পর্ব - ১০
[রোমান্টিক এলার্ট ‼️]
লেখা - আসফিয়া রহমান
-----------------
অনিন্দিতা চোখ বড়বড় করে তাকালো,
“খাইয়ে দাও মানে! আমি কীভাবে..."
"থাক তাহলে, তুমিই খাও!"
শুভ্রকে বাচ্চাদের মতো মুখ ফুলাতে দেখে অনিন্দিতা হেসে
ফেললো। তারপর দুটো আইসক্রিম-ই খুলে একটা নিজে মুখে
দিল, আরেকটা শুভ্রর মুখের কাছে বাড়িয়ে দিল। শুভ্র চোখে
ইশারা করলো, "এটা না, ওটা খাব..."
"এটা তো আমার!" বাচ্চাদের মতো করে বলে উঠলো
অনিন্দিতা।
"তোমারটাই খাব।"
অনিন্দিতার গালদুটো রক্তিম হয়ে উঠল সহসাই, "এটা
আমার, দেব না আমি!"
শুভ্র ঠোঁট উল্টে তাকালো, "একটু দাওওও..."
অনিন্দিতা চোখ ছোট করে তাকালো, "নিজেরটা খান।"
শুভ মুখ গোমড়া করে অনিন্দিতার বাড়িয়ে ধরা আইসক্রিমে
কামড় বসালো। তারপর খেতে খেতে ভ্রু কুঁচকে বলল, "চিনি
দেয় নি নাকি? একটুও মিষ্টি নেই!"
অনিন্দিতার কপালে ভাঁজ পড়ল, "মিষ্টি নেই মানে?
আমারটায় তো আছে!"
"এটা খেয়ে দেখো!"
অনিন্দিতা ইতস্তত করে শুভ্র যে পাশে কামড় বসিয়েছে, তার
বিপরীত পাশ থেকে অল্প একটু মুখে নিল, "কই ঠিকই তো
আছে..."
শুভ্র একহাতে স্টিয়ারিং সামলে অনিন্দিতার হাতটা টেনে ও
যেখান থেকে মুখে নিয়েছে, সেখানে আরেকটা কামড় দিল,
"উমম... এখন ঠিক আছে। একটু আগে তাহলে অমন
লাগছিল কেন বলোতো, মেঘফুল?"
অনিন্দিতা লজ্জা পেয়ে হাতটা ছাড়িয়ে নিল। আইসক্রিম
খেতে খেতে চোখ রাখল জানালার বাহিরে। সাথে সাথে
বিস্মিত দৃষ্টিতে আবার শুভ্রর দিকে ফিরল, "আমরা কোথায়
যাচ্ছি, শুভ্র?"
"ঘুরতে..."
"মানে??" অনিন্দিতা হা করে তাকালো।
"মানে আবার কী? ডেইটে যাচ্ছি আমরা..."
"কী সব আজেবাজে বকছেন! বাসায় আম্মু চিন্তা করবে,
শুভ্র। প্লিজ, বাসায় চলুন..."
"চলে এসেছি আমরা।"
বলতে বলতে শুভ্র গাড়ি থামালো একটা বিলাসবহুল
রেস্তোরার সামনে।
"নামো!"
"শুভ্র, বাসায়..."
"নামতে বলেছি..."
অনিন্দিতা বাধ্য হয়ে নেমে দাঁড়ালো। শুভ্র গাড়ি পার্ক করে
এসে অনিন্দিতাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকল। খুঁজে খুঁজে কোণার
দিকের একটা ফাঁকা টেবিলে বসলো ওরা।
ওয়েটার মেনু কার্ড দিয়ে গেছে। অনিন্দিতা সেটা খুলে দেখছে।
শুভ্রর চোখদুটো তখন স্থির মেয়েটার ওপরে। মেয়েটা খেয়াল
করছে না, কিন্তু শুভ্র দেখছে— কেমন করে ওর চুলের
কয়েকটা গোছা মুখে এসে পড়েছে, কেমন করে ও নিচু গলায়
ওয়েটারকে “থ্যাঙ্ক ইউ” বলে হাসছে।
“এমন করে কী দেখছেন?" কপালের চুলটা সরিয়ে অনিন্দিতা
নিচু গলায় বলল।
"শুভ্রর মেঘফুল..."
অনিন্দিতা লজ্জা পেয়ে চোখ নামালো। হাসলো শুভ্র। তারপর
হাসি থামিয়ে আচমকাই বলল, "আপনার কী মনে হয়, আমি
তমাকে চিট করেছি, নন্দিতা?"
অনিন্দিতা উত্তর দেবার আগেই শুভ্র আবার বলল, "সাধারণ
দৃষ্টিতে দেখলে যে কারোর এমনটাই মনে হবে। কিন্তু... ভালো
থাকতে চাওয়াটা কী অপরাধ? একটু ভালো থাকতে চেয়ে,
একটু শান্তিতে থাকতে চেয়ে আমি কী অনেক বড় অপরাধ
করে ফেলেছি, নন্দিতা?"
অনিন্দিতা হতবাক হয়ে তাকালো, "ভালো থাকতে চাওয়াটা
অপরাধ হবে কেন!"
শুভ আবারো বলল, “তমা একটা রেড ফ্লাগ, নন্দিতা। ওর
সঙ্গে আমার সম্পর্কটা একসময় ভীষণ সুন্দর ছিল। কিন্তু
আস্তে আস্তে কেমন সবকিছু বদলে গেল। ওর মধ্যে একটা
অদ্ভুত দখলদারি, সন্দেহ, নিজের মতো করে আমাকে বেঁধে
রাখার প্রবণতা… আমি কিছুই বলতে পারতাম না, করতে
পারতাম না। তবু ছেড়ে যাইনি, কারণ তখনও ভাবতাম—
ভালোবাসা মানেই সহ্য করা। কিন্তু আপনার সাথে দেখা
হওয়ার পর থেকে, জানিনা কেন যেন উপলব্ধি করতে শুরু
করলাম, একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক কখনো এমন হয় না।"
অনিন্দিতা ধীরে ধীরে বলল, “আপনার দোষ নেই, শুভ্র।
আপনি তো ছেড়ে যেতে চাননি, চেয়েছিলেন সম্পর্কটা ঠিক
রাখতে…”
শুভ্র হেসে উঠল নিঃশব্দে, "প্রতিবার আমি নিজের শান্তি
বিসর্জন দিয়ে হলেও সম্পর্কটা ঠিক রাখতে চেষ্টা করেছি,
নন্দিতা। কিন্তু! তমা কখনোই সন্তুষ্ট হয়নি। যতটুকু ভালোবাসা
ছিল, সেটাই যেন প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে প্রশ্নবিদ্ধ হতো প্রতিনিয়ত।
ভালোবাসা যদি কেবল নিজেকে প্রমাণের যুদ্ধ হয়ে যায়, তবে
সেটার মানে কী থাকে? আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম,
নন্দিতা।”
"আপনি তমাকে চিট করেননি, শুভ্র। আপনি নিজে শুধু ভালো
থাকতে চেয়েছেন, শান্তিতে থাকতে চেয়েছেন। এর পূর্ণ
অধিকার আছে আপনার। আমি কখনোই আপনাকে ভুল
বুঝবো না, শুভ্র। এই বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন আপনি।
আপনি যে শান্তি, যে সুখটুকুর খোঁজে আমার কাছে এসেছেন-
আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো আপনাকে ভালো
রাখার..."
শুভ্রর মলিন মুখটায় একটুকরো স্নিগ্ধ হাসি ফুটল। টেবিলের
উপর রাখা অনিন্দিতার হাতটা টেনে নিয়ে হাতের উল্টোপিঠে
পরম যত্নে ঠোঁট ছোঁয়ালো ও। অনিন্দিতা কেঁপে উঠলো সেই
ছোঁয়ায়। অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল দেহ-মনজুড়ে।
"অ-অর্ডার করি?"
"হুঁ!" শুভ্র হেসে মেয়েটার হাতটা ছেড়ে দিল, "কী খাবে?"
"আপনার ইচ্ছে..."
"নো, কিউটি পাই! ইটস্ আওয়ার ফার্স্ট ডেইট। অ্যান্ড দ্য
চয়েস শ্যুড অভিয়েসলি বি ইওরস..."
অনিন্দিতা মিষ্টি হেসে মেন্যু কার্ডটা উল্টেপাল্টে দেখল,
তারপর শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলল, "ঝাল খেতে ইচ্ছে
করছে..."
"ওকে, ম্যাডাম! অ্যাজ ইওর উইশ!"
শুভ্র হাত উঁচিয়ে ওয়েটারকে ডাকল। অনিন্দিতা মেন্যু কার্ড
থেকে চোখ না সরিয়েই বলল, “চিকেন পাস্তা… একটু এক্সট্রা
চিজ, প্লিজ! আর সঙ্গে গার্লিক ব্রেড।”
ওয়েটার নোট নিচ্ছে। শুভ্র পাশ থেকে যোগ করল, “আর
একটা আইসড লেমন টি— ম্যাডামের জন্য।”
অনিন্দিতা মাথা তুলে কপাল কুঁচকে তাকাল, “আমি তো
লেমন টি বলিনি…”
“ইউ নিড ইট!” শুভ্র হাসল, “আপনাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে,
নন্দিতা।"
তারপর ওয়েটারের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমার জন্য সেইম
অ্যাজ হার, ওকে?"
ওয়েটার হেসে মাথা নাড়ল। ওয়েটার চলে গেলে অনিন্দিতা
শুভ্রর দিকে একদৃষ্টে চেয়ে থেকে বলল, "আপনি ভীষণ
অন্যরকম, শুভ্র..."
বাইরে অন্ধকার হয়ে এসেছে, ধূসর মেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ।
রেস্তোরাঁর ভেতরটা ভাসছে নরম আলোয়। মৃদু শব্দে বাজছে
চেনা একটা রবীন্দ্রসংগীতের সুর।
অনিন্দিতার চোখ চলে গেল কাঁচের ওপারে দৃশ্যমান ধূসর
আকাশে। বাইরে তখন হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে, কাচের গায়ে
টুপটাপ শব্দ। অনিন্দিতা মেঘলা আকাশ থেকে চোখ ফিরিয়ে
শুভ্রর দিকে তাকালো।
"আপনাকে দেখতে ওই মেঘগুলোর মত দেখাচ্ছে, শুভ্র!"
শুভ্র একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে পরপর নিজের দিকে
তাকাতেই হেসে ফেলল, “আসলেই তো!” শুভ্র নিজের শার্টের
কলারটা টেনে গর্ব করে বলল, “আকাশও দেখি আজকে
আমার ড্রেস কোড ফলো করেছে!”
অনিন্দিতা হেসে ফেলল। শুভ্র বাচ্চাদের মতো প্রশ্ন করল,
"আপনার কাছে কাকে বেশি ভালো লাগছে নন্দিতা, আমাকে
নাকি আকাশকে?"
অনিন্দিতা ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রাখার চেষ্টা করল,
“দুজনকেই… তবে আকাশটা বেশি সুন্দর!"
শুভ্র ভ্রু তুলে তাকাল, “অর্থাৎ আমি কম সুন্দর?”
অনিন্দিতা ঠোঁট টিপে হাসলো, “না না, আপনিও সুন্দর… তবে
আকাশের নিরীহ চেহারাটা আজ আমাকে একটু বেশিই
টানছে বোধহয়!”
"ভালো করে তাকালে, এই হ্যান্ডসাম ছেলেটাকে সামনে রেখে
আকাশকে পছন্দ হতো না..." অন্যদিকে তাকাতে তাকাতে
বলল শুভ্র।
“নিজের প্রশংসা নিজেই করছেন?”
“আপনার কাছ থেকে তো পাচ্ছি না, তাই নিজেই করতে
হচ্ছে! ভেরি স্যাড...” শুভ্র গম্ভীর মুখ করে বলতেই অনিন্দিতা
আবার হেসে ফেলল।
ওর হাসিটার দিকে শুভ্র চুপ করে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
নরম হলদেটে আলোটা অনিন্দিতার মুখে এসে পড়েছে,
মেয়েটাকে কী স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে তাতে। শুভ্রকে এভাবে একদৃষ্টে
তাকিয়ে থাকতে দেখে অনিন্দিতা ভ্রু তুলে ইশারায় জিজ্ঞেস
করল, "কী?"
শুভ্র মাথা দুপাশে নেড়ে বোঝালো, "কিছু না।"
ওয়েটার খাবার নিয়ে এলো তখনই। গরম গরম পাস্তার গন্ধে
ভরে গেল চারপাশ। বাষ্প উঠছে ধীরে ধীরে, চিজ গলে গিয়ে
পাস্তার উপর ছড়িয়ে আছে সাদা পরতের মতো। গার্লিক
ব্রেডের ঘ্রাণ যেন পুরো পরিবেশকটাই উষ্ণ করে তুলল।
ওয়েটার খাবার নামিয়ে রেখে চলে গেলে শুভ্র অনিন্দিতার
খাবারটা সুন্দর করে ওর সামনে সাজিয়ে দিয়ে নিজেরটাও
নিল।
চামচে একটু তুলে মুখে দিতেই চোখ বন্ধ করে ফেলল
অনিন্দিতা, “উম্ম…” তারপর চোখ খুলে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে
বলল, "ইটস্ ঠু ইয়াম্মি! আই লাইক ইট!"
"রিয়েলি? লেটস ট্রাই!" শুভ্র নিজেও চামচে পাস্তা নিয়ে মুখে
নিল, "উম... গুড!"
"আআআ...."
"আরে, কী হলো, নন্দিতা? আর ইউ ওকে?"
অনিন্দিতা দ্রুত গতিতে দুপাশে মাথা নাড়লো, “ওফফ… ঝাল!
ভীষণ ঝাল!”
মেয়েটার চোখে পানি এসে গেছে, ঠোঁট লালচে হয়ে উঠেছে,
দু’হাত দিয়ে মুখে হাওয়া দিতে দিতে কাতর স্বরে বলল,
“পানি… পানি দিন না!”
শুভ্র আশেপাশে তাকাল, কিন্তু টেবিলে একফোঁটা পানি নেই।
ওয়েটারও নেই আশেপাশে। আচমকাই শুভ্র চেয়ার টেনে
অনিন্দিতাকে নিজের একেবারে কাছে নিয়ে এলো। ওর
কপালের ওপর ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিল মৃদু
স্পর্শে, আঙুলের ছোঁয়ায় অনিন্দিতার গাল কেঁপে উঠল।
"রিল্যাক্স, মেঘফুল..."
নিচু গলায় ফিসফিসিয়ে আস্তে, খুব আস্তে শুভ্র ঝুঁকে এলো
অনিন্দিতার কাছাকাছি। অনিন্দিতা চোখ বড় করে নিঃশ্বাস
আটকে ফেলল তৎক্ষণাৎ, "শু-শুভ্র..."
"শশশ্..."
মেয়েটার শুকনো ঠোঁটে তর্জনী ঠেকালো শুভ্র। কেঁপে উঠে
থেমে গেল মেয়েটা। শুভ্র তর্জনী সরিয়ে ওর থুতনি ধরে ঠোঁটে
ফুঁ দিল ধীরে ধীরে। প্রতিবার ফুঁ দেবার সাথে সাথে
অনিন্দিতার চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। শুভ্র ওর
শুকনো অধরযুগলে বৃদ্ধাঙ্গুল ছোঁয়ালো- একটা অতিসূক্ষ্ম
ছোঁয়া, অথচ ছোঁয়াটা যেন ভেতর থেকে কাঁপিয়ে তুললো
অনিন্দিতাকে। ওর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এলো মুহূর্তেই, চোখের
পাতা কাঁপলো, বুকের ভেতর ঝড়ের বেগে একের পর এক
আঁছড়ে পড়ল শব্দহীন ঢেউ।
“এখন কেমন লাগছে?” শুভ্রর কণ্ঠটা কানের ঠিক পাশে, উষ্ণ
নিঃশ্বাসে গলে যাচ্ছে শব্দগুলো।
অনিন্দিতা উত্তর দিতে পারল না। গলা শুকিয়ে গেছে। শুধু
মাথা নাড়ল আস্তে করে, “কমেছে…”
শুকনো অধরযুগলে বৃদ্ধাঙ্গুল বোলাতে বোলাতে শুভ্র ঘোর
লাগা দৃষ্টিতে চেয়ে রইল সেদিকে। ওর দৃষ্টি স্থির, যেন
অনিন্দিতার মুখের প্রতিটা রেখা, প্রতিটা নিঃশ্বাসের কম্পন
মুখস্থ করে নিচ্ছে নিঃশব্দে। বাইরে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ মিশে
যাচ্ছে ওর ধীর নিশ্বাসের ছন্দে। অনিন্দিতা চোখ নামিয়ে
ফেলেছে, কিন্তু স্পষ্ট অনুভব করছে, শুভ্রর ঘোর লাগা দৃষ্টি
নিবদ্ধ ঠিক ওর ওপরেই।
“শু-শুভ্র…” মৃদু স্বরে কাঁপা কাঁপা গলায় ডাকল ও।
“হুঁ?” শুভ্রর কণ্ঠটা কেমন অদ্ভুত শোনালো। যেন কোনো
নেশার মধ্যে ডুবে আছে ও।
"খ-খাবারটা ঠ-ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে..."
শুভ্রর বৃদ্ধাঙ্গুল ওর ঠোঁটের কিনারায় এসে থেমে গেল। হুঁশ
ফিরে পেয়ে ধীরে ধীরে আঙুল সরিয়ে নিয়ে খানিকটা অপ্রস্তুত
হয়ে পরল বেচারা।
শুভ্র সরে যেতেই অস্বস্তিতে গাঁট হয়ে অনিন্দিতা মাথা নুইয়ে
ফেলল। চোখের সামনে ছড়িয়ে পড়া চুলগুলো ঠেলে দিলো
কানের পেছনে। ওর গাল দুটো রক্তিম, নিঃশ্বাস কাঁপছে
এখনো।
অপ্রস্তুত শুভ্র গলা খাঁকরি দিয়ে অন্যপ্রান্ত থেকে অনিন্দিতার
প্লেটটা উঠিয়ে ওর সামনে রাখল। অনিন্দিতা চামচটা হাতে
নিয়ে অনেক্ষণ ধরে নাড়াচাড়া করছে। সেদিকে তাকিয়ে শুভ্র
একটু ঝুঁকে, নিচু গলায় ডাকল, “মেঘফুল…”
অনিন্দিতা চোখ তুলে তাকাতেই ধরা পড়লো শুভ্রর গভীর,
স্নিগ্ধ দৃষ্টি। তবে এই মুহূর্তে সেখানে মিশে আছে একফোঁটা
অস্বস্তি, একচিলতে অপরাধবোধ। ও আস্তে করে বলল,
“তাড়াতাড়ি শেষ করুন মেঘফুল, ঠান্ডা হয়ে গেলে ভালো
লাগবে না।”
অনিন্দিতা হালকা করে মাথা নাড়ল। বৃষ্টির ছোট ছোট ফোঁটা
জমেছে কাঁচের ওপর, হলদেটে আলো পড়ে সেগুলো
ঝিকমিক করছে ক্ষুদ্র রত্নের মতো। শুভ্র চুপচাপ তাকিয়ে
আছে অনিন্দিতার লাজুক মুখখানার দিকে। মেয়েটা সেদিকে
না তাকিয়েও বুঝতে পারছে সেই দৃষ্টি, বুঝতে পেরেই যেন
আরো সিটিয়ে যাচ্ছে লজ্জায়।
বাতাসে বিদ্যমান অস্বস্তিকর নীরবতা আর ওদের দু’জনের
মধ্যে ছড়িয়ে আছে অনুচ্চারিত কিছু নতুন অনুভূতি- শুভ্রর
চোখজুড়ে থাকা নিঃশব্দ যত্ন আর অনিন্দিতার গালজুড়ে
ছড়িয়ে পড়া অনাবিল রক্তিম উষ্ণতা।
To be continued...
হালকার ওপর ঝাপসা রোমান্স কেমন লাগলো জনগণস্?😉
না জানিয়ে যাবেন না কিন্তু! |
0 Comments