পর্ব - ০৩লেখিকি:আসফিয়া রহমান
-----------------------
অনিন্দিতা গলা ভারী করে আবার বলল,
"তারমানে তুমি সত্যিই আমার সাথে রাগ করেছো?
মিথ্যে বললে আমাকে?"
মেয়েটার চোখের কার্নিশ বেয়ে জল গড়াচ্ছে। শুভ্র অসহায়
দৃষ্টিতে অনিন্দিতার দিকে তাকালো। তারপর হাত বাড়িয়ে ওর
পাতলা শরীরটা নিজের প্রসস্থ বক্ষে চেপে ধরল।
মেয়েটা ততক্ষণে সর্বশক্তি দিয়ে জাপটে ধরেছে ওকে। প্রসস্থ
বুকটায় মুখ গুঁজে একটা লম্বা নিঃশ্বাস টানল। শুভ্রর শরীর
কাঠ হয়ে গেল মুহূর্তেই। কী করছে মেয়েটা? নিজের পায়ে
নিজেই কুড়াল মারতে চাইছে নাকি?
কড়া পারফিউম আর পুরুষালি কোলনের গন্ধ মিলেমিশে
অনিন্দিতার জ্বরের ঘোরটা আরো বাড়ল যেন। শুভ্রর বুকে
মুখ গুঁজে রেখেই অনিন্দিতা ফিসফিস করে বলল, "তোমার
শরীর থেকে সুন্দর একটা গন্ধ আসছে..." বলেই শার্টের ওপর
দিয়ে নাক ঘষলো বুকে।
শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে সামলালো নিজেকে। তারপর বলল,
"তোমার গায়ে তো অনেক জ্বর। তুমি বালিশে শোও, আমি
ইরাকে ডাকছি, ঠিক আছে?"
অনিন্দিতা ওভাবে থেকেই বলল, "আরেকটু থাকি? তুমি তো
সবসময় আসো না..."
শুভ্রর বুকটা ভারী হল এবার। কষ্ট হলো মেয়েটার জন্য।
তারপর আস্তে করে অনিন্দিতাকে বালিশে শুইয়ে দিল, "আমি
এখানে আছি। কোথাও যাচ্ছি না, তুমি চোখ বন্ধ করো..."
"চোখ বন্ধ করলে চলে যাবে না তো?"
"না, যাব না! শুধু ইরাকে ডেকে আনবো..."
"আচ্ছা ইরাকে ডেকে আনো। আমি ইরাকে বলি যে, আমি
তোমার সাথে বাসায় চলে যাচ্ছি..."
শুভ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো। অনিন্দিতার
গায়ের কম্বলটা ঠিক করে দিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
শুভ্র ইরার ঘরের দরজায় নক করল। ইরা দরজা খুলে শুভ্রকে
দেখে উচ্ছসিত গলায় বলল, "তুমি কখন এলে ভাইয়া?"
"কিছুক্ষণ আগে। গেস্ট রুমে কে? তোর বান্ধবী?"
"হ্যাঁ! ওর জ্বর এসেছে, তাই রেস্ট করতে পাঠিয়েছিলাম..."
শুভ্র একটু ইতস্তত করল, "জ্বর মনে হয় বেড়েছে, ঘোরের
মধ্যে আবোল-তাবোল বকছে..."
ইরা চমকে উঠলো, "কী বলছো? জ্বর বেড়েছে?"
ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বললেও ভেতর থেকে প্রীতি
এতক্ষন সবই শুনতে পাচ্ছিল। অনিন্দিতার জ্বরের কথা
শুনতেই ও তৎক্ষণাৎ উঠে এসে ইরার পেছনে দাঁড়ালো, চিন্তিত
মুখে বলল, "ইরা, থার্মোমিটারটা নিয়ে চল তো ওর কাছে..."
ওরা যখন রুমে এলো অনিন্দিতা তখন প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে।
প্রীতি ওর পাশে বসে আস্তে করে ডাকলো, "অনু?"
অনিন্দিতা জোর করে চোখ খুলল, "হ... হুঁ..."
"জ্বরটা মাপতে হবে, মুখ খোল..."
অনিন্দিতা বিনা বাক্যব্যয়ে মুখ সামান্য খুলল। প্রীতি ইরার হাত
থেকে থার্মোমিটারটা নিয়ে ওর মুখে দিল।
সুস্মিতা বেগমও ততক্ষণে এ ঘরে এসেছেন, "মেয়েটার এত
জ্বর এলো কী করে, ইরা?"
"জানি না মা। ও যখন এসেছিল তখন তো এত জ্বর ছিল না।
সামান্য গা গরম আর মাথাব্যথা ছিল দেখে আমি আর প্রীতি
ওকে এখানে রেস্ট করতে রেখে গিয়েছিলাম।"
"ওর মাকে একটা ফোন দেওয়া দরকার না? ভাবি টেনশন
করছেন বোধহয়..."
"না আন্টি! ফোন দিলে আন্টি অযথাই টেনশন করবেন।
তারচেয়ে আমরা ওকে একেবারে বাসায় পৌছে দিয়ে আসি।"
"তোমরা একা ওকে নিয়ে পারবে নাকি!" সুস্মিতা বেগম
তারপর শুভ্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "শুভ্র, তুই একটু ওদের
সাথে যা তো..."
শুভ্র এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ওদের কথোপকথন শুনছিল।
খালামনির কথায় চমকে উঠল ও, "হ্যাঁ? আমি?"
"তোকেই তো বলছি! গাড়ি নিয়ে এসেছিস?"
"না, গাড়ি নষ্ট হয়েছে, মেকানিকের কাছে..."
"তাহলে সিএনজি দিয়ে যা। তোর খালুও তো গাড়িটা নিয়ে
বেরিয়েছে।"
প্রীতি থার্মোমিটারে দেখলো জ্বর ১০৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট।
অনেকটা বেশি। এ অবস্থায় ওকে বাসায় দিয়ে আসাটাও
কঠিন। আর বাসায় না গেলেও সমস্যা। রাবেয়া বেগম চিন্তায়
অস্থির হয়ে পড়বেন।
ইরা শুভ্রর হাত টেনে ধরল, "ভাইয়া প্লিজ চলো! অনুর শরীরটা
বেশি খারাপ, আমরা দুজন ওকে নিয়ে পারবো না..."
শুভ্রর মাথার ভেতর তখনো অনিন্দিতার আগের কথাগুলো
ঘুরছে— “তাহলে তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরছো না কেন?”
ওর বুকটা হঠাৎ যেন চাপা পড়ে আসছিল।
ইরার টানটান গলায় বলা “ভাইয়া প্লিজ চলো!” কথাটা শুভ্রকে
বাস্তবে ফিরিয়ে আনল। ও হকচকিয়ে চারপাশে তাকাল,
তারপর অনিন্দিতার দিকে। মেয়েটা প্রায় অচেতন হয়ে
বিছানায় শুয়ে আছে, মুখটা শুকিয়ে গেছে।
নিজের অজান্তেই একবার নিঃশ্বাস আটকে গেল ওর।
কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে যেন নিজের
ভেতরের অস্থিরতা থামানোর চেষ্টা করছে।
তারপর গলা খাঁকরি দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, “আচ্ছা, ঠিক
আছে। চল, দেখি কিভাবে নিয়ে যাওয়া যায়।”
প্রীতি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল, “গাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই,
সিএনজিতে উঠিয়ে নিলেই হবে।”
সুস্মিতা বেগম এবার চিন্তিত গলায় বললেন, “কিন্তু ওর
অবস্থা তো বেশ খারাপ। রাতবিরেতে হঠাৎ করে যদি কিছু
হয়? ভাবি একা মানুষ, সামলাবে কিভাবে? তারচেয়ে সরাসরি
বাসায় না দিয়ে আগে কোনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যা শুভ্র।”
শুভ্র খালামনির কথার মানে বুঝল, “হ্যাঁ, সেটাই বেটার। আগে
কোনো ক্লিনিকে নিয়ে যাই, ডাক্তার দেখানো দরকার।"
ইরা তাড়াহুড়ো করে মাথা নাড়ল, “ঠিক আছে ভাইয়া, আমরা
রেডি হই। তুমি নিচে নেমে সিএনজি ঠিক করো।”
শুভ্র বাইরে বেরিয়ে এল, কিন্তু বুকের ভেতর তখনো
ঘূর্ণিঝড়ের মতো অনিন্দিতার আবোল-তাবোল কথাগুলো
বাজছে।
“তাহলে তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরছো না কেন?... আরেকটু
থাকি?... তুমি তো সবসময় আসো না...”
গলা শুকিয়ে এলো শুভ্রর। ও মাথা ঝাঁকিয়ে তাড়াতাড়ি সিঁড়ি
বেয়ে নামল।
৮.
শুভ্র নিচে নেমে সিএনজি ঠিক করল। কিছুক্ষণ পর ইরা আর
প্রীতি অনিন্দিতাকে দুই পাশে ধরে দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে
নামিয়ে আনল। শুভ্র মাঝপথে এসে ওকে কোলে তুলে নিল।
ওর জ্বরের ঘোরে চোখ আধখোলা, মাথাটা দুলে দুলে শুভ্রর
কাঁধে এসে ঠেকল।
সিএনজিতে বসে শুভ্র অনিন্দিতাকে নিজের সাথে ঠেসে ধরে
রাখল, যাতে হঠাৎ ঝাঁকিতে পড়ে না যায়। ইরা চিন্তিত মুখে
ওর কপালে হাত রাখল, “ওর শরীর তো পুড়ে যাচ্ছে ভাইয়া…
এত জ্বর!”
শুভ্র গম্ভীর গলায় বলল, “চিন্তা করিস না, ঠিক হয়ে যাবে।”
ওর নিজের ভেতরেও কেমন অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল।
মেয়েটার অসহায় অবস্থা দেখে বুকটা ভারী হয়ে উঠছিল।
ক্লিনিকে পৌঁছেই শুভ্র কাউন্টারে গিয়ে রেজিস্ট্রেশনের
ঝামেলা সারল। নার্স এসে অনিন্দিতাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে
ভেতরে নিয়ে গেল। ডাক্তার আসতে দেরি হওয়ায় শুভ্র
করিডোরে এদিক-ওদিক হাঁটছিল। ইরা আর প্রীতি চুপচাপ
বসে ছিল চেয়ারে।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এলো, “১০৪ ডিগ্রি ফিভার। শরীর দুর্বল
হয়ে গেছে, ডিহাইড্রেশনের মতো অবস্থা। একটা স্যালাইন
দিতে হবে, সাথে ইনজেকশন। রাতে অবজারভেশনে রেখে
দেয়াই ভালো।”
প্রীতি হকচকিয়ে গেল, “রাতে এখানে থাকতে হবে?"
ডাক্তার মাথা নাড়ল, “হ্যা, জ্বর একদম কমে না আসা পর্যন্ত
বাসায় নেওয়া ঠিক হবে না।”
ইরা নিঃশ্বাস ফেলল, “তাহলে থেকে যাওয়াই ঠিক।”
ডাক্তার চলে গেলে প্রীতি বললো, "কিন্তু আন্টিকে জানাতে
হবে না?"
"অভিয়েসলি জানাতে হবে,
তুই কল দিয়ে আন্টিকে আসতে বল..."
শুভ্র অনিন্দিতার কেবিনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।
অনিন্দিতাকে ভেতরে বেডে শুইয়ে স্যালাইন সেট করা হলো।
ওর নিস্তেজ হাতের শিরায় সুচ ঢোকানো দেখে শুভ্রর বুকটা
আবার মোচড় দিয়ে উঠল। চোখ সরাতে পারছিল না ওর
কোনো অদ্ভুত টান যেন ওকে আটকে রেখেছে মেয়েটার
কাছে।
নার্স স্যালাইন ঝুলিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল। ঘরটা হালকা
অন্ধকার। অনিন্দিতা ফ্যাকাশে মুখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে
আছে, স্যালাইনের নল বেয়ে ধীরে ধীরে নামছে তরলটা।
শুভ্র বাইরে করিডোরে দাঁড়িয়েই সব দেখছিল। ঠিক তখনই
প্রীতি দরজা ঠেলে বেরিয়ে এল, বলল,
“ভাইয়া, আপনি ভেতরে আসছেন না কেন? বাইরে দাঁড়িয়ে
আছেন এতক্ষণ ধরে।”
শুভ্র একটু ইতস্তত করে মাথা চুলকালো, “না… মানে…
ভেতরে গেলে ওর হয়তো অস্বস্তি লাগবে।”
ইরা ভেতর থেকে শুনে এগিয়ে এলো, কপাল কুঁচকে বলল,
“অস্বস্তি কেন হবে? তুমি তো আমাদের আপনজন। ভেতরে
এসে বসো, আমরা আন্টির সাথে কথা বলে আসি।”
কথা শেষ না হতেই প্রীতি যোগ করল, “হ্যাঁ, আমরা দু’জন যদি
বের হই তাহলে ওকে কে দেখবে ভাইয়া? অনু একা থাকবে
কীভাবে!”
শুভ্র কিছু বলতে গেল, কিন্তু ওরা দু’জন আর সুযোগ দিল না।
জোর করে শুভ্রকে ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল
নিজেরা।
শুভ্র ভেতরে এসে বেডের পাশের চেয়ারটায় বসল।
অনিন্দিতার নিস্তেজ হাতটা বালিশের পাশে পড়ে আছে, তাতে
ক্যানোলা লাগানো। ও এক মুহূর্ত চেয়ে থাকল হাতটার দিকে,
তারপর আস্তে করে নিজের হাতদু’টো হাঁটুর ওপর রাখল, যেন
আটকাচ্ছে নিজেকে।
অল্পক্ষণ পরেই অনিন্দিতা অচেতন স্বরে অস্পষ্ট কিছু শব্দ
করল। শুভ্র ঝুঁকে শুনতে চেষ্টা করল ও কী বলছে।
“আ…ব্বু… তুমি… চলে যেও না…”
শুভ্রর বুকে ধাক্কা খেল আবার। মেয়েটা কেন বারবার এভাবে
ডাকছে!
অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেলছে, মাঝে মাঝে
ঠোঁটদুটো কেঁপে কেঁপে উঠছে।
শুভ্র তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে মনে ভাবল,
“প্রায় অপরিচিত মেয়েটার সাথে আমার এভাবে জড়িয়ে
পড়াটা একদমই ঠিক হচ্ছে না… কিন্তু কেন যেন দূরে যেতেও
পারছি না..."
অনিন্দিতা আবারো বিড়বিড় করে কিছু একটা বলতেই শুভ্র
ঝুঁকে পড়ল। আস্তে করে বলল,
“শোনো… আমি তোমার আব্বু না।”
আধো আধো চোখ মেলে ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকাল অনিন্দিতা।
কপাল কুঁচকে ফিসফিস করল, "তুমি আমার আব্বু না?
শুভ্র মাথা নাড়ল।
“তাহলে তুমি… কে?”
শুভ্রর বুকের ভেতর শব্দ উঠল ধকধক করে। ও এক মুহূর্ত
থমকে থেকে জবাব দিল, “আমি… শুভ্র। ইরার ভাই।”
অনিন্দিতার চোখ পিটপিট করল দু’বার, যেন কথাটা বোঝার
চেষ্টা করছে। তারপর আবার ফিসফিস করে বলল, "তুমি
সত্যিই শুভ্র?"
শুভ্র হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। অনিন্দিতার কপাল কুঁচকে গেল
আবারো, "কিন্তু তোমার চোখে তো চশমা নেই!"
শুভ্র অবাক হয়ে থমকাল, “চশমা?”
অনিন্দিতা আধোচেতনে মাথা নাড়ল, চোখ আধখোলা রেখেই
বিড়বিড় করল, “হ্যাঁ… শুভ্র তো সবসময় চশমা পরে। তোমার
চশমা কোথায়, শুভ্র?"
শুভ্র প্রথমে অবাক হলেও এবার ব্যাপারটা বুঝতে পেরে একটু
হাসল, তারপর নরম গলায় বলল, “কিন্তু আমি তো চশমা
পড়ি না। হুমায়ূন আহমেদের শুভ্রর কাছে চশমা আছে। আমি
তো সেই শুভ্র না! আমি অন্য শুভ্র।”
অনিন্দিতা ভুরু কুঁচকে চোখ পিটপিট করল, যেন ওর কথাটা
মেনে নিতে পারছে না, “অন্য শুভ্র?
বলতে বলতে ওর গলা কেঁপে গেল, ঠোঁট আবার কেঁপে উঠল।
জ্বরের ঘোরে কান্নার সুর মিশে গেলো গলায়, “শুভ্র… তুমি
চলে যাবে না তো?”
শুভ্র নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েটার কাছে ঝুঁকল, খুব আস্তে করে
বলল, “না… যাব না। আমি এখানেই আছি।”
মেয়েটা এবার একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার চোখ
বুজল। শুভ্র চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল, বুকের ভেতর অদ্ভুত
চাপা ঝড় বয়ে যাচ্ছে ওর।
অনিন্দিতা ওভাবে চোখ বন্ধ রেখেই হাতটা আবার আলগোছে
নাড়ল, যেন কিছু খুঁজছে। শুভ্র গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে হাতটা
বাড়িয়ে দিল, আস্তে করে ওর আঙুলের ভেতর গুঁজে দিল
হাতটা। অনিন্দিতার ঠোঁটে এবার নিস্তেজ হাসি ফুটল।
অনিন্দিতা তৃপ্ত নিঃশ্বাস ফেলল, চোখ বন্ধ করে বিড়বিড়
করল, “এবার ঠিক আছে… এখন তুমি আর যাবে না।”
শুভ্র তাকিয়ে রইল নিস্তেজ মুখটার দিকে। মেয়েটা গভীর ঘুমে
ঢলে পড়ল, কিন্তু ওর হাতটা ছাড়লো না। ধরে রাখল শক্ত
করে, যেন ছেড়ে দিলেই শুভ্র চলে যাবে।
To be continued...
|
0 Comments