গল্প:এক নির্বাসিত বসন্ত (পর্ব:০৬)




লেখক: তন্দ্রাতরঙ্গ


০৬



প্রচন্ড বাতাসে ঘোমটা খুলে গেছে সেই কখনই!চুলগুলো অবাধ্য হয়ে গেছে আজকাল।চুল ভেজা থাকায় তখন বাঁধেনি, এখন তার দাম দিতে হচ্ছে।বাগানের রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎই যেন কারো পদধ্বনি শুনতে পেলো তপতী, শুকনো পাতার উপর কেউ যেন হাঁটছে।ঘাবড়ে যেতে নিয়েও দেখতে গেলো পাশে।এই দিকটায় সচরাচর কাউকেই দেখা যায় না,এখানে কে আসতে যাবে আজ...?একটা মোটা গাছের পিছন থেকে উঁকি মারতেই কাউকে আর দেখতে পেলো না তপতী।অথচ নিচের চূর্ণ হওয়া শুকনো পাতাগুলো স্পষ্টতই দ্বিতীয় কারো উপস্থিতির প্রমাণ।গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো ওর।তাড়াতাড়ি মাঠের দিকে এগিয়ে গেলো।আজকাল কেমন যেন সব অদ্ভুত জিনিস হচ্ছে তার সঙ্গে! 

------------------------

উঠোন ঝাড়ু দিতেই কোমড় বেঁকে যাওয়ার মতো অবস্থা।কে যে বলেছিলো এত বড় একটা উঠোন বানাতে?ওর অবস্থা দেখে হেসে উঠলো অয়ন।

"সামান্য একটা উঠোন ঝাড়ু দিতে এই অবস্থা?তাইলেই সেরেছে!"

জ্বলে উঠল পপত্রলেখা। ঝাড়ু কাঁধে নিয়ে অয়নের দিকে তাকিয়ে বললো,

"বেশ তো! এতই যখন সহজ কাজ তাহলে তুমিই দাও ঝাড়ু।কে মানা করছে তাতে?মুখেই যত বড় বড় কথা!"

"এ্যাই! ননসেন্স মেয়ে। এদিকে দে এইটা। আমি দেখিয়ে দিচ্ছি কিভাবে ঝাড়ু দিতে হয়।দে আমার কাছে।"

"ননসেন্স কাকে বললে হুঁ? তুমি যা বলছো সেটায় অনেক সেন্স না? আমি ঝাড়ু দেওয়ার পর এখন আসছে বড় বড় কথা বলতে! যতসব!"

অয়ন হাসলো পত্রের কথা শুনে।
"পরেরবার আমায় দিস! আমি দেখিয়ে দিবো কিভাবে সহজে ঝাড়ু দিতে হয়।তোর মতো বলদদের শেখানোর জন্য আমার কাছে বিশেষ টেকনিক আছে!"

পথ রেগে অয়নের দিকে তাকাতেই অয়ন অন্য দিজে তাকিয়ে বলে উঠলো,

"হ্যাঁ বড় আম্মু..? আমায় ডেকেছো?"

বলেই চলে গেলো বাড়ির ভেতরে।পত্র বাইরে ওইদিকে তাকিয়ে রইলো।ওর আরেকটু মন চাইছিলো অয়নের সাথে থাকতে।তখনই মনে হলো অয়নের বলা বিশেষ টেকনিকের কথা।ফেসবুকে যতগুলো কাজিন রিলেটেড গল্প পড়েছে তাতে এসব হলো চরম মাত্রার সংকেত।বিশেষ টেকনিক কেমন হতে পারে তা ভাবতেই একটু ব্লাশ করলো পত্র।চোখ-মুখ খিঁচে লজ্জা কমানোর চেষ্টা করলো সে।বিশেষ টেকনিক! ঈশ!! ভাবতেই কি লজ্জা লাগছে!!!

-----------------------

জানলার ধারে এলিকে কোলে নিয়ে বসে আছে তিতির।বাইরের আবহাওয়া খারাপ,আর তার মনেরও। কিচ্ছু ভালো লাগছে না আজকাল।প্রচন্ডভাবে দুর্বল লাগছে আজকাল।কি হলো কি জানে! আনমনে এলিকে প্রশ্ন করলো সে,

"ভালো মানুষের সাথে খারাপ কেনো হয় বলতো? নাকি আমাদের ভালো-খারাপের সংজ্ঞা এই ভূল।"

এলি প্রত্যুত্তরে কেবল মিঁয়াও মিঁয়াও করে ডাকে।তিতিরের হাতের কাছে মাথা ঘষে যেন সেও সান্ত্বনার চেষ্টা করছে।তিতির বললো,

"এমন করিস না।আমার এসবের দরকার নেই।"

এলি বুঝলো কি বুঝলো না কে জানে!তবে ও চুপ হয়ে গেলো।জানলার দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো ও।ঘর পুনরায় নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।তখনই পেছনে দরজা খোলার আওয়াজ এলো।তিতিরের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই তাতে।সে জানলার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।তার সমস্ত প্রাণ যেন এই দৃষ্টিপথেই কোনো দূর-দূরান্তে একটু ঠাঁই পেতে চাইছে।তখনই একটা হাত তার কাঁধের উপর এসে থামলো।তিতির যেন তার নিঃশ্বাস বন্ধ করে রেখেছে।সে জানে তার মা এখন কি বলবে তাকে। সেই একই কথা,একই সুর,একই দুশ্চিন্তা, ঠিক একটা রেকর্ডিং-এর মতো।সবই কেমন যেন অবাস্তব মনে হয় তিতিরের কাছে।
আচ্ছা, এমন কি হতে পারে যে এই সবই মিথ্যা? হয়তো সবই স্বপ্ন!হয়তো একটু পরেই ঘুম ভাঙবে,তারপর... তারপর ও দেখবে সব ঠিক আছে? হতে পারে না কি???




চলবে.........
 

Post a Comment

0 Comments

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন। ×