গল্প: মেঘবরণ প্রেম (পর্ব:১৫)


লেখিকা: - আসফিয়া রহমান 
  
পর্ব:১৫

------------------




বাসায় ফিরে শুভ্র সেই যে উপরে নিজের ঘরে ঢুকেছে, এ

পর্যন্ত একবারও বের হয়নি। ডাইনিংয়ে খাবার সাজিয়ে

সোনালী বেগম সেই কখন থেকে ডাকছেন ছেলেকে, তবে

তার কানেই যেন পৌঁছাচ্ছে না সেসব ডাক। উপায়ান্তর না

পেয়ে সোনালী বেগম নিজেই এবার সিঁড়ি ভেঙে উপরে

উঠে এলেন।


সব গুলো পর্বের লিঙ্ক


দরজার সামনে এসে থেমে গেলেন সোনালী

বেগম। ঘরটা সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ। শুধু ঘড়ির কাঁটার মৃদু

টিকটিক শব্দটা শোনা যাচ্ছে। দরজায় টোকা দিলেন

তিনি, “শুভ্র? অ্যাই ছেলে!"




ভেতর থেকে কোনো শব্দ এলো না। কপালে হাত ঠেকিয়ে

নিঃশ্বাস ফেললেন সোনালী, তারপর হাত বাড়িয়ে দরজার

নব ঘোরালেন। দরজাটা খোলা। আলো নিভিয়ে রেখেছে

ছেলেটা। অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করতেই দৃশ্যমান হলো

জানালার মুখ করে বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে শুভ্র।

জানালার গ্রিল ভেদ করে একফালি চাঁদের আলো এসে

পড়েছে ওর মুখে। সোনালী বেগম মুগ্ধ দৃষ্টি ফেললেন

ছেলের মুখে। তার ছেলেটা দেখতে-শুনতে চাঁদের চেয়ে

কোন অংশে কম নয়। 




সদ্য জন্মানো সন্তানের চাঁদের মত মুখখানা দেখে সোনালী

অতি আহ্লাদে তার নাম রেখেছিলেন শুভ্র। তাহমিদ

রায়হান শুভ্র। অতীত থেকে বেরিয়ে এসে সোনালী খেয়াল

করলেন তার অতি আদরের ছেলেটা অন্যদিনের তুলনায়

আজ একটু বেশিই নির্লিপ্ত। মা এসেছে তার খেয়াল হয়নি

এখনো। অন্যমনস্ক চোখের দৃষ্টি নিবদ্ধ দূরে কোথাও—

হয়তো বাইরে, আকাশে, কিংবা হয়তো নিজের

অগোছালো ভাবনার দিকে।




“শুভ্র? এখানে বসে আছো কেন? আমি খেতে ডাকছি

সেই কখন থেকে! বসে থাকতে থাকতে তোমার আব্বু

খাওয়া শুরু করেছে...” সোনালী বেগম এগিয়ে গিয়ে ওর

পাশে দাঁড়ালেন।




শুভ্র মাথা ঘুরিয়ে তাকাল না, শুধু ঠোঁট নাড়ল মৃদুস্বরে,



“তুমিও খেয়ে নাও, আম্মু। আমি খাব না, ভাল্লাগছে না।”




“ভাল্লাগছে না, কেন? মন খারাপ?"




শুভ্র উত্তর দিল না। নিঃশব্দে জানালার ফাঁক দিয়ে

তাকিয়ে রইল বাইরের জোৎস্নার আলোছায়ার খেলায়। 




সোনালী বেগম ছেলের পাশে বসতে বসতে নরম গলায়

বললেন, "আম্মুকে বলবি না?"




শুভ্র এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর ধীরে একটা

নিঃশ্বাস ফেলল। ভারী, গলায় আটকে থাকা দীর্ঘশ্বাসের

মতো শোনাল সে শব্দ।




সোনালী বেগম আবার বললেন, "বিকেলবেলা ওভাবে

ড্রইংরুম থেকে বেরিয়ে গেলে কেন, সবাই হতবাক হয়ে

গেছিল!”




শুভ্র এবার চোখ ফিরিয়ে তাকালো মায়ের মুখে, এক মুহূর্ত

চুপ থেকে দৃঢ় গলায় বলল, “আম্মু, আমি কিচ্ছু জানি না,

তুমি আর আব্বু কালই রাবেয়া আন্টির সঙ্গে কথা বলবে।”




সোনালী বেগম অবাক হয়ে তাকালেন ছেলের দিকে,

“রাবেয়া আন্টি? মানে... অনিন্দিতার মা?”




"হ্যাঁ!"




"রাবেয়া আপার সাথে কী কথা বলবো?"



"বিয়ের প্রোপোজাল দেবে।" 




ছেলের নির্লিপ্ত কন্ঠ শুনে হতভম্ব হয়ে তাকালেন সোনালী

বেগম, "বিয়ের প্রোপোজাল মানে? কার সাথে কার

বিয়ে?"




শুভ্র মায়ের দিকে গম্ভীর মুখে তাকিয়ে বলল, "তোমার

ছেলের বিয়ে।"




সোনালী বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। ছেলের মুখের

দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলেন— ও মজা করছে,

নাকি সত্যি বলছে। কিন্তু এই মুহূর্তে শুভ্রর চোখে যে

একরোখা দৃঢ়তাটা বিরাজ, সেটা মায়ের চেনা। ছেলেটা

যখন এমনভাবে কোনো কথা বলে, তখন আর কিছুতেই

সেখান থেকে ফেরানো যায় না ওকে।




“তুমি কি সিরিয়াস?”




"থাউজেন্ট পার্সেন্ট!”




"কিন্তু, অভিকের মা যে আজ..."



কথাটা সমাপ্ত হবার আগেই বিকেল থেকে ধিকিধিকি করে

জ্বলতে থাকা চাপা আগুনটা এবার আচমকাই

দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ল শুভ্রর সমস্ত মস্তিষ্ক জুড়ে। ঠান্ডা

কন্ঠস্বরে মায়ের কথা মাঝপথে থামিয়ে দিল ও, 




"রাবেয়া আন্টির সাথে তোমরা কালই কথা বলবে, অ্যান্ড

দ্যাটস ফাইনাল! অনিন্দিতাকে নিয়ে কোনোরকম রিস্ক

নিতে রাজি না আমি।"




সোনালী বেগম যেন অবাক হতেও ভুলে গেলেন এবার।

বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেমন থরথর করে উঠল। শান্তশিষ্ট

ছেলেটার এই জেদি রূপের সাথে পরিচিত নন তিনি।

ছেলের মুখে কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ তাকিয়ে রইলেন

সোনালী। তারপর মৃদু কন্ঠে বললেন,




“শুভ্র... তুমি বুঝে শুনে কথা বলছো তো? বিয়ে কিন্তু

 কোনো—”




শুভ্র উঠে দাঁড়াল হঠাৎ। জানালার গ্রিল ঘেঁষে দাঁড়াল

গম্ভীর মুখে, “আমি ভেবেই বলছি, আম্মু। অনিন্দিতার

ব্যপারে অন্যকারোর বিন্দুমাত্র আগ্রহ সহ্য করবো না

আমি।"




সোনালী বেগমের কপাল ভাঁজ পড়ল, "অভিকের মা তো

শুধু প্রস্তাবটা তুলেছিলেন..."




“তুলবে কেন!" শুভ্রর কণ্ঠে কঠিন তীব্রতা, সোনালী


বেগমের কানে প্রতিটি শব্দ শোনালো ধারালো অস্ত্রের

মতো, “অনিন্দিতা আমার, শুধু আমার।"




শেষের শব্দক'টা উচ্চারণের সময় শুভ্রর বুকটা ওঠানামা

করছিল তীব্রভাবে। গলার শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে

উত্তেজনায়।




সোনালী বেগম স্থির হয়ে গেলেন কয়েক মুহূর্তের জন্য।

তারপর ধীরস্বরে সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করলেন এবার,



“তুমি অনিন্দিতাকে ভালোবাসো?"




শুভ্রর চোখ এক মুহূর্তের জন্য মায়ের মুখে স্থির রইল—

তারপর ধীরে, খুব ধীরে, দৃষ্টি নামিয়ে নিল ও। ঠোঁট দুটো

শুকিয়ে এসেছে, কিন্তু কণ্ঠের দৃঢ়তা কমেনি এতটুকু।



“হ্যাঁ, আমি ভালোবাসি অনিন্দিতাকে।”




ঘরে নেমে এলো গাঢ় নীরবতা। শুভ্রর ভারী কন্ঠস্বর যেন

বারবার প্রতিধ্বনিত হলো বদ্ধ ঘরজুড়ে। জানালার বাইরে

থেকে ভেসে আসা বাতাসের মৃদু শোঁ শোঁ শব্দে ভাঙল সেই

নিস্তব্ধতা। সোনালী বেগম আস্তে করে একটা দীর্ঘশ্বাস

ফেললেন, বুকের ভেতর জমে থাকা হাজার প্রশ্ন একসাথে

বেরিয়ে এলো সেই নিঃশ্বাসের সঙ্গে।




“তুমি নিশ্চয়ই জানো, শুভ্র… একপাক্ষিক ভালোবাসার

কোনো পরিণতি হয় না। ওরও কি তোমাকে ভালো

লাগে?”




শুভ্র এক মুহূর্তের জন্য চোখদুটো বন্ধ করল, মানসপটে

ভেসে উঠল অনিন্দিতার লাজুক মুখখানা। সেই মুখখানার

দিকে তাকিয়ে কতবার যে ওর বুকের ভেতর অদ্ভুত এক

শান্তি নেমে এসেছে, শুভ্র নিজেও জানে না। চোখ বন্ধ


করতেই মনে পড়ে গেল সেদিন বিকেলবেলায় রৌদ্রছায়া

খেলা করা অনিন্দিতার গভীর চোখদুটো, মৃদুমন্দ হাসির

সঙ্গে লজ্জায় রক্তিম হয়ে যাওয়া গালদুটি, আর কথা

বলার সময়ে গলার স্বরের ওই মৃদু কাঁপন।




মৃদু নিঃশ্বাস ফেলে শুভ্র বলল, “ওর চোখ আমি দেখেছি,

আম্মু। সেই চোখে আমার জন্য অনুভূতি আছে, খানিকটা

হলেও আছে।" 




"যদি তুমি ভুল বুঝে থাকো?”



শুভ্র এবার চোখ খুলে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল মায়ের দিকে।

শান্ত, থমকে যাওয়া সে দৃষ্টি। তারপর হঠাৎ করেই ওর মনে

পড়ল সেদিন সন্ধ্যায় ছাদের মুহূর্তটা। ওর শক্তপোক্ত

হাতের দৃঢ় বাঁধনে আটকা পড়ে মেয়েটা ক্ষীণ কন্ঠে স্বীকার

করেছিল, শুভ্রর প্রতি ওর অনুভূতি আছে, খুব সামান্য

একটু হলেও আছে… বাকিটা নাহয় শুভ্রই পুষিয়ে নেবে! 




কিন্তু মেঘফুলকে ওর চাই। যেকোনো মূল্যে চাই। আর

সেটা খুব দেরি হয়ে যাবার আগেই।




সোনালী বেগম কিছুক্ষণ নিরবে ছেলের মুখের দিকে

তাকিয়ে রইলেন। তারপর মৃদু নিঃশ্বাস ফেলে নিঃশব্দে

বললেন, "তোমার অনুভূতি পরিষ্কার, তবে অনিন্দিতার

অনুভূতিটাও তো বুঝতে হবে, শুভ্র।" সোনালী বেগম এক

মুহূর্ত থেমে আবার বললেন, "ভালোবাসা জোরজবরদস্তি

করার জিনিস নয়..."





"অনিন্দিতাও আমাকে পছন্দ করে আম্মু।"



ছেলের গম্ভীর কন্ঠস্বরে মাঝপথেই থেমে গেলেন সোনালী।



সোনালি বেগম নিঃশব্দে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন

কিছুক্ষণ। তারপর নিঃশ্বাস ফেলে ধীরে বললেন,



"তুমি যদি এতটা নিশ্চিত হয়ে থাকো… তবে আমি কথা

বলব। কালই।”




শুভ্রর ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটলো মুহূর্তেই,



“থ্যাংক ইউ, আম্মু…”




২৯. 



"আন্টিকে আম্মুর কাছে আপনি পাঠিয়েছেন, শুভ্র?".




শুভ্র এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর শান্ত গলা উত্তর

দিল, "হ্যাঁ পাঠিয়েছি।"




অনিন্দিতা নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে রইল শুভ্রর চোখে।

অনেকক্ষণ পর কাঁপা গলায় বলল, "কেন?"




শুভ্র দু’পা এগিয়ে এসে একদম কাছাকাছি দাঁড়ালো, তবে

স্পর্শ করল না মেয়েটাকে। চোখে চোখ রেখে নিঃশব্দে

বলল, "জানো না?"




অনিন্দিতা অবুঝের ন্যায় মাথা নাড়লো, না ও জানে না! ও

সত্যিই এখনো জানে না, নিজের ভালোবাসার মানুষটার

জন্য তাহমিদ রায়হান শুভ্র নামের এই সুদর্শন পুরুষ ঠিক

কোন পর্যায়ের পাগলামি করতে পারে।




শুভ্র গভীর নিঃশ্বাস নিল। তারপর খুব ধীরে, নিচু গলায়

বলল, "মাঝের এই দূরত্বটুকু ঘুচিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে

পাঠিয়েছি, ম্যাডাম! আপনাকে দূরে দূরে রাখলে বুকের

এপাশটায় ব্যথা করছে আজকাল। এই অজানা অসুখের

প্রতিষেধক হিসেবে আমার আপনাকে চাই..."




মেয়েটা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল কয়েক পল। সেই দৃষ্টিতে

বিষ্ময় ছাড়া আরও কিছু ছিল কিনা শুভ্র জানে না।




ও মেয়েটার কাছাকাছি ঝুঁকে এলো, এতটাই কাছে যে

অনিন্দিতার এলোমেলো নিশ্বাস অবাধে ছুঁয়ে গেল ওর

গ্ৰীবাদেশ।




অনিন্দিতার ঠোঁট কেঁপে উঠল অনেক্ষণ পরে, "দ…দূরত্ব

কোথায়? আমরা তো—"




শুভ্র ধীরে, খুব ধীরে মাথা নাড়ল, "আমরা কাছেই আছি,

মেঘফুল। কিন্তু এই যে, চাইলেই যখন-তখন আমি

তোমাকে দেখতে পাই না, চাইলেই তোমার এই তুলতুলে

শরীরটা নিজের সাথে আষ্টেপৃষ্টে মিশিয়ে নিতে পারি না,

এর কষ্ট তুমি বোঝ?"




অনিন্দিতা নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল শুভ্রর দিকে।

ঠিক সেই মুহূর্তে ওর মনে হলো, পৃথিবী থমকে গেছে।

নভেম্বরের মৃদুমন্দ ঠান্ডা হাওয়া, সেই হাওয়ায় গাছের

পাতার হালকা কাঁপন... সবকিছু যেন স্থির। শুধু শুভ্রর

কণ্ঠের ভার আর ওর বুকে ধকধক শব্দটাই শোনা যাচ্ছে।




ওর গলাটা শুকিয়ে এলো সহসাই, "শুভ্র…"




শুভ্র এতটাই কাছে এসে দাঁড়িয়েছে যে ওর উষ্ণ দমকা

নিঃশ্বাস একের পর এক অনিন্দিতার গলার ত্বক ছুঁয়ে

যাচ্ছে অবাধে।




শুভ্র ফিসফিস করে ডাকলো, "অনিন্দিতা?”



অনিন্দিতা কেঁপে উঠলো, জবাব দিল না।




শুভ্রর চোখদুটো অনিন্দিতার রক্তিম মুখমণ্ডল স্ক্যান করে

থেমে গেল মেয়েটার কাঁপা ঠোঁটের উপর। এক হাত

বাড়িয়ে মেয়েটার সরু কোমর আঁকড়ে ধরে শুভ্র ওর

কানের কাছে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল, "আমাকে

ভালোবাসো, মেঘফুল?"




অনিন্দিতার নিঃশ্বাস যেন আটকে গেল হঠাৎ। বলিষ্ঠ

হাতের শক্ত বাঁধন কোমরের চারপাশে জাপটে বসতেই

বুকের ভেতর অদ্ভুত দোলা উঠল।





শুভ্রর প্রশ্নটা ওর কানে নয়, সোজা হৃদয়ের ভেতর

বাজলো।




অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে ফেলল অনিচ্ছায়। শরীরটা

কাঁপছে মৃদু মৃদু লজ্জায়, ভয়ে, আর অচেনা দোলাচলে।

প্রশ্নটার কী উত্তর দেবে ও? ওর ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু শব্দ

বের হচ্ছে না। মানুষটার প্রসস্থ বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলার

মতো অনুভূতি তীব্রভাবে চেপে ধরল ওকে।




কিছুক্ষণ পর অনিন্দিতা খুব আস্তে, খুব ভাঙা গলায়

বলল, “আমি… আমি জানি না…”





শুভ্রর আঙুলগুলো সরু কোমরের ওপর শক্ত হলো

সহসাই।





“জানো।” শুভ্রর কণ্ঠস্বর ঠান্ডা, শীতল, “তোমার এই

নিঃশ্বাসের কাঁপন, চোখের এই ভয়-লজ্জা-মুগ্ধতা মিশে

থাকা চাহনি বলে দিচ্ছে তুমি আমায় ভালবাসো কি না।

আমার কাছে এলে তোমার বুক কাঁপে, শ্বাস-প্রশ্বাস

অগোছালো হয়… এরপরেও এমন বাজে মিথ্যে বলবে

তুমি, মেয়ে?”




অনিন্দিতা চোখ নামিয়ে নিল, দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল

ঠোঁটের নিম্নাংশ। শুভ্র সেদিকে চেয়ে বড্ড বেশি বেশামাল

হলো। বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠল মুহূর্তে--

অনিন্দিতার দাঁতে চেপে ধরা গোলাপি অধর, অগোছালো

 নিঃশ্বাস… মুহূর্তেই ওর মনে পড়ল সেদিন বিকেলের উষ্ণ-

ঘনিষ্ঠ মুহূর্তটা। আর এতক্ষণ ধরে কঠিন পরীক্ষার মুখে

দাঁড়িয়ে থাকা সমস্ত সংযমের বাঁধ ধ্বসে পড়ল তখনই।




শুকনো ঢোক গিলে শুভ্র এক হাত তুলে অনিন্দিতার

চিবুকের নিচে আলতো স্পর্শ করল, ধীরে ধীরে মাথাটা

ওপরে তুলতে বাধ্য করল মেয়েটাকে। অনিন্দিতার

চোখদুটো ভীষণ অনিচ্ছায় ওপরে উঠল, শুভ্রর নেশাক্ত

চোখের সঙ্গে মিশতেই বুক কেঁপে উঠল মেয়েটার।




শুভ্র নিচু গলায় বলল, "আই ওয়ান্না টেস্ট ইওর সফ্ট

লিপস এগেইন, কিউটি পাই!"



অনিন্দিতার নিঃশ্বাস আটকে গেল।


ওর ঠোঁট এখনো কামড়ে ধরা, শুভ্র ক্রমশ কাছে এগিয়ে

আসছে- এতটাই কাছে যে ওর উষ্ণ শ্বাসের দমকা বাতাস

এখন সরাসরি ছুঁয়ে যাচ্ছে মেয়েটার গোলাপী ওষ্ঠদ্বয়।




অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে ফেলল। শুভ্র ধীরে, খুব ধীরে

ওর গালের পাশ বুলিয়ে নামিয়ে আনল হাত, থেমে গেল

ঠিক কম্পমান ঠোঁটের ওপর এসে। অনিন্দিতা এবার

কেঁপে উঠলো দৃশ্যমান রূপে। হাত বাড়িয়ে ধরে ফেলল

শুভ্রর অবাধ্য হাতটা। 




"ক-ক-কেউ চলে আ-আসবে, শ-শ-শুভ্র..."




খড়খড়ে বৃদ্ধাঙ্গুলের নিচ থেকে মসৃণ ঠোঁটজোড়া নাড়িয়ে

কথা বলতে বড্ড কষ্ট হলো অনিন্দিতার। হৃদপিন্ডের সাথে

সাথে হাত-পা কাঁপছে সমানতালে। শুভ্রর হাত ধরে ফেলা

হাতটাও কাঁপছে। 




শুভ্র সেদিকে চেয়ে হাসলো। সেদিন অতর্কিত আক্রমনটার

জন্য মেয়েটা প্রস্তুত ছিল না। তাই বাঁধা দেবার সময়-

সুযোগ কোনোটাই পায়নি। শুভ্র নিজেও সেদিন হুঁশে ছিল

না। মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলার ভয় ওকে জেঁকে ধরেছিল

ভয়াবহভাবে। তার ফলস্বরপ হুঁশ খুইয়ে অমন বেসামাল

আচরণ করেছিল সেদিন। 




কিন্তু প্রথম দিনের মতো আজও মেঘফুলের অনুমতি

চেয়েছে ও। মেয়েটা সেদিনও অনুমতি দেয়নি, আজও যে

দেবে না, সেটা বুঝে গেল শুভ্র। তাই থুতনিতে হাত রেখে

গোলাপি অধরজোড়ায় শব্দ করে একটা চুমু খেয়ে সরে

এলো তখনই। সরে আসার আগে চোখ-মুখ খিঁচে লজ্জায়

লাল হয়ে যাওয়া মেয়েটার কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলে

এলো, 




"ম্যাডাম! এখন ছেড়ে দিচ্ছি বলে এটা ভেবে বসবেন না

যে, আমি খুব সুপুরুষ! সম্পর্কটা এখনো হালাল হয় নি,

তাই বেঁচে গেলেন এযাত্রাতেও। তবে এটা হালাল করতে

খুব বেশি সময় নেব না আমি, সো গেট ইওরসেল্ফ রেডি টু

কো-অপারেট উইথ মি, মাই রেড চেরি...!"



To be continued...

 

Post a Comment

0 Comments

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন। ×