গল্প:রাগি স্যারের রোমান্টিক অত্যাচার
লেখিকা: ঘুমন্ত রাজকন্যা
পর্ব:০৯
--------------------
তামিম:এর শাস্তি তো আপনাকে ভোগ করতেই হবে মিস।
(মনে মনে বললো)
।
মারিহা এক মিনিট সময় নষ্ট না করে চলে গেল ক্লাসে।
।
ছুটির পর
।
মারিহা:আশা,ওই ধলা ইন্দুরকে যতটুকু খারাপ ভাবছিলাম
ততটা খারাপও না।
।
আশা:আমার ভাই আবার তোর কাছে ভালো হলো কবে
থেকে!!!!!!
।
নীলা:আমি তো মারিহার কথা শুনে জ্ঞান হারাবো মনে
হচ্ছে!!!!!!!!!
।
আকাশ:মারিহা,তুই এসব বলছিস!!!
।
নীল:আমার তো মনে হচ্ছে আমার কানে সমস্যা হয়েছে ।
।
মারিহা:তোরা তো এমন অবাক হচ্ছিস মনে হচ্ছে ওই ধলা
ইন্দুরের মাথায় শিং দেখে ফেলেছিস।
।
আশা:অবাক হওয়ার কথা বললে অবাক হবো না?
।
মারিহা:আজকে তামিম বলে একটা ছেলে আমার সাথে
অসভ্যতা করছিল।ধলা ইন্দুর ওই কালা কুমিরকে এমন চড়
দিয়েছে যে ওর নাক-মুখ থেকে রক্ত পরা শুরু হয়ে যাই।
।
আকাশ:তামিম ছেলেটা গুন্ডা টাইমের।কলেজের সব
মেয়েদেরই খারাপ নজরে দেখে।একটু সামলে চলিস,মারিহা।
।
নীল:আমিও এমন কথা শুনেছি।তামিম থেকে যতটা পারিস
দূরে থাকবি।
।
নীলা:এই মারিহা,এত কি ভাবছিস।
।
মারিহা:আমি তো ভাবছি ওই ধলা ইন্দুর যদি আমাকে দুই
গালে একসাথে চড় মারে আমার চেহারা তো পেনসিল
সাইজের হয়ে যাবে।
।
নীলা:পেনসিল মারিহাকে দেখতে বেশ লাগবে।
।
মারিহা:ওই পেত্নির খালা বেশি কথা বলবি না।
।
আশা:আমার ভাইয়ার রাগটা বেশি কিন্তু মনের অনেক ভাল।
।
নীলা:আমার তো স্যারকে প্রথম দেখাই পছন্দ হয়ে গেছে।
।
মারিহা:এক পেত্নি ধলা ইন্দুরের প্রেমে পরেছে এটা টিভিতে
ব্রেকিং নিউজ হিসেবে দেওয়া দরকার।
।
নীলা:এই আমি পেত্নি না।
।
মারিহা:তুই তো পুরাই কিউটের ডিব্বা।তুই এতো সুন্দর হলি
কিভাবে।
।
নীলা:আরো বল।(ভাব নিয়ে)
।
মারিহা:তুই যদি ভেবে থাকিস আমি তোকে এসব বলবো
তাহলেএটা তোর সম্পূর্ণ ভুল ধারনা।তোর চেহারা দেখলে তো
পেত্নিও ভয়ে এক গ্লাস পানিতে ডুবে মরবে।
।
আশা:মারিহা তুই থামবি।
।
মারিহা:একটা প্রশ্ন ছিল।
।
আশা:বল।
।
মারিহা:ধলা ইন্দুর সবাইকে আপনি বলে ডাকে কেন?
।
আশা:একদিন ভাইয়া বলছিল এই তুমি টা নাকি অনেক
বিশেষ একটা শব্দ।ভাইয়া নাকি যেই মেয়েটিকে ভালোবাসবে
তাঁকেই নাকি তুমি করে ডাকবে।
।
মারিহা:কার ভাগ্য যে এতো খারাপ আল্লাহ্ই ভালো জানেন।
।
নীলা:এই স্যারের নামে আগে বাজে কথা বলবি না বলে
দিলাম।
।
মারিহা:ওমা!!এখানে দেখছি মার থেকে মাসির দরদ বেশি।
আশা চুপ করে আছে তুই কেন এতো কথা বলছিস।
।
আকাশ:এখন কিন্তু অনেক লেইট হয়ে যাচ্ছে।
।
নীল:হ্যাঁ,এখন যার তার বাসায় চল।
।
মারিহা:ওই দেখ কারা কুমিরটা গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে
আছে।মরার মনে হয় শখ হয়েছে।
।
আকাশ:এতো দিক খেয়াল করিস না।
।
সবাই যার যার বাসায় চলে গেল।
।
অন্যদিকে তামিম মারিহাকে শাস্তি দেওয়ার ফন্দি আটতে
লাগলো।
।
----------------------
গল্প:রাগি স্যারের রোমান্টিক অত্যাচার
লেখিকা: ঘুমন্ত রাজকন্যা
পর্ব:১০
---------------------
সবাই যার যার বাসায় চলে গেল।
।
অন্যদিকে তামিম মারিহাকে শাস্তি দেওয়ার ফন্দি আটতে
লাগলো।
।
পরেরদিন সকাল 9 টা।
।
মালিহা বেগম:আজকে বাজে একটা স্বপ্ন দেখিছি।মারিহা তুই
আস্তে,আস্তে নাস্তা কর।আজ কলেজ যেতে হবে না।
।
মাশরাফ চৌধুরি:তুমি এখনো আগের যুগেই পরে আছো।
মারিহা নাস্তা শেষ করে কলেজে যাও।একদিন কলেজ মিস
করলে অনেকগুলো ক্লাস মিস করবে।
।
মারিহা:আম্মু তুমি এতো চিন্তা করো কেন বলো তো।আমি তো এখন বড় হয়ে গেছি।
।
মালিহা বেগম:এখনো যে চকলেট না দিলে ঘুমাই না ,
সে নাকি বড় হয়ে গেছে।শুনো মেয়ের কথা।
।
মারিহা:আমার নাস্তা করা শেষ।এখন বরং কলেজে যাই।গুড
বাই আম্মু,আব্বু।
।
মালিহা বেগম:মেয়েটাকে যেতে দেওয়া ঠিক হয়নি।
।
মাশরাফ চৌধুরি:এতো চিন্তা কর না।
।
মালিহা বেগম:মায়ের মন,চিন্তা তো হবেই।
।
কলেজে
।
মারিহা:আজকে তো আম্মু আসতে দিতে চাইছিলো না।খারাপ
স্বপ্ন নাকি দেখেছে।
।
নীলা:এসব কুসংস্কার শুধু।
।
আশা:তবুও তোর মায়ের কথা শুনা দরকার ছিলো।
।
মারিহা:নীল,আকাশ কোথায় রে?
।
নীল:ওর শরীর খারাপ করছে।
।
মারিহা:তাহলে কলেজ ছুটি হওয়ার পর ওকে দেখতে যাবো।
।
নীল:তামিম এখানে আসছে কেন রে?
।
মারিহা:আসতে দে।আজকে এই কালো কুমিরের ভর্তা
বানাবো।
।
তামিম:Hi,jaan.
।
নীল:তুই এখানে কি করছিস রে।
।
তামিম:প্রেম করতে।
।
মারিহা:এই কালো কুমিরের বাচ্চা,তোর কি মরার শখ হইছে।
।
তামিম:জান,তোমাকে বাচানোর জন্য সবসময় তো ওই স্যার
থাকবে না।ওই সুযোগটাই আমি কাজে লাগাবো।
।
মারিহা:স্যার থাকবে না মানে!!!
।
আশা:আপনি কি বলতে চাইছেন???
।
তামিম:মানে এমনো তো হতে পারে যে,
ছুটির সময় স্যার গেইট
থেকে বের হচ্ছেন আর এমন সময়
কোনো ট্রাক স্যারকে ধাক্কা মারলো।
।
নীল:ওর এসব কথাই ভয় পাস না।
ক্লাসের টাইম হয়েছে ক্লাসে চল।
।
ছুটির পর মারিহা আর আশা মিলে আরাফকে খুঁজতে
লাগলো।হঠাৎ মারিহার চোখে পারল আরাফকে।আরাফ
মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলতে বলতে গেইট থেকে
বের
হচ্ছে।মারিহা আরাফের কাছে যাওয়ার জন্য পা বারাতেই
খেয়াল করলো একটা ট্রাক আসছে আরাফের দিকে।
মারিহা দৌড়াতে শুরু করলো।
।
মারিহা:স্যার বলে চিৎকার করেই গেইটের বাইরে গিয়ে
আরাফকে ধাক্কা দিয়ে গেইটের
ভিতরে ডুকিয়ে দিল।
।
আর দ্রুতগামী ট্রাক মারিহাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে যাই।
মারিহা ছিটকে রাস্তার অন্য প্রান্তে গিয়ে পড়ে।
।
ঘটনাটা কয়েক মূহূর্তের মধ্যে ঘটে যাই।
মারিহার রক্তাক্ত দেহটা আরাফের নজরে পরে।
।
আরাফ:মিস মারিহা বলে চিৎকার করে দৌড়ে মারিহার কাছে
যাই।
।
আরাফের চিৎকার শুনে সবাই দৌড়ে আসে।
।
আশা:মারিহার রক্তাক্ত দেহটা নজরে পরার সাথে সাথেই
জ্ঞান হারায়।
।
নীলা আশাকে ধরে ফেলে।
মারিহা মিরিহা বলে চিৎকার করতে থাকে ।
।
নীল আর আরাফ মিলে আরাফের গাড়িতে মারিহাকে তুলে।
আরাফ মারিহার মাথাটা নিজের কোলে রাখে।
নীল গাড়ি ড্রাইভ করছে।
আরাফের সাদা শার্ট রক্তে লালবর্ণ ধারণ করেছে।
তারা হাসপাতালে 10 মিনিটের মধ্যে পৌছে যায় ।
।
দেখা যাক কাল কি হয়।
চলবে........
0 Comments