![]() |
লেখক: সাইফুল ইসলাম সজীবপর্বঃ- ০৬----------------তৌহিদকে খুন করে লিমন পালিয়ে গেছে এটা ছড়িয়ে গেছেমুহূর্তেই। থানায় খবর দেওয়া হয়েছে মেসের মধ্যের সকলসদস্য জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সকলের মনে একটাআতঙ্ক, কিন্তু খুনটা যে লিমন করেছে সেটা নিয়ে অনেকেরমনে যেন সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে।যেহেতু লিমন নিখোঁজ, তাছাড়া তাকে আসতে বা যেতে কেউদেখেনি তাহলে কীভাবে লিমন এসে খুন করেছে? তাছাড়াতমালের সঙ্গে মাগরিবের পরে তৌহিদের খানিকটা ঝগড়া হয়েছে। তৌহিদ কিছু টাকা পাবে তমালের কাছে, সেই টাকারজন্য একটু কথা কাটাকাটি। তমাল এমনিতেই একটু উশৃংখলটাইপের ছেলে, গাজা-টাজা খায় আবার স্থানীয় কিছু বাজেছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দেয়।পুলিশ আসার পরে যখন জিজ্ঞেসাবাদ করা হয় তখন সবাইতমালের কথাটা বলে।কিন্তু পরক্ষণে যখন রক্তমাখা গেঞ্জিটা মাহিম পুলিশেরসামনে দেখিয়ে দেয় তখন মোটামুটি চুপ করেসবাই।" পুলিশ তমালকে বললো, তোমরা কি নিশ্চিত যে ওইছেলেটা লিমনই ছিল? "" হ্যাঁ স্যার, রুমের মধ্যে গান বাজছিল, আমরা সামান্যকৌতুহল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তার একটু পরেই দরজা খুলেলিমন বের হলো, আমাদের দেখে স্বাভাবিক ভাবেই বললোযে তৌহিদ অসুস্থ তাই সে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে। কিন্তুআমরা রুমে ঢুকে যখন দেখি তৌহিদের লাশটা পরে আছেতখন রাস্তায় নেমে কোথাও দেখিনি। "" লিমন রক্তমাখা গেঞ্জি রেখে গেল কেন? পরনে কি কিছুছিল? "" স্যার লিমনও তো এই রুমে থাকতো আর রুমে তার অনেককাপড়চোপড় আছে। রক্তমাখা গেঞ্জি পরিবর্তন করে ফ্রেশএকটা পরে গেছে হয়তো, যেন কিছু বুঝতে না পারি। "" লিমনের সঙ্গে তৌহিদের সম্পর্ক কেমন ছিল? মানে বন্ধুত্বসৃষ্টি হয়েছে নাকি মনকষাকষি? "" স্যার.. খুব ভালো বন্ধু ছিল ওরা, যেদিন রাতে লিমনের মা-বাবা খুন হয়েছে সেদিন সেই গভীর রাতে তৌহিদ সঙ্গে গেছে। "" লিমনের মা-বাবা কীভাবে মারা গেছে? "" শুনেছি খুন করা হয়েছে, কিন্তু কারা জড়িত বা কিসের জন্য তা জানি না। "" ঠিক আছে, আমরা লাশ নিয়ে যাচ্ছি, যেকোনো সময়যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারি।মেসের কোন সদস্য খুলনা থেকে বের হবে না,পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া পর্যন্ত মেসে থাকবে।★★ সাজু ভাই তাদের স্থানীয় বাজারেগিয়ে সিমকার্ড রিপ্লেস করে এনেছে।জরুরি প্রয়োজনে নাম্বার চালু রাখা একান্ত জরুরি,রাজু তাকে বলেছে যে সকল সিম নাকি রিপ্লেস করা যায়তাদের বাজারে তাই রিপ্লেস করে এনেছে।বাড়িতে ফিরে দাদার মোবাইলে নিজের সিম লাগিয়ে নিল,তার দাদার কাছেও এন্ড্রয়েড ফোন কারণ সাজুর বাবার সঙ্গেও সাজুর সঙ্গে সবসময় ভিডিও কলে কথা হতো। সিম চালু করে সে অপেক্ষা করতে লাগলো, যদি তৌহিদআবারও কল দেয়? তবে তখন ছিল রাত এগারোটার মতো,ততক্ষণে তৌহিদ খুন হয়ে গেছে কিন্তু সাজু জানে না। ডিনার করে বিছানায় শুয়ে কবিতার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছেকরছিল, আর তাই মুখস্থ নাম্বারটা ডায়াল করলো। " কবিতা রিসিভ করে বললো, যে মানুষটা বাড়িতে গিয়েইসঙ্গে সঙ্গে কল দেবার কথা সে আজকে কল দিল। তারমানেকি মাত্র বাড়িতে গেছে? "" তুমিও তো খবর নিলে না, অসুস্থ শরীর নিয়ে গ্রামেরবাড়িতেআসলাম। একটা কল দিয়ে তো জিজ্ঞেস করলে না, কেমনআছেন সাজু ভাই? "" আমি যে কারো উপর মেলা মেলা অভিমান করে আছি,সেটা বোঝার ক্ষমতা কি তার আছে? "" অসুস্থ মানুষের উপর রাগ করতে নেই, কারণ হুট করে মরেগেলে আফসোস করতে হবে। "" একদম মুখ ভেঙ্গে দেবো। "" কেন? মানুষ মরতে পারে না? "" তুমি আমাকে বিয়ে করবে তারপর আমরা দুজন একসঙ্গেসংসার করবো,আমাদের বাচ্চা হবে, তারপর দুজনেই মারাযাবো। "" মৃত্যু কি কখনো সংবাদ দিয়ে আসে? "" তবুও মানুষ কিন্তু স্বপ্ন আর আশায় বেঁচে থাকতে চায়, তাইনা সাজু? "" আমার শরীর সত্যি সত্যি খুব খারাপ, কিন্তু এমন একটামামলায় জড়িয়ে গেলাম যে অসমাপ্ত রেখে কোথাও যাওয়াযাবে না। "" বেঁচে থাকলে এমন অসংখ্য মামলার রহস্য বের করতেপারবে, তুমি কিন্তু আমার নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই মামলায়জড়িয়ে গেছ। আর সেজন্যই কিন্তু তোমার প্রতি আমারঅসংখ্য অভিমান আর মনের মধ্যে কষ্ট। "" কষ্ট কেন? "" এখনো আমার কোন কথার গুরুত্ব তোমার কাছে নেই তাইকষ্ট লাগে। "" তুমি তো ভালো করে জানো যে আমি তোমাকে কতটা সময়দেই। "" জানি, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য। হতভাগা এই কবিতারজীবনে তোমার মতো মানুষের ভালবাসা পাওয়া সত্যিইভাগ্যের। "" পৃথিবী বড্ড অদ্ভুত কবিতা,যে মানুষটা অনেক সাধনা করে তার প্রিয় মানুষটাকে চার,আল্লাহ সেই মানুষটাকে তাকে দেয় না।নিষ্ঠুর পৃথিবী যেন আজকাল আর কারো কষ্ট বোঝে না,একজনের ভালবাসা নিয়ে যায় অন্য কেউ। "" তুমি আমাকে সারাজীবন একসঙ্গে রাখবে তো? শুধুতোমারহয়ে থাকতে চাই। "" যদি কোনদিন বিয়ে নাও করি তবুও তোমাকে আমার মনেরমধ্যে রাখবো আজীবন। আর যদি বিয়ে হয়ে যায় তাহলে তোস্বপ্ন পূরণ হবে, তাহলে তো সমস্যা নেই। "" এখনো আমাকে যদির মধ্যে থাকতে হবে? "" কথার কথা বললাম। "" খেয়েছ রাতে? "" হ্যাঁ, তুমি? "" না খাবো একটু পরে। সন্ধ্যার পরে ঘুমিয়েছিলাম আরএকটুআগে ঘুম থেকে উঠে এশার নামাজ পড়লাম তাই দেরি হচ্ছে। "দুজনের মধ্যেই কথা চলে অজস্র, সবকিছু হয়ত আমাদেরজানার দরকার নেই তাই আপাতত তাদের কথোপকথন বন্ধরাখলাম।দেড় ঘন্টা কথা শেষ করে সাজু অনলাইনে গেল,বেশ কিছু মেসেজ জমা আছে।সেই মেসেজের ভিড়ে লিমনের আইডিদিয়ে মেসেজ দেখে সাজু অবাক হয়ে গেল।লিমন লিখেছে:-সাজু ভাই,আসসালামু আলাইকুম, আর কেমন আছেন সাজু ভাই?আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।এই কিছুক্ষণ আগে আপনারনাম্বারে কল দিলাম কিন্তু নাম্বার বন্ধ। আমি এখনভৈরব নদীর তীরে সেই চরেরহাটএলাকায় রাতের উত্তাল ঢেউখেলানো শব্দের কাছে দাঁড়িয়ে আছি। একটু আগে তৌহিদকে খুন করে এলাম, হয়তো সামনে আরও বেশি বাড়তেপারে। আগের দুটো খুন আমি করিনি তবু আমাকে ফাঁসানোহয়েছে, তৌহিদ আমার সঙ্গে বেঈমানী করেছে সাজু ভাই।আপনি কখনো সেই চিরকুট পেয়ে বিশ্বাস করবেন না, কারণআমি যাদের খুন করবো তাদের কথা আপনাকেই শুধুজানাবো। কখনো চিরকুট লিখবো না।কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল সাজু, সামান্য কিছু সময়মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে মাথাব্যথা শুরু করেছে। কিন্তুতৌহিদ খুন হয়েছে সেটা তাকে খুব ব্যথিত করছে, কিছু কিছুযায়গায় কল দিতে হবে কিন্তু কারো নাম্বার নেই।তৌহিদ নাকি বেঈমানী করেছে, গতকাল বিকেলে তার সঙ্গেকথা বলতে বলতে মোবাইল পানিতে পরে গেছিল। তৌহিদতাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বলতে পারেনাই। সে হয়তো বুঝতে পেরেছিল তাকে খুন করা হবে তাইএকদম শেষ মুহূর্তে স্মরণ করেছিল।কিন্তু সেই বেঈমানীটা কি...?কিসের জন্য তাকে খুন হতে হয়েছে..?★★ গল্পটা নিয়মিত সবার আগে পড়তে আমার এই পেইজেরইসঙ্গে থাকুন।
|

0 Comments