গল্প: মেঘবরণ প্রেম (পর্ব:১২)

 

লেখিকা: আসফিয়া রহমান 

  

পর্ব:১২

------------------



২২.



"হাই! আপনি ইরা?"



"জ্বী! আপনি?"




"আমি অভিক, অভিক মাহবুব। প্লিজ হ্যাভ আ সিট!" 



ইরা পার্সটা টেবিলের ওপর রেখে চেয়ার টেনে বসলো। দু

সেকেন্ডে যতটুকু দেখেছে সামনে বসা অভিক নামের

ছেলেটাকে তাতে ওর মনে হলো, ছেলেটা ভদ্র! ছেলেটার


বেশভূষাও বেশ পরিপাটি। ব্ল্যাক কালার শার্টটার হাতা

গোটানো কনুই পর্যন্ত। বাঁ হাতের কব্জিতে দামী ঘড়ি। কালো

ফ্রেমের চশমাটার ভেতর দিয়ে দৃশ্যমান একজোড়া গম্ভীর

বুদ্ধিদীপ্ত চোখ।


সব গুলো পর্বের লিঙ্ক




ইরা এক পলক দেখেই চোখ ফিরিয়ে নিল। দু’জনের মাঝে

বিরাজমান অস্বস্তিকর নীরবতা।




অভিক গলা পরিষ্কার করে জিজ্ঞেস করল,


"আপনার বাড়িতে কে কে আছে, মিস ইরা?"



"এইতো... মা, বাবা আর আমি..."



"ওহ্! আপনি কি এখনো পড়াশোনা করছেন?” 



“হ্যাঁ, অনার্স... দ্বিতীয় বর্ষে।”



“তাই? কোন বিভাগে?" অভিক মাথা নেড়ে বলল, "আমি

ভাবছিলাম, হয়তো পড়াশোনা শেষ করে ফেলেছেন।”



ইরা এতক্ষণ একটু ইতস্তত করে কথা বললেও এবার হেসে

ফেলল, “না, এখনো না! ইংরেজি বিভাগ। ক্লাস, প্রেজেন্টেশন,

এসাইনমেন্ট— সব মিলিয়ে জীবন মোটামুটি যুদ্ধক্ষেত্র।”



অভিক মৃদু হেসে বলল, “আই আন্ডারস্ট্যান্ড! মেডিকেলে

আমরাও এমনই ছিলাম। এখন একটা প্রাইভেট মেডিকেলে

আছি। ইন্টার্নশিপ শেষ করে গত বছরই জয়েন করেছি।”



“ওহ! ব্যস্ত মানুষ তাহলে!”



“একরকম তাই বলা যায়,” অভিক হেসে জবাব দিল, “তবে

আজকের বিকেলটা কিন্তু পুরোপুরি আপনার জন্যই

রেখেছি।”



ইরা অবাক হয়ে তাকাল, পরপর মুচকি হাসল,


"থ্যাংক ইউ! আমার জন্য সময় রাখার জন্য।”



"কফি খাবেন?"



"হ্যাঁ, খেতে পারি!"



অভিক ওয়েটারকে ডেকে দুটো ক্যাপুচিনো অর্ডার দিল।


ওয়েটার চলে যেতেই টেবিলে আবার নেমে এলো সেই

নীরবতা। তবে আগেরর মতো অস্বস্তিকর নয়, বরং খানিকটা

স্বস্তিমিশ্রিত।



“তো... ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স করছেন, তাই না?” অভিক

আলতো ভঙ্গিতে কথার সূত্র ধরল।



“হ্যাঁ,” ইরা ওড়নার প্রান্তটা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বলল,

“ছোটবেলা থেকেই টুকটাক বই পড়তে ভালো লাগত। তাই

ভাবলাম, যেটা ভালো লাগে, সেটাকেই বেছে নিই।”



“চমৎকার। যারা নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেয়, আমি বরাবরই

তাদের প্রতি খানিকটা ইমপ্রেসড!" অভিকের গলায় মৃদু হাসির

সুর।



ইরাও হাসল, “আপনারও নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে, যেটা

পছন্দের?”



“অবশ্যই,” অভিক বলল, “মানুষের মুখের অভিব্যক্তি পড়া

আমার ভীষণ পছন্দের। রোগী হোক বা সাধারণ কেউ... আমি

মানুষ পড়তে পছন্দ করি!"



ইরা এক মুহূর্ত চুপ করে রইল, তারপর মৃদু কৌতূহল নিয়ে

বলল, “তাহলে আপনি এখন আমার মুখে কী পড়লেন?”



অভিক ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি টানল, 


“আপনার চোখ বলছে আপনি একটু নার্ভাস... কিন্তু একই

সঙ্গে কৌতূহলীও।”



ইরা হাসতে হাসতে মাথা নাড়ল, “নাইস অবসারভেশন!”



ঠিক তখনই ওয়েটার কফি নিয়ে এলো। অভিক একটা কাপ

এগিয়ে দিল ইরার দিকে, "প্লিজ!"


ইরা কাপটা নিতে নিতে বলল, “আপনার মতো সিরিয়াস

পেশার মানুষরাও কী এমন সময় পায়? মানে, নিজের জন্য?”





“পায়,” অভিক কফিতে ধীরে চুমুক দিয়ে বলল, “যার জন্য

সময় দিতে ইচ্ছে করে, তার জন্য সবসময়ই সময় বের করা

যায়, মিস ইরা।”



২৩.



"এভাবে কী দেখছেন?"



"একটা ফুল, শুভ্রফুল, আমার মেঘফুল..."



অনিন্দিতা লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে ফেলল, "সবাই দেখছে,



শুভ্র!"



"কেউ দেখছে না..."



"ইরা দেখে ফেলবে!"



"ইরা এমনিতেও জেনে যাবে, চিল!"




"না! না প্লিজ! ইরাকে এক্ষুনি জানাবেন না প্লিজ! তাহলে

প্রীতিও জেনে যাবে। তারপর দুটো মিলে সারাদিন আমার

পেছনে লেগে থাকবে!"



শুভ্র হেসে ফেলল নিচু গলায়, “তাহলে এক কাজ করি—আমি

কাউকে বলব না, তবে এক শর্তে।”



অনিন্দিতা কপাল কুঁচকে তাকাল, “শর্ত?”



“হুঁ!” শুভ্র ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টানল, “এই যে ফুলটা

আমার— মানে, আমার মেঘফুল—" শুভ্র গলার স্বর নামিয়ে

বলল, “তাকে আজ বিকেলে আমার একটা ছোট্ট ইচ্ছে পূরণ



করতে হবে।”



“ইচ্ছেটা কী?” সন্দিগ্ধ গলায় জিজ্ঞেস করল অনিন্দিতা। 



"আজ বিকেলে আমার সঙ্গে হাঁটতে যেতে হবে।”



অনিন্দিতা হকচকিয়ে গেল, “কোথায়?”



“এত প্রশ্ন কেন? জায়গাটা সারপ্রাইজ, আর..."


"আর? আপনি না বললেন একটা শর্ত?"



"একটাই তো! আগেরটা ছিল ট্রেইলার, এবারেরটাই আসল..."

শুভ্র চোখ টিপল।



অমনি বিস্ময় লুকাতে না পেরে অনিন্দিতার চোখ দুটো হয়ে

উঠল মার্বেল আকৃতির। শুভ্র আগের থেকেও ফিসফিসে কন্ঠে

বলল, "আই ওয়ান্ট আ কিস, রাইট হেয়ার!"




শুভ্র আঙুলের ইশারায় নিজের বাঁ গালটা দেখাতেই

অনিন্দিতার চোখদুটো এবার বেরিয়ে আসবার উপক্রম!

পরমুহূর্তেই চেহারার রঙ পাল্টে ধারণ করল কৃষ্ণচূড়ার রঙ।



শুভ্র ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, "রাজি?"



“না! একদম না!” অনিন্দিতা মুখ ঘুরিয়ে ফেললো অন্যদিকে।



শুভ্র মুখটা গোমড়া করে ফেলল তৎক্ষণাৎ, “তাহলে আমি…

শুধু ইরাকে না, সবাইকে বলে দেব।”



অনিন্দিতা তৎক্ষণাৎ চোখ বড় বড় করে তাকাল, “শুভ্র!"



"আমি তো আগেই বলেছি, আমার শর্ত মানলে তবেই

আপনার কথা শুনবো। নয়তো নয়!" শুভ্র বিল পে করে উঠে

দাঁড়ালো। ঘাড় ঘুরিয়ে দুটো টেবিল পরে তাকিয়ে দেখল ইরা-

অভিক এখনো কথা বলছে। সেদিকে একপলক তাকিয়ে

সোজা দরজার দিকে হাঁটা ধরল ও।



শুভ্রকে বেরিয়ে যেতে দেখে অনিন্দিতা দ্রুত উঠে দাঁড়ালো।

তারপর ইরার টেবিলের দিকে একবার তাকিয়ে প্রায় দৌড়ে

গেল শুভ্রর পেছনে।



শুভ্র ততক্ষণে কফিশপের দরজা ঠেলে বেরিয়ে গেছে।

বিকেলের আলোয় ছায়া আর রোদ মিলেমিশে ঝাপসা উষ্ণতা

ছড়াচ্ছে চারিদিকে। রাস্তায় যানবাহনের কোলাহল, ফুটপাত

ধরে হাঁটছে লোকজন। শুভ্র দু’হাত পকেটে ঢুকিয়ে কোনদিন

না তাকিয়ে সোজা হাঁটছে।




“শুভ্র! থামুন!”



পেছন থেকে অনিন্দিতার হাঁপানো গলা। ও দৌড়ে এসে দাঁড়াল

শুভ্রর সামনে, কপালে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু, নিশ্বাস

অগোছালো।



“আপনি একদম... একদম খারাপ... শুভ্র!”



শুভ্র ভুরু তুলে তাকাল, “আমি কিছু করেছি বলে তো মনে

পড়ছে না! শুধু হাঁটছি।”



“হাঁটছেন? আমি ডাকছি, আপনি থামছেন না কেন?”



“কারণ আপনি এখনো রাজি হননি।”



“কিসের জন্য রাজি হব?”



শুভ্র চোখ ছোট করে বলল, “আমার শর্ত।”



“আবার সেই শর্ত!” অনিন্দিতা চোখ পাকাল।



শুভ্র গম্ভীর মুখ করে বলল, “আমি কি শর্ত বাতিল বলেছি?

শর্ত তো আছেই। সেটা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি কথা বলব

না আপনার সঙ্গে।”


“মানে?”



“মানে-টানে জানি না। আমি একটাও শব্দ বলব না, যতক্ষণ

না আপনি…” শুভ্র ইশারায় গালটা দেখিয়ে বলল, “এইখানে

একটা..." কথাটা অর্ধসম্পূর্ণ রেখেই চোখ টিপ দিল ও।



“কি?! এখন? রাস্তায়? আপনি পাগল?” অনিন্দিতা প্রায়

চিৎকার করল ফিসফিসে গলায়।



"তাহলে অন্য কোথাও চলুন!" শুভ্রর ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি।



অনিন্দিতা রাগে গাল ফুলিয়ে বলল, “থাক, কথা বলতে হবে

না!”



“ওকে!” শুভ্র পকেটে হাত ঢুকিয়ে সোজা হাঁটতে শুরু করল

আবার।



“শুভ্র!”



ও থামল না।



“শুভ্র, প্লিজ থামুন না!”



ও একবার ঘুরে তাকাল, তারপর মাথা নেড়ে ইশারা করল—

না, শর্ত পূরণ না হলে থামাথামি নেই!



অনিন্দিতা দাঁড়িয়ে রইল ক’মুহূর্ত, তারপর ফুস করে দম ছেড়ে

দৌড়ে গিয়ে হাঁটতে শুরু করল ওর পাশে পাশে, গাল ফুলিয়ে

বলল, “ঠিক আছে, কথা বলতে হবে না! কিন্তু আমি আপনার

পাশে পাশে হাঁটব। দেখি, কতক্ষণ চুপ থাকেন।”



গম্ভীর মুখে শুভ্র দ্রুত পা ফেলে হাঁটছে। অনিন্দিতা তাল

মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে তারসাথে। হঠাৎ করে অনিন্দিতা

দাঁড়িয়ে পড়লো। শুভ্র এগিয়ে গেছে খানিকটা। ও পেছন থেকে

ডাক দিল, "শুভ্র, একটু দাঁড়ান!"



শুভ্র হাঁটা থামিয়ে পেছন ঘুরে তাকালো, "কী হয়েছে?" 



"কাঁচের চুড়ি কিনব..." 



শুভ্র ভুরু তুলল, “চুড়ি? এখানে?”



"এখানে আসুন!" অনিন্দিতা হাত উঁচিয়ে ডাকলো ওকে।


ফুটপাতের এক কোণে হরেক রকম বাহারি কাঁচের চুড়ি


সাজিয়ে বসে আছেন এক প্রৌঢ়া। শুভ্র আসতে আসতে

অনিন্দিতা ততক্ষণে বসে পড়েছে চুড়িগুলোর সামনে।

একমুঠো নীল চুড়ি হাতে উঠিয়ে দেখছে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। শুভ্র

তাকিয়ে দেখল মেয়েটার ছেলেমানুষী উচ্ছ্বাস। শুভ্র কাছে

এসে দাঁড়াতেই চুড়িগুলো হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো মেয়েটা।

শুভ্রর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, 


"পরিয়ে দিন!"



শুভ্র অবাক হয়ে তাকালো, "আমি?"



অনিন্দিতা জোরে জোরে মাথা নাড়লো, "হুঁ!"



"ভেঙে যায় যদি?"


প্রৌঢ়া পাশ থেকে হাসলেন, “ভাঙতো না বাবা, পরায় দেও,

তুমার বউয়ের হাতে কিন্তুক খুব মানাইব।”



শুভ্র অনিন্দিতার দিকে চেয়ে দুষ্টু হেসে নিচু স্বরে বলল, “চুমু

খাওয়ার অনুমতি কিন্তু পেয়ে গেলাম, বউউউ...”


শেষের 'বউ' শব্দটা বলল টেনে টেনে। অনিন্দিতা রক্তিম

গালজোড়া ফুলিয়ে চোখ কুঁচকে তাকালো, “নির্লজ্জ কথা না

বলে পরিয়ে দিন তাড়াতাড়ি।”



শুভ্র হাসল। হাত বাড়িয়ে অনিন্দিতার পাতলা কব্জি ধরে

সাবধানে পরিয়ে দিল চুড়িগুলো। কাঁচের টুংটাং শব্দ উঠল

সহসাই, সূর্যের আলো পড়ে ঝকমক করে উঠলো।  



শুভ্র মুগ্ধ চোখে তাকালো। পরপর তাকালো প্রৌঢ়ার চুড়ির

ডালাটার দিকে। সেদিকে তাকিয়ে একমুঠো শুভ্ররঙা চুড়ি

পছন্দ হলো ওর। প্রৌঢ়া ওর হাতে তুলে দিলেন চুড়িগুলো।


অনিন্দিতার একহাতে নীল চুড়িগুলো, অন্যহাত খালি। শুভ্র

ওর খালি হাতটা টেনে চুড়িগুলো পরাতে শুরু করল।



অনিন্দিতা মিটিমিটি হাসছে আর দেখছে জনাবের কর্মকাণ্ড।

একটু আগেই নাকি কথা বলবে না বলে পণ করেছিল, এখন

এসব পাগলামি তবে কে করছে!



সবগুলো চুড়ি পরানো শেষ হতেই শুভ্র মেয়েটার দুহাত ধরলো

নিজের দুহাতে। তারপর পরম যত্নে এক এক করে প্রথমে ডান

হাত, পরপর বাঁ হাতে ছোঁয়াল তপ্ত ওষ্ঠদ্বয়। অনিন্দিতা চমকে

উঠলো এহেন কান্ডে। কৃষ্ণচূড়ার রঙ ছড়িয়ে পড়লো পুরো

বদনজুড়ে। লজ্জায় আইঢাই করে উঠে তড়িৎ চারপাশে

তাকালো মেয়েটা। 



রাস্তায় ব্যস্ত পথচারীর ঢল। যে যার মতো চলছে। এদিকে কেউ

তাকিয়ে নেই দেখে অনিন্দিতা যেই না স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো

অমনি আবারো ওকে বেজায় অস্বস্তিতে ফেলতে পাশ থেকে

প্রৌঢ়া হাসি হাসি মুখে বলে উঠলেন, 



"দুইজনরে কিন্তুক বেশ লাগে একসাথে দেখতে। যেন

একজোড়া রঙিলা পাখি। সবসময় এমন হাসিখুশি থাইকো

তোমরা...”



অনিন্দিতা ভীষণ লজ্জায় মুখ নামিয়ে ফেলল, শুভ্র হাসল

নিঃশব্দে, "থ্যাংক ইউ আন্টি! আপনার চুড়ির দাম কত হলো?"



"একশো বিশ। তোমাগো লাইগা একশো..."



"না, না, আন্টি, আমাদের জন্য দাম কমাতে হবে না!"


অনিন্দিতা মানা করলো প্রৌঢ়াকে। তবে তিনি রাজি হলেন না। 



"তোমাগো মতোন মহব্বত করা পায়রার জোড়া তো রোজ

রোজ দেখা যায় না, মা... তাই তোমাগো লাইগা কমে দিলাম।”



প্রৌঢ়া চুড়িগুলো কাগজে মুড়ে দিলেন যত্ন করে। শুভ্র পকেট

থেকে টাকা বের করে তাঁর হাতে দিলো, তারপর সেই কাগজ

মোড়ানো চুড়ির প্যাকেট দুটো ধরিয়ে দিলো অনিন্দিতার হাতে।



“নাও, বউ, আমার তরফ থেকে তোমার প্রথম উপহার।”



“বউ!” অনিন্দিতা চোখ রাঙাতে গিয়েও সামলে নিল নিজেকে,

"আমার পার্সে জায়গা হবে না, আপনার কাছে রাখুন।"



শুভ্র অবাক হয়ে তাকালো, "আমি কোথায় রাখবো?"  
  


"পকেটে!"  
  


প্যান্টের দু পকেটে দুটো প্যাকেট ঢুকিয়ে দেখা গেল শুভ্রকে

দেখতে হাস্যকর দেখাচ্ছে। অনিন্দিতা হাসি চাপতে চেয়েও

হেসে ফেলল। 



কফিশপে পৌঁছে ওরা দেখল ইরা-অভিক নেই সেখানে।

শুভ্রদের না পেয়ে বেরিয়ে গেছে বোধহয়। এখন শুভ্রর সাথে


ওকে গাড়িতে একা ফিরতে হবে ভেবে অনিন্দিতা তড়িঘড়ি


করে শুভ্রকে গাড়ির দিকে যাওয়া থেকে আটকালো, "ইয়ে,

শুভ্র? ইরাকে একটা কল দিন না! হতেও তো পারে ও

আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে কোথাও!"



অনিন্দিতার কথায় যুক্তি আছে ভেবে শুভ্র ফোনটা বের করে

কল দিল ইরার নাম্বারে। তিনবার রিং হতেই ফোনটা রিসিভ

হলো। 



— হ্যালো, ভাইয়া?



— কোথায় তুই?



— আমি... আমি তোমাদেরকে খুঁজলাম কতক্ষণ, পেলাম না

তো! তাই মানে... মিস্টার অভিক আমাকে ড্রপ করতে

চাইলেন...



— ওহ্, ওকে দেন! আমরাও ফিরছি কিছুক্ষণের মধ্যেই।

রাখছি, আল্লাহ হাফেজ!


কলটা কেটে ফোন পকেটে ঢুকাতে ঢুকাতে শুভ্র বললো,

"চলুন ম্যাডাম! আপনার বান্ধবী ওরফে প্রিয় ননদিনী এই

মুহূর্তে তার হবু বরের সাথে বাইক রাইড করছেন। আপনিও

কি আপনার হবু বরের সাথে কার রাইডে যেতে চান?"



To be continued...



ইরা-অভিক জুটি কেমন লাগলো পাঠক? বাই দ্য রাস্তা,

পরের পর্বটা কিন্তু ইট্টু রোমান্টিক হবে 👀 আগেই

বলে দিলাম! 🤫 আজকের পর্বে বেশি বেশি রেসপন্স পেলে

রোমান্টিক পর্বটা তাড়াতাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করব 😉

 

Post a Comment

0 Comments

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন। ×