসের

আরেকটা কাজে সিলেট গেছে তাই এই সমস্যার সমাধান

সাবরিনাকেই করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে আজকে রাতেই

যেন কার্গো শিপ ছাড়ে। সব শুনে সাবরিনা সোয়ারিঘাটের দিকে রওনা

দিল। ঢাকার জ্যাম ঠেলে সোয়ারিঘাট পৌছাতেই ওর প্রায় দুই ঘন্টা

হয়ে গেছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা প্রায় নামছে, অন্ধকার হয়ে আসছে।

অফিসের গাড়ি করে গোডাউনের ঢোকার মুখে পৌছে দেখে দুইটা

পিকাপ আড়াআড়ি করে গোডাউনের গেটের সামনে রাখা। আর কিছু

কম বয়সি ছেলে কয়েকটা গ্রুপে আলাদা আলাদা দাঁড়িয়ে আড্ডা

দিচ্ছে।



সাবরিনার গাড়ি ভিতরে যাবার চেষ্টা করতেই কয়েকজন এসে গাড়ির

সামনে দাড়াল। সাবরিনা গাড়ির কাচ নামাতেই একজন বাইরে থেকে

পুরান ঢাকার খাস কুট্টি উচ্চারণে বলল- ম্যাঠাম, কোন গাড়িগুড়ি

 ভিত্তরে যাইবার পারব না, কোন গাড়িগুড়ি বাইরে আইবার পারব

না। আপনার যাওয়ার মন চাইলে হাইট্টা যান। গাড়ির ভিতর

ড্রাইভার ফিসফিস করে বলল, ম্যাডাম গাড়ি বাইরে রাখলে বিপদ

আছে, এরা যে কোন সময় গাড়ি ভেংগে দিতে পারে। সাবরিনা এইবার

বলল- প্লিজ আমার গাড়িটা অন্তত ভিতরে যেতে দিন। এইসময়

প্রথমে যে ছেলেটা কথা বলছিল সেই এইবার ঘাড় ঘুড়ায়ে গ্রুপের

অন্যদের দিকে তাকায়ে বলল- আবে হালা, কেউ ম্যাঠামরে সুদ্ধ

ভাষায় বুঝায়ে ক, নো এন্ট্রি, নো এক্সিট। আগে হালায় আমাগো কথা

হুনব, আমগো ভাগ দিব এরপর হালায় অল ক্লিয়ার। ড্রাইভারের দিকে

তাকাতেই ড্রাইভার বলল ম্যাডাম আপনি আগে ভিতরে গিয়ে কথা

বলেন, আমি এর মধ্যে দূরে কোথাও গাড়িটা পার্ক করে রাখি।

এইখানে পার্ক করলে পরে সমস্যা হতে পারে। সাবরিনা একমত হয়ে

গাড়ি থেকে নেমে হেটে হেটে গোডাউনের গেটের দিকে যাবার সময়

টের পেল অনেকগুলা চোখ যেন ওকে অনুসরণ করছে। ভিতরে

ঢুকার সময় একটা শিশের শব্দ কানে আসল আর একটা শব্দ- মাল।

এরপর অনেকগুলো হাসির শব্দও কানে আসল। এইসব আচরণে

সাবরিনার মেজাজ গরম হয়ে যায়, ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে। তবে

সাবরিনা আজকে নিজেকে সামলে নিল। এদের সাথে কোন ঝামেলায়

যাওয়া যাবে না আগে, যেভাবেই হোক, যত রাত হোক আজকে কার্গো

শিপে মাল তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।




গোডাউনের ভিতরে ছোট একটা অফিস আছে। সেখানে ঢুকতেই

গোডাউনের ইনচার্য সাথে সাথে এসে হাজির। মধ্যবয়স্ক একজন

লোক, নাম আজাদ। বেশ ভাল মানুষ। উনিও এই গোডাউনে নতুন,

দুই মাসের মত হল দ্বায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে ঢাকার বাইরে

পোস্টিং ছিল। নতুন আসার কারণে এখনো এখানকার সব কিছু

আজাদ সাহেবের নখদর্পনে নাই এটা সাবরিনা আগে টের পেয়েছে।

সমস্যা টা কি প্রশ্ন করতেই আজাদ সাহেব যা বললেন তার অর্থ দাঁড়ায়

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে টাকা সহ খাম যায় যেন তারা

এখানে কোন সমস্যা না করে। কার কাছে মাসে একবার কার কাছে

সাপ্তাহে একবার। টাকার এমাউন্টও ভেরি করে কার সাথে কি ডিল

হয়েছে তার উপর। সাধারণত এই ডিল আর খাম পৌছানোর

দেখভাল করে গোডাউনের এরিয়া ইনচার্য মানে সাবরিনা যার

জায়গায় দ্বায়িত্ব আছে, রুম্মান। আজকে যারা বাইরে গেট আটকে

রেখেছে এরা সরকারী দলের স্থানীয় যুবসংঠন আর ছাত্রসংঠনের

ছেলেরা। এদের একটা ক্লাব মত আছে সেখানে সাপ্তাহে একটা খাম

যায় আর বিভিন্ন উতসব পার্বনে ওদের প্রতিষ্ঠান ঐ ক্লাবের অনুষ্ঠান

গুলার খরচ স্পন্সর করে। এখন এই ক্লাবের ছেলেরা দাবি করছে গত

দুই সাপ্তাহ ধরে নাকি ওদের কাছে কোন খাম যায় নি। এটা শুনে

সাবরিনা রুম্মান কে ফোন দেবার চেষ্টা করল কারণ এই জোনের

দ্বায়িত্ব মেইনলি রুম্মানের। সাবরিনা দুই সাপ্তাহের জন্য সাময়িক

দ্বায়িত্ব নিয়েছে আবার নেক্সট উইক থেকে রুম্মান দ্বায়িত্ব নিবে।

 তাই খামের পুরো ব্যাপারটা রুম্মান ভাল বলতে পারবে আর সমাধান

রুম্মান ভাল দিতে পারবে। ফোন দিতেই সাবরিনা দেখে ফোন বন্ধ,

শিট। রুম্মান যে অফিসে সাবিত ভাইয়ের কাছের লোক এটা মনে

পড়ে সাবরিনার। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলায় সাবরিনা। ওকে হঠাত

করে দ্বায়িত্ব দেওয়া, ক্লাবে ঠিক সেই সময় খাম পৌছানো বন্ধ হয়ে

যাওয়া, রুম্মানের ফোন বন্ধ পাওয়া। সাবরিনা বুঝে ওকে ইচ্ছা

করেই একটা সমস্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আজাদ সাহেবের

সাথে কথা বলে বুঝল ক্লাবে প্রতি সাপ্তাহে যাওয়া খামে কত টাকা

থাকত এটা আজাদ সাহেব জানে না। আবার এখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে

এই সময় টাকার ব্যবস্থা করে মেইন অফিস থেকে টাকা আনাও

সময়ের ব্যাপার। আজাদ সাহেব বলে ম্যাডাম ওদের সাথে কথা বলে,

বুঝিয়ে শুনিয়ে দুই একদিন টাইম নেওয়া ছাড়া আর উপায় নাই।

আজকের মত ওদের সরাতে পারলে কালকে পরশু টাকার ব্যবস্থা করা

যাবে। সাবরিনা বলল পুলিশ কে ফোন করে ফোর্স আনালে কেমন

হয়। অনেকদিন বিভিন্ন গোডাউন ইনচার্জের দ্বায়িত্বে থাকার

অভিজ্ঞতা থেকে আজাদ সাহেব বললেন পুলিশ আসলেও সমস্যার

সমাধান হবে বলা যায় না, এরা পলিটিক্যাল। আর হলেও এরা পরে

আর ঝামেলা আর বাড়াবে তখন হেড অফিস খুব একটা খুশি হবে

না। সবকিছু বিবেচনা করে সাবরিনা ঠিক করল কথা বলেই সমস্যার

সমাধান করতে হবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা করতে হবে।



আজাদ সাহেব এবং সাবরিনা হেটে গেটের বাইরে গেল। ছোট ছোট

কয়েকটা গ্রুপে ভাগ হয়ে ছেলেগুলা আড্ডা দিচ্ছে আর পিকাপ ট্রাই

দুইটা এখনো আড়াআড়ি করে গেটের সামনে রাখা। ভালভাবে সন্ধ্যা

হয়ে গেছে, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো ছাড়া আর আলো নাই

রাস্তায়। গলির শেষ মাথায় দুই তিনটা দোকান আছে সেখানে আলো

আরেকটু বেশি। সাবরিনা বাইরে বের হতেই আবার একটা শিসের

শব্দ শুনল সাথে কে যেন বলে উঠল, আয় হায় ম্যার গেয়ি। রাস্তায়

চলার পথে বাজে কমেন্ট শুনে নি এমন মেয়ে নেই বাংলাদেশে,

সাবরিনা এর ব্যতিক্রম নয়। বেশিরভাগ সময় সাবরিনা রুখে দাঁড়ায়,

ইভ টিজাররা এমনিতেই রুখে দাড়ালে বেশিরভাগ সময় কেটে পরে।

আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন। সাবরিনা কে সমস্যার সমাধান করতে হবে

তাই মেজাজ এর উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো যাবে না। সাবরিনা কে বের

হয়ে আসতে দেখে সবাই সামনে এগিয়ে আসে। ছেলেগুলোর চেহারার

দিকে তাকাতেই সাবরিনার একটু ভয় লাগে। সবার রুক্ষ চেহারা,

বেশির ভাগের গায়ে জিন্স আর টিশার্ট। পুরান ঢাকার নিন্মবিত্ত

এলাকার বখাটে ছেলেদের প্রতিমূর্তি এরা। সাবরিনা সব সময়

বড়লোক পাড়ায় বড়লোকদের কলেজে, ভাল ভার্সিটিতে পড়ে

এসেছে। ইভ টিজিং সেখানেও আছে তবে সেখানকার ইভটিজাররা

বেশ ভীতু। কিন্তু এদের কার চেহারায় ভয়ডরের চিহ্ন নেই। যত্নের

অভাবে রুক্ষ চেহারা। অনেকেই ছোটখাট কাজ করে, বেশির ভাগ

বেকার। ক্লাবে সরকারি দলের লোকদের সাথে থাকলে দিনের বেলা

চা সিগারেটের জন্য আলাদা খরচ করা লাগে না, পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম

গুলাতে গেলে খাওয়া ফ্রি, সাথে টাকা। জীবন এদের জন্য অনেক

বেশি কঠিন এবং নির্মম। তাই চেহারায় যেন সেই কঠোর বাস্তবের

ছবি তাদের। নিউমার্কেট বা গাউসিয়ার মত এলাকায় যেখানে

মেয়েদের ইভটিজিং এর জন্য বিখ্যাত সেখানে গেলেও সাবরিনা

গেছে মা, ফুফু বা কয়েকজন বান্ধবীদের সাথে দলবেধে। তাই টিজ

খেলেও নিজেকে আনসেফ মনে হয় নি। এই ছেলে গুলোর চেহারার

রুক্ষতা সাবরিনার ক্লাস সচেতন মনে আর ভয়ংকর হিসেবে ধরা

পরে।



সাবরিনার সেদিনে ড্রেসাপ যেন ক্লাবের ছেলেদের চোখে আগুন

লাগিয়েছে। সাবরিনার মত হাই ক্লাস মেয়েদের ওরা টিভিতে দেখে,

মাঝে মাঝে ধানমন্ডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা আশুলিয়া ঘুরতে গেলে

দেখে। এরকম একটা মেয়ে ওদের মাঝে ওদের পাড়ায় এটাও ওদের

ভিতরের সব আগুন জাগিয়ে তুলে। এমনিতে কথা ছিল গোডাউনের

গেট বন্ধ রাখা হবে, বিকাল থেকে বন্ধ রাখার পর গোডাউনের

লোকজন এসে রিকোয়েস্ট করলেও ক্লাব প্রেসিডেন্ট জিকো ভাই

ওদের রিকোয়েস্ট উড়ায়ে দিয়ে বলেছিল আগে উপরের কাউকে

আসতে বল আর আমাদের পাওনা বুঝায়ে মাফ চাইতে বল। সন্ধ্যা

হয়ে আসার সময় উত্তেজনার অভাবে দুই একজন করে লোক

কমছিল, আরেকটু সন্ধ্যা হলে লোক আর কমে যেত। ক্লাব প্রেসিডেন্ট

জিকো এলাকার ওয়ার্ডের সরকারী দলের পাতি নেতা। ওয়ার্ড

কমিশানার ওকে স্নেহ করে এটাই ওর মূলধন। বিভিন্নখান থেকে

এরকম কমিশন খাওয়া আর এর একটা ভাগ কমিশনার কে দেওয়া 

ওর কাজ। আর সাথে এই ক্লাবের ছেলেপেলেদের বশে রাখা।

দরকারে এই ছেলেগুলা বিভিন্ন একশন, প্রোগ্রামে সাথে যায়। বেশি

লোক সাথে গেলে ইজ্জত বাড়ে। জিকো ভেবেছিল আজকে বুঝি আর

কেউ আসবে মিমাংসার জন্য, ওকে সেরকম ইংগিত দেওয়া

হয়েছিল। ওর সাথে যার কথা হয়েছিল সে বলেছিল খালি আজকে

রাতটা মাল আটকে রাখলে কাল টাকা সব ক্লিয়ার করে দিবে সাথে

সাপ্তাহের টাকার পরিমান বাড়িয়েও দিবে। তাই ছেলেপেলে আস্তে

আস্তে কেটে পড়লেও জিকো কিছু বলে না। মূল কাজ হয়ে গেছে

এখন অল্প কয়েকটা ছেলে মিলেই সারারাত গেট আটকে রাখতে

পারবে। ঠিক এইসময় সাবরিনা অফিসের গাড়িতে হাজির হয়।

সাবরিনার মত সুন্দরী মেয়ে কে গাড়ি থেকে নামতে দেখে যারা কেটে

পড়বে ভাবছিল তারা থেকে যায় আর যারা কেটে পড়েছিল তারা পরী

দেখার আশায় আবার হাজির হয়। সাবরিনা যখন নেগশিয়সনের

জন্য বের হয় তখন জিকোর নেতৃত্বে জনা ত্রিশেক ছেলে আছে

গোডাউনের সামনে। রাস্তার নিয়নের হলুদ আলোতে সাবরিনা কে

তখন হলুদ পরীর মত মনে হয়। একটা সালোয়ার কামিজ পড়ে আছে

সাবরিনা সেদিন। হলুদ কামিজ আর সাদা সালোয়ার। কামিজটার

কোমড় পর্যন্ত ফাড়া সাথে টাইট সাদা লেগিংস আর ঘাড়ের উপর

দিয়ে এক সাইডে নামানো ওড়না। আজকাল কর্পোরেটে এই চলটা

খুব হয়েছে এক সাইডে ওড়না থাকে আরেক সাইড ফাকা। ফাকা

সাইডে ওড়না না থাকায় সাবরিনার পুরুষ্ট বুক হলুদ কামিজ ছাপিয়ে

উচু হয়ে থাকে। আর নিচে কামিজের কোমড় পর্যন্ত ফাড়া থাকায় খুব

ভালভাবে নিতম্ব বোঝা যায়। উচু, পুরুষ্ট, গোল। ক্লাবের এই ছেলে

গুলো হা হয়ে নিয়নের হলুদ আলোয় সাবরিনার সৌন্দর্য গিলতে

থাকে। নিয়নের হলুদ আলোয় সাবরিনার হলুদ কামিজ, সাদা

লেগিংস, ফর্সা মুখ, উচু দুধ আর গোল পাছা এদের অনেকের আগামী

মাস ছয়েকের হস্তমৈথুনের মসলা হয়ে যায়। কল্পনায় কেউ সাবরিনার

দুধ চুষে চুষে ছিবড়ে বানায়, কেউ ওর মুখে নিজেদের গোপানাংগ

জোর করে ঠেসে ধরে, কেউ সাবরিনার নিতম্বের বারটা বাজায়।

ওদের কল্পনায় কেউ অবশ্য এত সুন্দর করে দুধ, গোপনাংগ আর

নিতম্ব বলে ভাবে না। ওদের কল্পনায় তখন খালি সাবরিনার মাই, গুদ

আর পোদ। আর সাবরিনা এইসবের মাঝে ওদের কল্পনার স্বপ্নের

রানী, কল্পনার মাগী।



আপডেট:(ঘ)



সাবরিনা সামনে এগোতেই জিকো ছেলেদের থেকে একটু সামনে

এগিয়ে দাঁড়ায়। এতদিনের পলিটিক্সের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝে যে

নিজের নেতৃত্ব প্রমাণের জন্য যেমন দলের সাথে থাকতে হয় ঠিক

সেভাবে সাথে থেকেই একটু এগিয়ে থাকতে হয়। জিকো সব সময়

এই কাজটা করে অপরিচিত কার সাথে নেগোশিয়নের দরকার হলে

দলবল সহ যায় আর যখন কথা বলার দরকার হয় তখন সবার থেকে

একটু সামনে এগিয়ে দাঁড়ায় যাতে এক দেখাতেই প্রতিপক্ষ বুঝে যায়

সেই লিডার। জিকো সাবরিনার উপর একটু বিরক্ত হয়। এই ম্যাডাম

এসে ওর পরিকল্পনায় একটু ঝামেলা বাধিয়ে দিয়েছে। জিকো

ভেবেছিল সন্ধ্যার দিকে ছেলেপেলেদের হাতে গেট আটকানোর ভার

রেখে একটু কমিশনারের বাসায় যাবে। কমিশনার তার লোকদের

দিয়ে অলরেডি খবর পেয়ে গেছে জিকো গোডাউনের গেট আটকেছে।

জিকোকে মাঝখানে এরজন্য কল দিয়েছিল, খাস ঢাকাইয়া উচ্চারণে

বলেছিল- জিকো দেহ বাপ, তোমারে আমি লাইক করি তাই

কইতাছি। টাকা পাও নাই তাই গেট আটকাইছ হেইঠা ভি বুঝলাম

মাগার আমারে কও নাই কিলা? জিকো উত্তর দেয়- চাচা, আপনে তো

সক্কাল সক্কাল এমপি সাহেবের ঐহান আছিলেন তাই কইবার চান্স পাই

নাই মাগার চিন্তা নিয়েন না। আমারে গেট আটকানোর বুদ্ধি ওগো

একজন দিছে নাইলে আপনারে না কইয়া গেট আটকানোর হ্যাডম কি

আমার আছে নি? রুম্মান ভাইয়ের লগে আমার কথা হইছে, হেই

আপনারে পরে সব বুযায়ে কইব নি। আমি খালি আজকে রাইতের

লাইগা গেট আটকামু। সক্কালে বেবাক ছাইড়া দিমু। কমিশনার উত্তর

দেয়- তুমি কামটা সাবধানে কইরো কইলাম, প্যাজগি লাগলে আমি

কিন্তু তোমারে বাচাইবার পারুম না, হেইটা বুইঝো কিন্তু। জিকো

উত্তর দেয়- মাগরিবের পর আইয়া আপনেরে আমি বেবাক খুইলা কমু

নে। এদিকে সাবরিনা এসে কমিশনারের বাসায় যাবার বারটা বাজিয়ে

দিয়েছে। জিকো টের পায় এইখানে এখন ওর অনেক কথা খরচ

করতে হবে তবে এইটা একটা মেয়েমানুষ তাই জিকো ভয় পায় না।

একটু হুমকি ধামকি দিলে মাইয়ারা এমনিতেই ভিতরে হান্দায়া

যাইবো। সাবরিনা তার কর্পোরেট এটিকেট বজায় রেখে ভদ্র ভাষায়

ওদের গেটটা ছেড়ে দিতে বলে এবং ওদের যদি কোন কিছুর পাওনা

থাকে এটা তাহলে কালকের মধ্যেই মিটিয়ে ফেলার আশ্বাস দেয়।

সাবরিনা অবশ্য ভুলে গেছে পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের এক গলিতে

এইসব এটিকেটের কোন মূল্য নেই। জিকো তাই যখন বলে “ম্যাঠাম

তো দেখি হালায় শুদ্ধ বাংলা মারায়। ঐ হালারা শিইখা ল পরে কামে

দিব”। জিকোর কথাতে একটা হাসির রোল উঠে। রাগে সাবরিনার

চেহারা লাল হয়ে যায়। জিকো টের পায় ওর কাজ আসলে যতটা

ভেবেছিল তার থেকে আর ইজি হবে, এই ম্যাডাম পুরান ঢাকার খেল

এখনো জানে না। জিকো জানে রুম্মান দুই সাপ্তাহের জন্য নাই

আবার পরে ফেরত আসবে তাই এই ম্যাডাম রাগলেও সেইটা ওর

সাথে কোম্পানির ডিলে বাধা না। বরং রুম্মান ওকে যে বলেছে

আজকে রাতের জন্য গেট আটকে রাখতে সেটাতেই যে ওর লাভ এই

ব্যাপারে জিকো আর নিসন্দেহ হয়। সাবরিনা আবার ভার্সিটির

নেগশিয়শন ক্লাসে শেখা বিদ্যা মাথায় রেখে বলে আপনাদের সব দাবি

আমরা মেনে নিব তবে আগে গেট খুলে ট্রাক গুলে যেতে দেন। জিকো

এইবার বলে- ম্যাঠাম আমগো বেবাক দাবি আপনে মানবার পারবে না,

এই পোলাগো কত দাবি হেগুলা হুনলে আপনে লজ্জা পাইবেন। এই

বলে হাসতে হাসতে সাবরিনার শরীর উপর থেকে নীচ পর্যন্ত চোখ

দিয়ে মেপে নেয়। জিকোর কথায় হাসির রোল উঠে আবার। ভিতর

থেকে কেউ একজন বলে আপায় হালা মাল আছে। আরেকজন বলে

আপা আমার জিনিসটা একটু খাইয়া দেখবেন নি। আবার হাসির

শব্দ। জিকো হাত তুলে ওদের থামায়। বলে আপা আগে আমাগোর

আগের টাকা ডাবল কইরা দেন আর রুম্মান ভাইরে কন আইয়া

আমাগো কাছে মাফ চাইতে দেরির লাইগা তাইলে আমরা এক্ষনি

বেবাক কিছু ছাইড়া দিমু। জিকো জেনে বুঝেই টোপটা দেয়। জানে

রুম্মান নাই আর সাবরিনাও হেড অফিসে কথা না বলে কোন টাকার

পরিমান বাড়াতে পারবে না। এদিকে ছেলেগুলোর কথা শুনে আর

ওদের চোখের দৃষ্টিতে সারা শরীর স্ক্যান হতে দেখে সাবরিনার রাগে গা

গরম হয়ে যায়। এদিকে জিকোর কথায় একদম অসহায় বোধ করে।

যতবার সাবরিনা কথা বলার চেষ্টা করে জিকো হাসিঠাট্টায় উড়ায়ে

দিয়ে এক কথা বলে আর সাথে সাথে গ্রুপের ভিতর থেকে কেউ অশ্লীল

কিছু একটা বলে সাবরিনা কে নিয়ে। সাবরিনা রাগ, লজ্জা সব মিলে

কাপতে থাকে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আজাদ সাহেব বিব্রতবোধ

করেন। উনিও চেষ্টা করেন একটু কথা বলার তখন ভিড়ের ভিতর

থেকে কেউ একজন বলে ঐ পেটলা হালা চুপ থাক, এমন উচু পোদ

ছাইড়া কেউ তোর পেটের দিকে চাইব রে। সাবরিনা অসহায় হয়ে

আজাদ সাহেব কে সাথে নিয়ে গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ

পর জিকো টের পায় সাবরিনার হাতে কোন চাল নাই। তাই সে তার

এক পান্ডারে বলে, আবে হালা শুভ হোন আমি কমিশনার চাচার

ঐখান গেলাম, দুই ঘন্টার মধ্যে আইয়া পড়ুম। এরমধ্যে যেন কোন

ক্যাচাল না হয়। গোডাউনের গেট যেন না খুলে মাগার কোম্পানির

কার গায়ে যেন হাত না পড়ে। হাত পড়লে কইলাম কোম্পানির বড়

সাহেবরা আইব আর আমাদের পোদের লাল সুতা বের কইরা ছাড়ব।

কমিশনার চাচা কইলাম তখন বাচাইবার পারব না। এমপি সাহেব

হালা এগো প্রোগ্রামে যায়। তাই বুঝস কইলাম। বেবাকরে কন্ট্রোলে

রাখিস আর কিছু ঝামেলা দেখলে আমারে ফোন দিস।




পলিটিক্যাল ছেলেদের যতই বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে ওস্তাদ হোক না

কেন নিজেদের ভিতর ওদের সবসময় একটা শৃংখলা থাকে। কে কার

কথা মানেবে, কে কার কাছে রিপোর্ট করবে এই ব্যাপারে সব সময়

একটা অলিখিত নিয়ম থাকে এবং সেই নিয়ম সাধারণত সবাই মানে।

শুভ যখন তাই সবাইরে বলে যে আজকে রাতে গেট ছাড়া যাবে না

কিন্তু কোম্পানির লোকদের সাথে ঝামেলা করা যাবে না সেটা সবাই

মেনে নেয়। কারণ সবাই জানে শুভ ভাই হইল জিকো ভাইয়ের ডান

হাত। তাই শুভ ভাইয়ের কথা না মানা মানে জিকো ভাইয়ের সাথে

বেয়াদপি করা। আর আশেপাশের দুই এক ওয়ার্ডে জিকো কে ভয়

পায় না এমন ছেলেপেলে খুব কম আছে। তাই সবাই হ্যা বলে সম্মতি

দেয়। শুভ বলে জিকো টাকা দিয়ে গেছে তাই পাশের গলির

বিরিয়ানির দোকানে আজকে রাতে সবার খাওয়া ফ্রি। খুশিতে সবাই

 হই হই করে উঠে। তবে পলিটিক্যাল ছেলেদের নিজেদের মাঝে

শৃংখলার মাঝেও এমন কিছু ছেলেপেলে থাকে যারা লোভী,

সুযোগসন্ধানী এবং অনেকবেশি ইম্পালসিভ। ছোটখাট কিছুর লোভ

সামলাতে এরা পারে না, পরে এর পরিনাম যাই হোক। এই গ্রুপে টিপু

এমন একটা ছেলে। দিনের বেলা একটা গাড়ির মেকানিকের দোকানে

কাজ করে সন্ধ্যা হলেই ক্লাবে যায়। আরেকটু রাতে গাঞ্জা, ইয়াবা,

হিরোইন সব খায়। হাতে একটু টাকা জমলে ইংলিশ রোডের বেশ্যা

পাড়ায় নিয়ম করে যায়। আর যেদিন যে গ্যারেজে কাজ করে সেখান

থেকে কোন পার্টস হাতসাফাই করতে পারে সেদিন মগবাজারের

হোটেল গুলোয় গিয়ে মাগী লাগায়। টিপুর এইসব বদ গুনের পড়েও

ক্লাবে লোকে ওকে গুনে কারণ ওর একটা ক্ষমতা ওর স্লোগান

দেওয়ার ক্ষমতা। সবাই ওকে স্লোগান মাস্টার বলে। ফ্যাসফ্যাসে

ভারী গলায় যখন মিছলের সামনে সে স্লোগান ধরে- নেতা আছে?

কোন সে নেতা? বাকিরা তখন তাল মিলিয়ে স্লোগান দেয় জিকো ভাই,

জিকো ভাই। টিপুর গলা দুই মহল্লা পর্যন্ত শোনা যায়। তবে টিপুর

আরেকটা গুন আছে মানুষ কে উস্কে দেবার ক্ষমতা। যে কোন

পরিস্থিতিতে একটা জায়গায় সুন্দরমত ঝগড়া বাধিয়ে নিজে চুপ হয়ে

পাশে থেকে মারামারি দেখা টিপুর একটা হবি। কাল লম্বা শরীর।

সিগারেট আর গাজার টানে হলুদ হয়ে আসা দাত। কোন এক

মারামারিতে নাক ফাটিয়ে এখন একটু বাকা নাক। দেখলে প্রথম

একটু চমকে উঠতে হয়। আজকে প্রতিদিনের মত কাজ শেষে ক্লাবে

গিয়ে শুনে সবাই জিকো ভাইয়ের সাথে কোথায় নাকি গেট আটকাইতে

গেছে। এইসব ঝামেলা দেখতে টিপুর ভাল লাগে। তাই সেও

হাজির। হাজির হয়ে জিকো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিয়ে জিকো

ভাইয়ের পকেট থেকে একশ টাকা বকশিসও পেয়ে গেছে। সন্ধ্যার

দিকে যখন ভাবছিল চলে যাবে আর এখানে উত্তেজনার কিছু নাই ঠিক

তখন সাদা মাইক্রোতে করে এক হলুদ পরী এসে নামল। এরপর টিপু

যেন মন্ত্রমুগ্ধের মত নিজে থেকেই সামনে এগিয়ে গেল। হলুদ জামা

পরা ম্যাডাম যখন গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তার পিছনে পাছার

দুলনি থেকে টিপুর জিহবে পানি এসে গেল। কি সুন্দর। হাটতে হাটতে

ম্যাডাম যখন পিছন ফিরে তাকাল তখন ফর্সা সুন্দর মুখ টা দেখে টিপু

যেন প্রেমে পড়ে গেল। এরপর খালি অপেক্ষা কখন আবার হলুদ

পরীর দেখা পাওয়া যায়। এরপর সাবরিনা যখন আজাদ সাহেব কে

নিয়ে নেগেশিয়সনের জন্য আবার বের হল তখন টিপু তো আর চোখ

ফেরাতে পারছিল না। সারাদিন গ্যারেজে কাজ করে, ওর গ্যারেজে

মেইনলি আসে বাস আর টেম্পু। মেয়ের কোন ব্যাপার নাই। মেয়ে

চাইলে ইংলিশ রোড নাইলে মগবাজার। কখনো কখনো রাস্তার

মাগীও লাগায় তবে সেটা কম। একটু ভাল জায়গায় সুন্দর করে কথা

বলে এমন মাগী টিপু কে যেমন উত্তেজিত করে আর কোন কিছুই

তেমন উত্তেজিত করে না। তাই মগবাজারের হোটেলের মাগী গুলাকে

পেলে টিপু পেলে পাগল হয়ে যায়। যতবার পারে লাগায়। সেখানে

সাবরিনা টিপুর জন্য হুরপরী গোছের। চোখ দিয়ে গোগ্রাসে গিলতে

থাকে ওড়না এক সাইডে থাকায় আরেক সাইডের মাইটা। কি উচু

সুন্দর। কি ফিগার যেন নায়িকা। পাছাটা? এমন পাছা পেলে ধন দিয়ে

খোচা দিয়ে ভিতরে কুয়া খুড়ে ফেলবে টিপু। আর গুদটা ভাবতেই

লক লক করে জিহবা। কি সুন্দর ঠোট মাগীর পাইলে বাড়াটা ঠেসে

দিতে হবে মুখের ভিতর। খোপা করা চুলটা ধরে থাপাবে থামবে না

ঘন্টার পর ঘন্টা। সাবরিনা যখন জিকোর সাথে সবার সামনে দর

কষাকষি করছে তখন টিপু মনে মনে সাবরিনা কে নিয়ে ওর এক

রুমের বস্তির ঘরটায় ফেলেছে। এমন নায়িকার সাথে কিছু করার শখ

অনেকদিন টিপুর। বড়লোকের বেটি গুলা দুধ ডিম খেয়ে যে ফর্সা

নরম শরীর বানায় সে শরীরের সুখ নেবার ইচ্ছা কতদিনের। দেখতে

কি সুন্দর লাগছে ধরতে না জানি কেমন লাগবে। এতদিন সিনেমার

নায়িকাদের ভেবে ওর বস্তির বিছানা ভাসিয়েছে আজকে কিভাবে

সাবরিনা কে নিয়ে করা যায় সেটা ভেবে ভাসাবে।




সাবরিনা কে দেখে মাথায় কামের জ্বালা উঠে গেছে টিপুর। জিকো কে

সরে যেতে দেখেই মাথায় প্ল্যান আসতে শুরু করে। যেভাবেই হোক

সাবরিনার এই নধর দেহটা আজকে ধরে দেখতে হবে। প্যান্টের

ভিতর বাড়াটা অসহ্য রকম যন্ত্রণা দিতে থাকে। টিপুর মনে হয় এখনি

সাবরিনা কে সবার সামনে টানতে টানতে ওর এক রুমের ঘরটাতে

নিয়ে যাবে সে, একটানে ছিড়ে নিবে সব কাপড়। ল্যাংটো করে এই

হলুদ পরী কে আগে দেখতে হবে। চুমু খেতে হবে এমন বড়লোকের

বেটির ঠোটে, কতদিনের স্বপ্ন টিপুর একটা নায়িকার ঠোটে চুমু

খাওয়ার। সাবরিনা কে কয়েক গজ দূরে দেখে মনের ভিতর সেই স্বপ্ন

পূরণ খুব কাছের বলে মনে হয়। টিপু দেখে জিকো যাওয়ার পর আস্তে

আস্তে লোকেরা ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে গল্প করে, কেউ মোবাইলে

গান শুনে, টিকটক ভিডিও দেখে। জিকো যতক্ষণ না ফেরত আসে

ততক্ষণ এই গ্রুপের লিডার শুভ। টিপু জিকো কে ভয় পেলেও জানে

শুভ কে টেক্কা দিতে পারবে সে। টিপু প্রথমে নাদিম কে খুজে বের

করে। নাদিম একটু কম বয়েসি ছেলে, টিপু কে গুরু মানে। টিপু মাঝে

মাঝে ওর টাকায় নাদিম কে খাওয়ায়। বেশ কয়েকবার একসাথে

মাগী পাড়ায় গেছে। মাগী গুলাকে কিভাবে ভালভাবে চুদে বসে

আনতে হবে সেটা টিপু নাদিম কে শিখিয়েছে। তাই নাদিম টিপু কে

গুরু মানে। টিপু জানে একা এই প্ল্যানে সফল হওয়া যাবে না।

নাদিম কে প্ল্যানটা বলতেই নাদিম রাজি হয়ে যায়। এই ম্যাডাম কে

দেখেই নাদিমের বাড়া ঠনঠন করছিল সেই কখন থেকে। কতদিন ধরে

খালি এই ম্যাডাম কে ভেবে মাল ফেলবে সেটাই ভাবছিল আর

সেখানে টিপু ভাই তাকে এই ম্যাডামের কাছে ঘেষার প্ল্যান বলেছে, এই

না হলে টিপু ভাই। এই জন্যই তো নাদিম টিপু কে গুরু মানে।




প্ল্যানটা খুব সিম্পল। ট্রাকে মাল তোলবার জন্য আর পরে সেই মাল

লঞ্চ ঘাটে নেবার পর আনলোড করে কার্গো শিপে তোলার জন্য

শ্রমিকরা এসেছে। এরা ভাড়াটে কামলা। সেই তখন থেকে বসে আছে

কিন্তু কোম্পানি আর এই স্থানীয় ছেলেদের গন্ডগোলে কোন কাজ

করতে পারছে না। আবার আজকে কাজ না হলে টাকা হবে না তাই

একসাথে বিরক্ত আর একটু চিন্তিত এরা। বিশজনের মন কামলা

আছে এখানে। নাদিমের কাজ হল একটু কষ্ট করে তিন পাত্তির তাস

শুরু করে দিতে হবে তাতে যেন কামলা আর ক্লাবের ছেলেরা দুই পক্ষই

অংশ নেয়। এইসব খেলায় অপরিচিত লোকদের মধ্যে হলে প্রায়

গন্ডগোল লাগে টিপু সেটার ভরসাতেই আছে। নাদিম কাছে ঘেষে

কামলাদের সাথে গল্প শুরু করল, বলল ভাই আমরা সবাই তো হুকুমের

চাকর আমিও বাড়ি যেতে পারছি না তোমরাও পারছ না চল কিছু

একটা করি। এই বলে ভুজুং ভাজুং দিয়ে দুইজনকে খেলতে রাজি

করিয়ে ফেলল। নাদিমদের খেলতে দেখে ক্লাবের আর তিন জন এসে

খেলায় যোগ দিল। দেখেতে দেখতে আধাঘন্টা হয়ে গেছে শ্রমিক আর

ক্লাবের ছেলেরা তখন ল্যাম্পপোস্টের আলোর নিচে গোল হয়ে খেলা

দেখছে আর হই হই করে নিজেদের লোকদের সমর্থন যোগাচ্ছে।

বাজি হচ্ছে এক প্যাকেট বেনসন। এইসব খেলায় চুরি চোট্টামি প্রচুর

হয় আর টিপু আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। শ্রমিকদের একজনের একটা

দানের পর টিপু চিতকার করে উঠল এই হালায় চুরি করছে। শুনে

শ্রমিকরা হই হই করে উঠল। নাদিম রেডি ছিল সে বলে উঠল চোরের

ঘরের চোর সব, বাপে চোর, মায়ে চোর। বাপ মা তুলে কথা বললে সে

জায়গায় আগুন লাগতে সময় লাগে না। শ্রমিকরা রেগে গিয়ে একটা

গালি দেয়। এইটা শুনে ক্লাবের অন্য ছেলেরা বলে উঠে হারামি গুলার

সাহস কত আমাগো পাড়ায় এসে আমাদের গালি দেয়। শ্রমিকরা কম

যায় না, এরা ইউনিয়নের লোক। জানে ক্লাবের লোকেরা পলিটিক্যাল

হলেও ইউনিয়নের লোকেরাও পলিটিক্যাল। আর সারাদিন ঘাম

ঝরিয়ে কাজ করা এই লোকেরা এইসব হালকা হুমকিতে দমার পাত্র

না। এখান থেকেই একটা হাতাহাতি বেধে যায়। হাতাহাতি আর

বাড়তে থাকে সেখানে থেকে একটু সংঘর্ষের দিকে মুখ নিচ্ছে যখন

ব্যাপারটা তখন নাদিম আর টিপু আস্তে করে সরে পরে। মারামারি

তখন তুংগে।




সাবরিনা আর আজাদ সাহেব তখন গেটের ভিতর দাঁড়িয়ে কি করা

যায় সেটা নিয়ে ভাবছিল। একটু আগে সাবিত ভাই আবার ফোন

দিয়ে খোজ নিয়ে ঝাড়ি দিয়েছে এখনো সমাধান করা যায় নি দেখে।

সাবরিনা টের পায় সাবিত ভাই সাবরিনার বিপদে পড়াটা উপভোগ

করছে আর যদি আজকে রাতের মাঝে মাল কার্গোতে না তোলা যায়

তাহলে সাবিত ভাই জিতে গেল। এতদিনের পরিশ্রম মারা যাবে।

ঠিক এইসময় প্রথম হই হই করে একটা আওয়াজ হল। কি দেখার

জন্য আজাদ সাহেব আর সাবরিনা বাইরে বের হতেই দেখে একটা

হাতাহাতি চলছে। আজাদ সাহেব দেখেই বুঝলেন শ্রমিকদের সাথে

ক্লাবের ছেলেদের কোন একটা গন্ডগোল লেগেছে। শ্রমিকরা তাদের

ভাড়া করা তাই এই গন্ডগোল এখন না থামানো গেলে পরে এটার জের

তাদের উপর দিয়ে যাবে। আজাদ সাহেব বললেন ম্যাডাম আপনি

এখানে থাকেন, সামনে যাবার দরকার নেই। পারলে ভিতরে গিয়ে

বসেন। আমি দেখি ওদের সাথে কথা বলে থামানো যায় কিনা নাকি

পুলিস ডাকতে হবে। সাবরিনা বুঝল আজকে বিপদ বুঝি সব ওর

উপর দিয়েই যাচ্ছে। সাবরিনা একটু সরে গেটের পাশে অন্ধকারে

দাড়াল। একটু দূরে মারামারি বেড়েই চলছে। আজাদ সাহেব

ছোটাছুটি করে দুই দলকেই শান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। সাবরিনা

ভাবছে ওর এক বান্ধবীর বর ঢাকা পুলিসের এডিসি। উনাকে কল

দিবে নাকি সাহায্য চেয়ে। ঠিক এই সময় সাবরিনার মুখের উপর

একটা হাত এসে ঝাপটে ধরল আরেকটা হাত এমন ভাব ওর শরীর

কে বেড় দিয়ে ধরল যেন ও হাত নাড়তে না পারে। কি হচ্ছে আতংকে

বুঝে উঠতে পারল না সাবরিনা। ওর শরীর কে বেড়ে দিয়ে রাখা

হাতটা এত শক্তিশালী যে সাবরিনা নড়তে পারছে না আর মুখে হাত

থাকার কারণে চিতকার করতে পারছে। দুই সেকেন্ডের মাঝে সাবরিনা

বুঝল ওকে টেনে আর অন্ধকারে পিছনে নিয়ে যাচ্ছে। পা ছুড়ে

সাবরিনা ছুটার চেষ্টা করল। ঠিক সেই সময় কেউ একজন এসে ওর

দুই পা জোড়া করে শক্ত করে ধরল। সাবরিনা জোরে লাথি মারার

চেষ্টা করল। পা টা কয়েক সেকেন্ডের জন্য ছুটে গেলেও আবার শক্ত

করে ধরল এক জোড়া হাত। অন্ধকারে সাবরিনা শুনল কেউ যেন

বলছে ওস্তাদ মাগীর তেজ আছে।




চলবে..........

 

Post a Comment

0 Comments

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন। ×