গল্প: সরি আব্বাজান (পর্ব:০৯)


লেখক: সাইফুল ইসলাম সজীব 

 পর্ব:- ০৯


-----------------------


- সাজু ভাই বললো 'তুমি কিন্তু ভুল করছো লিমন কারণ 

এভাবে কেউ ভালো পথে থাকতে পারে না।'




- আমি জানি আপনার অনেক জ্ঞান, আপনি যে আমাকে

অনেক কিছু বলবেন সেটাও জানি। আর আমি মনে প্রাণে

বিশ্বাস করি আপনার কথাগুলো সম্পুর্ন সঠিক। কিন্তু ওই

যে "সাক্ষী মানি কিন্তু তাল গাছটা আমার" আমার সিদ্ধান্ত

আমি নিজে গ্রহণ করবো।


সাজু ভাই সিরিজের সব গুলো গল্প
 




- তুমি আমার কথা মতো চললে আমি নিজে কিন্তু

তোমাকে সহযোগিতা করবো, ভুলে যেওনা যেন যে

তোমার উপকার করতে আমি এসেছি। 



- আপনি বড্ড কথা ঘোরাচ্ছেন সাজু ভাই, সময় থাকতে

তাড়াতাড়ি বলেন পুতুল কোথায়? কারণ একটু পরে

আকাশ পরিষ্কার হবে তখন কিন্তু আমি ফিরতে পারবো

না। 



- আমি কিছুতেই তোমাকে সেই পুতুলের সন্ধান দেবো না

লিমন। 



- ঠিক আছে আমিই খুঁজে বের করবো। 


লিমন তখন চারিদিকে খুঁজতে লাগলো, রুমের মধ্যে

সবকিছু ওলট-পালট করে তন্নতন্ন করে সে পুতুল খুঁজতে

মরিয়া হয়ে গেল। প্রায় বিশ মিনিট খোঁজার পরে হঠাৎ

করে রুমের মধ্যে বাথরুমের ফলছাদে চোখ গেল। সাজু

ভাইয়ের রুমের সঙ্গে এডজাস্ট বাথরুম আছে আর তারই

ছাদে উঠে গেল লিমন। তারপর একটু পরে সেখান থেকেই

কালো কাপড়ে মোড়ানো পুতুলটা নিয়ে বেরিয়ে এলো

লিমন। 



- সাজু ভাই বললো, খবরদার ওটা তুমি সঙ্গে করে নেবে না

তাহলে কিন্তু আমার চেয়ে বেশি খারাপ আর কেউ হবে

না। 



- আচ্ছা ঠিক আছে সাজু ভাই আপনি যা ইচ্ছে তাই


করতে পারেন। 



- একটা কথা বলবো লিমন? 



- বলেন ভাই। 



- পুতুলটা রেখে যাও। 




- আসি ভাই, বেয়াদবি ক্ষমা করবেন আর আমার অপরাধ

নিবেন না। 



সাজু ভাইকে সেভাবেই বেঁধে রেখে রুম থেকে বের হয়ে

গেল লিমন, ড্রইং রুমে সাজুর দাদা এখনো বসে আছে।

লিমন তাকে দেখে বললো:- 



- ধন্যবাদ দাদু। 




- ভুত দেখার মতো চমকে গেল লিমন, তারপর বললো "

কে আপনি? আর ঘরের মধ্যে কীভাবে প্রবেশ করলেন

আপনি? "



- আপনি একটু আগে বাহিরে গেলেন তখনই আমি

ঢুকেছি, আর সেজন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি

বরং তাড়াতাড়ি গিয়ে সাজু ভাইর বাঁধন খুলে দেন, তাকে

বেঁধে রেখেছি কিন্তু সত্যি বলছি কোন ক্ষতি করিনি। 




হাতে পিস্তল ঘোরাতে ঘোরাতে দরজা খুলে বের হয়ে গেল

লিমন, আর সোফা চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠেই সাজুর

রুমে গেল দাদা। রুমের মধ্যে গিয়ে তাড়াতাড়ি কান্নাজড়িত

কণ্ঠে বাঁধন খুলতে লাগলো। হাতের বাঁধন থেকে মুক্তি

পেয়ে সাজু ভাই বাড়ির সামনে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে


রইল। ছোট্ট একটা মুচকি হাসি দিয়ে আস্তে আস্তে রুমে

প্রবেশ করলো, সাজুর মুখের হাসি দেখে অবাক হয়ে

তাকিয়ে রইল তার দাদা। 



ফজরের নামাজ পড়ে সাজু ভাই মোবাইল বের করে

দারোগার কাছে কল দিল। দারোগা সাহেব নিজেও তখন


ফজরের নামাজ পড়ে মাত্র চায়ের জন্য বসে অপেক্ষা

করছিল। 



- আসসালামু আলাইকুম সাজু সাহেব। 



- জ্বি ওয়া আলাইকুম আসসালাম, কেমন আছেন দারোগা

সাহেব? 



- গতকাল রাতে বাসায় ফিরতে তো রাত পেরিয়ে গেল,

চোখে এখনো ঘুম টলমল করে। কিন্তু ভাই আপনি তো

বলেছিলেন যে লিমন নাকি আসার সম্ভবনা আছে কিন্তু

কোই? 



- লিমন এসেছিল দারোগা সাহেব। 



- বলেন কি? কখন? আর চেয়ারম্যান এখন ঠিক আছে

তো? 



- হ্যাঁ, কারণ লিমন চেয়ারম্যান বাড়িতে যায়নি, সে

আমাদের উপস্থিতি জানতে পেরেছে তাই সেখানে গিয়ে

নিজের বিপদ ডাকেনি। 



- যাক আলহামদুলিল্লাহ। 



- পুতুলটা আমি রক্ষা করতে পারি নাই দারোগা সাহেব,

আমি ব্যর্থ হয়েছি। 



- কিসের পুতুল? সেই স্বর্নের পুতুল নাকি? 



- হ্যাঁ দারোগা সাহেব। লিমনের বাবা সেই পুতুল মৃত্যুর

দুদিন আগে লিমনের গার্লফ্রেন্ড সোহাগির কাছে দিয়ে

গেছিল। সোহাগি সেদিন আমাকে সেই পুতুল দিয়েছিল,

আমি কাউকে কিছু বলিনি কারণ আমি অনুসন্ধান

করছিলাম। 



- তারপর? 



- আজকে ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে আমার দাদা বাহিরে

বের হইছিল, তখন দরজা খোলা দেখে লিমন প্রবেশ

করেছে। 



- আপনার দাদা তখন কেন বের হয়েছে? আর আপনি

ঠিক আছেন তো? 



- আমি ঠিক আছি। দাদার একটা গাভী আছে, গতকাল

বিকেল থেকে ওটা নাকি কেমন কেমন করছিল।

শেষরাতের দিকে গাভীর ৩/৪ টা ডাক কানে যেতেই দাদা

বের হয়ে গেল। 



- পুতুলটা দিয়ে সে কি করবে? 




- সেটাও বুঝতে পারেন না? আচ্ছা বাদ দেন, আর

আপনাকে তৈরী থাকতে হবে। আমি যখনই ডাক দেবো

তখন আপনার বাহিনী নিয়ে আমার সঙ্গে যেতে হবে।

আমরা মোটামুটি আসল খুনির নিকট ঘেঁষে দাঁড়াবার

অপেক্ষায় আছি। 



- সত্যি বলছেন আপনি? 




- সত্যি সত্যি সত্যি। 



- কথাটা শুনে অনেক ভালো লাগছে। 




- রাখলাম তাহলে। 



★★




বেলা দশটার দিকে লিমন সোহাগির কাছে কল দিয়ে

বললো, 



- আমি যদি তোমাকে নিয়ে পালিয়ে যাই তাহলে কি

আমার সঙ্গে যাবে? "



- ১০০ বার যাবো, সত্যি আমাকে নেবে? 




- হ্যাঁ সোহাগি, আমি সাজু ভাইয়ের কাছ থেকে সেই পুতুল

নিয়ে এসেছি। তুমি সবসময় শুধু তৈরি থাকবে, যেকোনো

সময় আমরা দুজন মিলে এই শহর গ্রাম ছেড়ে বহুদূর চলে

যাবো। 



- তুমি এখন কোথায়? 



- যেখানে ছিলাম, যাদের কথায় তৌহিদকে খুন করেছি

সেই তাদের কাছে আছি। 



- ওরা তোমাকে কিছু করবে না তো? 



- জানি না তবে করতে পারে, কারণ সেই পুতুল যেহেতু

আমার কাছে তাই বিপদ আমার পাশেই ঘোরাঘুরি করবে। 



- কেন ওদের কাছে ফিরে গেলে? 



- কিছু অসমাপ্ত কাজ এখনো বাকি আছে তাই সেগুলো

শেষ করতে হবে। 



- কবে শেষ হবে? 



- আমি পুতুল নিয়ে এসেছি সেটা শুনে নিশ্চয়ই আসল

গুটিবাজ সামনে আসতে পারে। তখন নিজের জীবনের

পরোয়া না করে ওকে তো আমি বিনাশ করবোই করবো। 


- সাবধানে থেকো আমার খুব ভয় করছে। 


★★



রুমের মধ্যে বিছানায় শুয়ে আছে লিমন, গতকাল রাতে

ঘুমাতে পারেনি তাই চোখ ভর্তি ঘুম ঘনিয়ে আসছে।

চোখের উপর হাত দিয়ে বিছানায় শুয়ে ছিল, এমন সময়

রুমের মধ্যে নিজাম উদ্দিন ও আরও ৪ জন প্রবেশ

করলো। 



- নিজাম বললো, তুমি নাকি পুতুল নিয়ে আসছো লিমন?

সেই পুতুল কোথায়? 



- আপনি জানলেন কীভাবে? 



- তোমার কি ধারণা যে আমরা কোন খবর রাখি না তাই

না? 



- তা ঠিক আছে কিন্তু... 



- কোন কিন্তু নেই, বলো পুতুল কোথায়?



লিমনের কাছে বারবার জিজ্ঞেস করার পরও যখন

পুতুলের হদিস পাওয়া গেল না তখন নিজাম উদ্দিনের

আদেশে লিমনেকে বাঁধা হলো। এতটা দ্রুত হয়ে গেল যে

লিমন তার সঙ্গে থাকা পিস্তল ব্যবহার করা বা বের করারই

সুযোগ পেল না। 

|
|



বেলকনিতে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে বাহিরে বকুল

গাছটার দিকে তাকিয়ে আছে সাজু ভাই। বকুল গাছটার

ডালে একটা রঙিন পাখি, পাখির নামটা মনে আসছে না।

রহস্যের গন্ধ ক্রমশ তার নাকের সামনে উপস্থিত কিন্তু

সবটা সাজিয়ে যে কীভাবে প্রকাশ করা যায় সেটাই

ভাবছেন। 



- পিছন থেকে সাজুর দাদা এসে বললো, দাদু একটা কথা

জিজ্ঞেস করবো? 



- হ্যাঁ দাদা করো। 



- ভোরবেলা ওই ছেলেটার পিছনে বাইক নিয়ে না গিয়ে

মুচকি হাসি দিয়ে বসে রইলে কেন? 



- দাদাজান, ওই ছেলে একটা স্বর্নের পুতুল নিতে এসেছিল

আমার কাছে? 




- কি..? 




- হ্যাঁ, সেদিন লিমনের নানা যেই পুতুলের কথা বলেছিল

সেটা আমার কাছে ছিল। আজকে সেই পুতুল নিয়ে গেল

ঠিকই কিন্তু আসল পুতুল নয়। 


- মানে? 



- আমি আগেই ধারণা করেছিলাম যেহেতু লিমন এর

গার্লফ্রেন্ডের হাত থেকে পুতুল আমার কাছে এসেছে


সেহেতু এ কথা অবশ্যই জানাজানি হবে। তাই একটা

নকল পুতুল আমি সংগ্রহ করে নিজের কাছে রেখেছি

আর আসল পুতুল তোমাদের ঘরে দাদির পুরাতন পুঁটলির

মধ্যে। 




- আচ্ছা বুঝতে পারছি কিন্তু নকল পুতুল দেখে কি ওরা

বুঝতে পারবে না? মানে দেখতে কি একই রকম নাকি? 




- না দাদা, পুতুল দুটোই আলাদা, আর লিমন বা সেই মূল

পরিকল্পনাকারী কিন্তু সেই পুতুল আগে দেখে নাই। আর

লিমনের পিছনে পিছনে বাইক নিয়ে তাড়া করিনি কারণ

ওই নকল পুতুল যেখানে থাকবে সেই স্থানের লোকেশন

আমি দেখতে পারবো। 



- কীভাবে? 



- পরে বলবো দাদাজান, এখন একটু ভাবতে হবে তাই

পরে কথা বলবো। 



- হুম। 

★★



লিমন বিছানায় হাত পা বাঁধা অবস্থায় পরে আছে আর

মনে মনে হাসছে। কয়েক ঘন্টা আগেই সে সাজু ভাইকে

এভাবেই বেঁধে রেখেছিল, আর এখন সে নিজেই বন্দী।

নিজাম উদ্দিন বারবার তাকে পুতুলের কথা জিজ্ঞেস

করছে আর লিমন শুধু বারবার মাথা নেড়ে না বলছে। 




হঠাৎ করে দরজা খুলে কালো টিশার্ট পরে একটা ছেলে

প্রবেশ করলো, মুহূর্তের মধ্যে হাতের পিস্তল নিজাম

উদ্দিনের দিকে তাক করে পরপর তিনটা গুলি করলো।

নিজাম উদ্দিন আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে ঢলে পরলেন। 



- কালো টিশার্ট পরা লোকটা বিড়বিড় করে তখন বললো "

ক্ষমা করবেন নিজাম ভাই, বসের সঙ্গে আপনি বেঈমানী

করতে চেয়েছিলেন তাই বসের নির্দেশে আপনাকে মারতে

বাধ্য হলাম। "

.....



আগামী পর্বে সমাপ্ত করবো, তাই সবার আগে পড়তে

চাইলে পেইজে এড হয়ে থাকুন। 

পেইজ মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব 

লাইক কমেন্ট করে পাশে থাকুন, শেষ পর্ব যেন

আপনাদের মনের মতো লিখতে পারি। 




চলবে.... ......



 

Post a Comment

0 Comments

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন। ×