![]() |
লেখক: সাইফুল ইসলাম সজীবপর্বঃ- ০৮----------------------- হ্যাঁ চেয়ারম্যানকে খুন করতে হবে, নাহলে তো তোমার মা-বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী অপরাধীদের শাস্তি সম্পন্ন হবে না।তুমি তো নিজের হাতে খুনের সঙ্গে জড়িত সবাই কে খুনকরতে চাও আর সেই ব্যবস্থা আমরা তোমাকে করে দিচ্ছি।
কিন্তু এতকিছু করে আপনাদের লাভ কি? আমি আপনাদেরকেউ না কিন্তু তবুও আপনারা আমার সহোযোগিতা করছেনকেন? পৃথিবীতে স্বার্থ ছাড়া কেউ কিছু করে না, বাচ্চা যদিকান্না না করে তবে কিন্তু মা কখনো দুধ পান করায় না। - হ্যাঁ আমাদের কিছু স্বার্থ আছে। - কিসের স্বার্থ? আমি কি জানতে পারি? - তোমার বাবার কাছে একটা স্বর্নের পুতুল ছিল, সেটা এখনকোথায় আছে সেই তথ্য তোমাকে খুঁজে বের করতে হবে।তবে সেটা এখন নয়,তুমি আগে তোমার মা-বাবার মৃত্যুর জন্যদায়ী সকল অপরাধী খুন করবা তারপর। - একের পর এক হত্যা করাচ্ছেন আপনারা, তবে আমিনিশ্চিত এদের সঙ্গে আপনাদের ব্যক্তিগত কিছু ঝামেলাহয়েছে।- তুমি কিন্তু বেশি কথা বলো, ভুলে যেও না যদি তোমাকেপুলিশে ধরিয়ে দেই তাহলে কিন্তু তোমার ফাঁসি হবে। তাইবেশি কৌতুহল না করে চুপচাপ যা বলা হয়েছে তাই করো,আমাদের কাজ শেষ হলে আমরা তোমাকে দেশ ছাড়তেসাহায্য করবো।- বিশ্বাস হয় না। - কেন? আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে আপনারা সব কাজ শেষহলে আমাকেও শেষ করবেন।আপনি বা আপনার বস খুব ভালো খেলোয়াড়,নিজেদের স্বার্থের জন্য যখন যাকেদরকার তাকে ব্যবহার করেন।কিন্তু পরে ঠিকই তাদের সরিয়েদেন এই পৃথিবী থেকে অনেক দুরে।- কি বলতে চাও তুমি? - কিছু না। তৌহিদকে খুন করে আমার অনেক খারাপলেগেছে, ও ছিল আমার সবচেয়ে ভালো একটা বন্ধু। - কিন্তু সে তোমার সঙ্গে বেঈমানী করেছে। - কিন্তু তার কোন প্রমাণ নেই, আপনার কথার উপর ভিত্তিকরে তাকে হত্যা করেছি। - এখন চেয়ারম্যানকেও ঠিক সেভাবেই হত্যা করা হবে, এবংতার আগে তার মুখ দিয়ে পুতুলের বিষয় কিছু জানে নাকিসেটা জিজ্ঞেস করবে।- আচ্ছা ঠিক আছে, আমি জানি আমার খুবই করুণ পরিণতিহবে সামনে। যদি আপনাদের কথা মেনে চলি তাহলে দিনদিনখুনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে,আর যদি কথা না শুনি তাহলে তোআমি হবো আইনের চোখে অপরাধী। তাই যতদিন বাঁচিততদিন ও খুনিদের শেষ করতে চাই, তারপর যা হবার হোক। - তৈরি থেকো। নিজাম উদ্দিন রুম থেকে বের হয়ে গেল, এতক্ষণ দরজারআড়ালে দাঁড়িয়ে সবকিছু শুনছিল সেই নাসরিন। লিমনেরকথাগুলো শুনে তার চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পরছে, নিজামচলে যাবার পরে সে রুমের মধ্যে ঢুকে লিমনের দিকে তাকিয়েরইল কিছুক্ষণ। - লিমন বললো, কিছু বলবে? - অনেক কিছু বলতে চাই, আমি বললেই কি তুমি আমার কথা শুনবে?- বলে তো দেখতে পারো, তাই না? - তুমি ওদের কথা মতো খুন না করে নিজে এখান থেকেপালিয়ে যাও প্লিজ প্লিজ। - কেন? - তুমি খুব ভালো একটা ছেলে,পড়াশোনা করে অনেক ভালোভবিষ্যত তোমার সামনে। কিন্তু এই ভাগ্যের উত্থানপতনেরজন্য আজ তুমি কতটা খারাপ হয়ে গেলে। তাই তোমার কাছেঅনুরোধ রইল তুমি যখন বের হবে তখন যশোর থেকে বডারপার হয়ে ইন্ডিয়া চলে যাও। - কিন্তু তাহলে তো আমার মা-বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ীলোকদের চিনতে পারবো না। সবাই তখন দিব্যি সুন্দরজীবনযাপন করবে, কিন্তু যেখানে আমার মা-বাবা মারা গেছেসেখানে আমাকেই পালিয়ে যেতে হবে। - নিজের জীবন বিপদে না ফেলে সেটাই করতে হবে লিমন,জানি না তোমার দিকে তাকালে কেন যেন খুব কষ্ট লাগে।আচ্ছা চলো-না তুমি আর আমি পরিকল্পনা করে পালিয়েযাই। দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে কোন একটা প্রদেশে জীবনপার করে দেবো। - সেটা সম্ভব না।- কেন? - আমি একজনকে ভালবাসি। - ওহ্ আচ্ছা, কে সে? - আমাদের গ্রামের মেয়ে, নাম সোহাগি। আমার জন্য সে সারাজীবন অপেক্ষা করবে, যদি মারা যাই সেটা ভিন্ন কথা। - একটা কথা বলবো কিছু মনে করবে না তো? - বলো। - তুমি এখন তোমার এলাকার মানুষের চোখে একটা খারাপ ছেলে তাই সবকিছু জেনে এখনও কি সেই মেয়ের মা-বাবা তোমার সঙ্গে তাদের মেয়ে বিয়ে দেবে? - সেটা তাদের ইচ্ছে, কিন্তু আমি তাকে ছাড়া কিছু ভাবিনি কখনো, তাছাড়া তোমার সঙ্গে আমার কোন তেমন পরিচয় নেই। - ঠিক আছে। ★★★ চা-নাস্তা শেষ করে সাজু ভাই তৌহিদের বাকিটা মেসেজ পড়লো। আর চেয়ারম্যান সাহেব পরবর্তী টার্গেট সেটা মোটামুটি করে পরিষ্কার বুঝতে পারা গেল। কিন্তু এই রাতে আঁধারে এখনই কি সে ওই গ্রামের মধ্যে যাবে? শরীর অসুস্থ, কিন্তু তবুও গিয়ে যদি চেয়ারম্যানকে বাঁচানো যায় তাহলে তো খুব ভালো হতো। দারোগা সাহেবের কাছে কল দিয়ে তাকে গ্রামের মধ্যে আসতে বলে সাজু ভাই নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেল। রাজুকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে কারণ সঙ্গী হিসেবে কাউকে ভিষণ দরকার। | | লিমন যখন তাদের গ্রামের মধ্যে প্রবেশ করলো তখন রাত সাড়ে দশটার বেশি। যে গ্রামের মধ্যে সে ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছে সেই গ্রামের মোটামুটি সবকিছু তার মুখস্থ। চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে গিয়ে আকাশ থেকে পরার মতো ধাক্কা লাগলো লিমনের চোখে। বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি, নিশ্চয়ই কিছু একটা হচ্ছে বাড়ির মধ্যে নাহলে পুলিশ কেন আসবে? বাড়ির পিছনে বড় বাগানের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করে আস্তে আস্তে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়াল। ভিতরে কিছু আলোচনা হচ্ছে যেটা বোঝা যাচ্ছে না, সাজু ভাই কি এখানে আছে নাকি? যেহেতু লিমন কোন পেশাদার খুনি নয় তাই এখন এই পরিস্থিতিতে কীভাবে খুন করবে সেটাই বুঝতে পারছে না। মোবাইল বের করে নিজাম উদ্দিনের কাছে কল দিয়ে বিস্তারিত জানালো। নিজাম উদ্দিন বললো, " তাহলে আর তোমাকে রিস্ক নিতে হবে না, সময় বহুত পাবে তুমি বরং ফিরে আসো। " আরো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিমন সামান্য চিন্তা করে সোহাগির কথা মনে পরলো। তারা মা-বাবা মারা যাবার দিন সোহাগি এসেছিল, তাকে বারবার সে শান্তনা দিয়েছিল। কিন্তু শোকাহত সেই সময় কথা বলা হয়নি তাই তারপর তো পরদিনই তার অপহরণ। আজকে সোহাগির সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছে করছে, তাই চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে বের হয়ে মাঠে নামলো লিমন। অন্ধকারে হাঁটতে লাগলো সে, মা-বাবার কবর দেখতে ইচ্ছে করছে। এখান থেকে সোহাগিদের বাড়িতে গেলে নিজেদের বাড়ির সামনে দিয়ে যেতে হবে। তাই আগে মা-বাবার কবরের দিকে যাবার পরিকল্পনা করলো লিমন। আজকে তার সঙ্গে ছিল পিস্তল, কারণ নিজাম উদ্দিন বলছিল যে চেয়ারম্যানকে কাছাকাছি গিয়ে হয়তো মারা যাবে না তাই দুর থেকে গুলি করবে। মা-বাবার কবরের কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ কান্না করে সোহাগিদের বাড়িতে গেল লিমন। সোহাগি যেই রুমে থাকে সেই রুমে একটা জানালা আছে, আর লিমন যখন শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে আসতো তখন রাতের বেলা সেই জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অনেক রাত পর্যন্ত তারা কথা বলতো। লিমন সেই জানালার কাছে গিয়ে দেখে জানালা বন্ধ করা, রাত বারোটার বেশি বেজে গেছে তাই ঘুমিয়ে গেছে হয়তো। জানালা ধরে সামান্য ধাক্কা দিল, তিনটা ধাক্কা দেবার পরে সোহাগির নাম ধরে আস্তে আস্তে ডাকতে লাগলো। মাত্র দুটো ডাক দিতেই ধুম করে জানালা খুলে গেল, আর তখনই জানালার সামনে দাঁড়িয়ে সোহাগি বললো, - লিমন তুমি? - কেমন আছো সোহাগি? - আমার আর থাকা না থাকা কিছু নেই, তোমার জন্য চিন্তা করতে করতে আমার রাতদিন সমান হয়ে গেছে লিমন। তুমি কেমন আছো? - আমি ভালো আছি, তুমি কি ঘুমাও নি? ডাক দিতেই জানালা খুলে দিলে। - জেগে ছিলাম, জানালা ধাক্কার শব্দ শুনেছি কিন্তু ভাবিনি তুমি আসবে। তারপর যখন ডাকলে তখন বুঝতে পারছি এটা আমার লিমন। - তোমার মা-বাবা আমার বিষয় কিছু বলে না? - খুব খারাপ খারাপ কথা বলে জানো? আমার সামনে যখন বলে তখন খুব কান্না আসে, আমি তোমার কোন বদনাম শুনতে পারিনা। - কিন্তু সত্যি তো মানতে হবে। - বাবা বলেছে তোমাকে ভুলে যেতে হবে। - তাহলে ভুলে যাও। - মরে যাবো, তবুও পারবো না। তুমি আমাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে পারবে? - সবকিছু বাড়িঘর ছেড়ে যদি পালিয়ে যাই তাহলে খাবো কি শহরে? শহরের মধ্যে দুমুঠো ভাতের কত মূল্য তা জানো? - আমরা ওই স্বর্নের পুতুল বিক্রি করবো তাহলে তো আমাদের মেলা মেলা টাকা হবে। - কি বললা? তুমি সেই পুতুলের কথা জানো? - হ্যাঁ জানি, পুতুলটা আমার কাছেই ছিল। কিন্তু তোমার কোন খোঁজ নেই এদিকে ওটা নিয়ে খুব দুঃশ্চিন্তা হচ্ছিল তাই আমি সাজু ভাইয়ের কাছে কল দিয়ে দেখা করলাম। তারপর তাকে সবকিছু বলে তার হাতে পুতুলটা দিয়ে দিছি। - এখন সেই পুতুল কার কাছে? সাজু ভাইয়ের কাছে আছে? - হ্যাঁ। - আমার ওই পুতুল যেভাবেই হোক ছিনিয়ে নিতে হবে সোহাগি। - কোথায় যাচ্ছ? - সাজু ভাইয়ের এলাকায়, আজকে রাতের মধ্যে আমি সাজু ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে পুতুল নিয়ে নেবো। - মাথা ঠান্ডা করো প্লিজ, আচ্ছা আমি যেহেতু তার কাছে দিয়েছি সেহেতু আমি তাকে বলে যদি চাই তাহলে তো দিয়ে দেবে। - পাগল নাকি তুমি? সাজু ভাই গোয়েন্দা মানুষ তাই তিনি অজস্র প্রশ্ন করবে তোমাকে। - কিন্তু তুমি ওটা দিয়ে কি করবে? আমার তো মনে হচ্ছে না যে তুমি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য সেটা হাত করতে চাচ্ছ। - সোহাগি শোনো, ওই পুতুলের জন্য অনেক কিছু ঘটছে, একজন করে খুন করে আরেকজনকে দিয়ে সেই খুনিকে খুন করানো হচ্ছে। মানে কাটা দিয়ে আবার কাটা নির্মুল করা হচ্ছে, আমিও এখন একটা কাটা। আমাকেও যেকোনো সময় তারা কাটা দিয়ে তুলে ফেলবে তাই তার আগেই আমি সেই আসল পরিকল্পনাকারীর কাছে পৌঁছাতে চাই। আর তারজন্য দরকার সেই পুতুল, পুতুলটা হলে আমি আসল প্ল্যানকারীর নিকটে যেতো পারবো সোহাগি। জানলা ধরে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সোহাগি আর অন্ধকারে বাগান চিড়ে বের হয়ে হাঁটতে লাগলো লিমন। সোহাগি ভাবছে কেন যে লিমনের সঙ্গে পুতুলের কথা বলতে গেল? এখন যদি সেই কারণে সাজু ভাইয়ের কোন ক্ষতি করে? মোবাইল বের করে কল দিল কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না। ★★ সবসময় পেইজে আগে পোস্ট করা হচ্ছে তাই যারা যারা এড নেই সবাই এড হয়ে নিন এবং আপনার পরিচিতদের এড করুন। পেইজ মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব ★★ চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে বাড়িতে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে রাত দুটি বেজে গেছিল। তাড়াতাড়ি করে বিছানায় শুয়ে মোবাইল সাইলেন্ট করে ঘুমিয়ে গেছিল সাজু ভাই। কিন্তু ফজরের খানিকটা আগে কারো মৃদু ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেল, রুমটা অন্ধকার তবে তার বিছানার সামনে অন্ধকারে কেউ যে দাঁড়িয়ে আছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে উঠতে পারলো না কারণ তার হাত পা খাটের সঙ্গে বাঁধা। - কে ওখানে? - সাজু ভাই আমি লিমন, কেমন আছেন? - লিমন তুমি? এখানে কীভাবে আসলে আর তুমি আমার হাতপা বেঁধে রাখছো কেন? - সবকিছু বলবো, আগে বলেন সেই পুতুলটা কোথায়? - কিসের পুতুল? - স্বর্নের পুতুল, সোহাগি যেটা আপনাকে দিয়েছে আমি সেই পুতুলের কথা বলছি। - সোহাগি আমাকে কোন পুতুল দেয় নাই। - কেন শুধু শুধু মিথ্যে কথা বলছেন? ভাই আমি কিন্তু এখন খুব খারাপ, আমার সঙ্গে একটা খুব ছোট্ট একটা পিস্তল আছে। রাত দশটার দিকে চেয়ারম্যানকে খুন করতে গেছিলাম কিন্তু সেখানে নিশ্চয়ই আপনি গেছিলেন তাই না? আপনার জন্য আমি আমার মা-বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী একটা অপরাধীকে মারতে পারিনি। - তাহলে তুমি সত্যি সত্যি গেছিলে? - হ্যাঁ গেছিলাম, এবার আপনি তাড়াতাড়ি পুতুলের সন্ধান বলেন নাহলে কিন্তু আমার পিস্তলের গুলি খরচ করার পরিকল্পনা করতে হবে। জানেন তো আমি এখন পাক্কা হারামজাদা হাহাহা হাহাহা। . চলবে... .... |

0 Comments