Bangla Choty Golpo

গল্প: শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ (পর্ব:০৫)



লেখনীতে :নূরজাহান আক্তার আলো



[০৫]





-'ভ ভাই...য়া।'

-'যাবি তুই!'

 শেষ কথাটা শুদ্ধ এতজোরে চিৎকার করে বলেছে যে 

শীতল দাঁড়িয়ে থাকার সাহস করল না। ধমক খেয়ে চমকে 


উঠেছে। ভয়ে বুক ধড়ফড় করলেও দ্রুত বেরিয়ে তার 

রুমে 


গিয়ে দরজা আঁটকে কাঁদতে লাগল। আজ একটু বেশি 


সাহস দেখিয়ে ফেলেছে। মুখে মুখে তর্কও করেছে।



সব গুলো পর্ব লিংক







কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে চোখ, মুখ, ফুলে লালবর্ণ

ধারণ করল তার। 


তাকে মারার পেছনে এত বড় ঘটনা লুকিয়ে আছে সেও

জানত না। সব জেনে শুনে এখন নিজের কাছে খারাপ

লাগছে। গিল্টি ফিল হচ্ছে। বাবা চাচাদের এতদিনের


অর্জিত সন্মানে আঙুল উঠায় নিজেকে বিবেকহীন মনে

হচ্ছে। সকালে বাবার করা রুড ব্যবহারের মানে বুঝতে

পারছে সে।


তারমানে নোংরা কমেন্টগুলো বাবা দেখেছে, তাকেও

খারাপ ভেবেছে। এখন বাবার সামনে দাঁড়াবে কীভাবে?

কি জবাব দেবে?তাছাড়া চোখের ওই কমেন্টটা ভাসছে,

'সায়ন, শুদ্ধ বোনদের পালতে পারছে না বোধহয় এজন্য

রাস্তায় নামিয়েছে। চৌধুরী বাবুরা দেখি বাড়ির

মেয়েদেরকে দিয়ে ব্যবসা চালু করেছে। চালিয়ে যাও,

ভালো হচ্ছে, পরের ভিডিওতে রেটটা জানিও।' 


ছিঃ! এসব বলার কথা? নাকি শোনার কথা? এসব ভাবতে

ভাবতে তার কান্নার বেগ বাড়ল। সময় কাটল। বেলা


গড়িয়ে দুপুর হলো। তবুও নিচে নামল না সে। রুমের


দরজা বন্ধ করে কাঁদতে কাঁদতে সময় পার করল। দুপুরে

খেতে ডাকলে জানাল শাওয়ার নিয়ে নিজেই নিয়ে খেয়ে


নেবে৷ 


এরপর দুপুর গড়িয়ে বিকেলের নাস্তাতেও শীতল

অনুপস্থিত। মা, বড় মা, বোনরা ডাকলে পেট ব্যথার কথা

জানিয়ে রুমবন্দি থাকল। মেয়েটা বড় হয়েছে। পেট ব্যথার

গোপনীয় অনেক কারণ থাকতে পারে। বলা বাহুল্য,

পিরিয়ডের প্রথমদিন শীতলের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

পেটের ব্যথায় উঠে দাঁড়াতে পারে না। হাঁটতে পারে না।

বিছানার সঙ্গে নেতিয়ে পড়ে।

তাই বাড়ির গিন্নিরাও ধরে নিলেন পরিয়ড জনিত ব্যাপার।


বাড়ি ভর্তি মেহমান কেউ কথা না বাড়িয়ে মনে করে ওষুধ

খাওয়ার তাগাদা দিয়ে প্রস্থান করেন। একটুপরে সীরাত

হট ব্যাগে গরম পানি ভরে দিয়ে গেল।


শীতল সেটা পাশে রেখে নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল। সন্ধ্যা

পেরিয়ে রাতের আঁধার ঘনিয়ে এসেছে। রাতের খাবারের

জন্য চৌধুরীরা ছেলে মেয়ে নিয়ে একসঙ্গে খেতে

বসেছেন। বাড়িতে মেহমানের সংখ্যা বেড়েছে। যে যার

মতো নিয়ে খেয়ে নিচ্ছে। ড্রয়িংরুম ভর্তি মেহমান। বাগানে

রযেছে অনেকজন। যাদের বাসা কাছে তারা খেয়ে চলে

গেছে/যাচ্ছে আবার আগামীকাল সকালে আসবে।

শারাফাত চৌধুরীর কথায় বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে


একসঙ্গে খেতে হবে তাই বসেছেও সকলে। তবে সায়ন

আর শীতলের চেয়াল ফাঁকা দেখে শারাফাত চৌধুরী


শীতলের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। সিমিন জানাল শীতল

আগে ভাগে খেয়ে শুয়ে পড়েছে। একথা শুনে উনি কিছু

বললেন না কারণ শীতলের পছন্দের খাবার রান্না হলে,

রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে সবার আগে খেতে বসে

যায়। অনেক সময় দেখা যায় পেট পুরে খেয়ে আবারও

সবার সঙ্গে খেতে বসে। এই মেয়েটা ছোটো থেকে এমন


চঞ্চল চড়ুই পাখির মতো। আর এই বাড়ির সকলে তাকে

এভাবে দেখে সবাই অভ্যস্ত।



তবে শখ আর স্বর্ণ শীতলের এমন আচরণ সহজভাবে

নিতে পারল না। 


তারা দু'জন খেয়ে একপ্লেট খাবার নিয়ে শীতলের রুমের

দরজায় নক করল। যতক্ষণ না দরজা খুলল তারা

নাছোড়বান্দা হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। 

শঅগত্যা শীতল দরজা খুলে মাথা নিচু করে বসে রইল।

শখ


হাতের প্লেট রেখে দরজা আঁটকে শীতলের ফোলা মুখটা

তুলে ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল,


-'কি হয়েছে সোনা? এভাবে কেঁদেছিস কেন তুই? খুব

বেশি পেট ব্যথা করছে? মেডিসিন খাস নি? আম্মুকে

ডাকব, যাবি ডাক্তারের কাছে?'


শীতল নত মস্তকে না বোধহয় মাথা নাড়াল। এরপর

শুকনো ঢোক গিয়ে অশ্রুভরা চোখ তুলে ফোঁপাতে

ফোপাঁতে বলল,


-'সরি আপু। আমার জন্য তোমাদেরকেও নোংরা কথা

শুনতে হয়েছে।'


শীতলের কথার আগামাথা কিছুই বুঝল না শখ আর স্বর্ণ।

কে নোংরা কথা বলেছে তাদের? কই, এসব কিছুই তো

জানে না তারা। স্বর্ণ এবার বোনের পাশে বসল। পুরো

ঘটনা জানতে মিহি কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল,



-'কে নোংরা কথা বলছে আমাদের? কার কথা বলছিস

তুই?'


শীতলের কান্নার বেগ বাড়ল। সে হেঁচকি তুলে কাঁদতে

কাঁদতে তাদেরকে


পুরো ঘটনা জানাল। বোনের বোকামির কথা শুনে স্বর্ণ দুম

করে এক ঘা বসিয়ে দিলো শীতলের পিঠে। শখ স্বর্ণকে

ধমকে থামিয়ে শীতলকে পানি খাওয়াল। তারপর

শীতলের আউলাঝাউলা চুলগুলো একহাতে গুছিয়ে দিতে

দিতে বলল, 


-'কবে বুঝতে শিখবি শীতল? কবে বোধবুদ্ধি হবে তোর?

সায়ন ভাইয়া রাজনীতিতে ঢুকার পর থেকে আমরা

তিনবোন অনেকের টার্গেট। কারণ আমরা চৌধুরী

নিবাসেন সন্মান। এবং বাবা ও ভাইদের দূর্বলতাও বটে। 


তারা চৌধুরীদের ক্ষমতার সঙ্গে পেরে উঠতে না পেরে

চৌধুরী নিবাসের মেয়েদের চরিত্রের দাগ লাগানোর উপায়

খুঁজে বেড়ায়। মুখিয়ে থাকে কীভাবে আমাদের হেনোস্তা

করা যায়। তুই এই কাজটা ঠিক করিস নি সোনা।'


শখের কথা শুনে শীতল ফোঁপাতে ফোপাঁতে বলল,


-'তাহলে সায়ন ভাইয়া কিছু বলল না কেন আমাকে? সব

সময় শুদ্ধ ভাই


কেন মারে, বকে? সায়ন ভাইয়ের রাজনীতির ঝামেলা

সায়ন ভাই নিজে সমাধান করবে। এরমধ্যে শুদ্ধ ভাইকে

নাক গলাতে কে বলেছে? সায়ন ভাই কিছু বলল না অথচ

শুদ্ধ ভাই চ্যালাকাঠ দিয়ে কত মারল। ফোনটা ভেঙে

ফেলল। কেন, আমাকে একটু বুঝিয়ে বললে হতো না?

আমি কি লোকগুলো বলেছিলাম নোংরা কথা বলতে?

নাকি জানতাম সামান্য ব্যাপারটাকেও এত বড় করে দেখা

হবে। তারা বললে আমি কি করব? কি করার আছে

আমার?'

-' শুদ্ধ ভাইয়া বারবার আমাদের সমাধান করে। কথার

ইঙ্গিতে বোঝায় ভুল পথে পা না বাড়াতে। থরবড় করে

কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে। আমরা সবাই শুনলেও তুইই তো

শুনিস না। বরং যেটা বারণ করা হয় জোর করে করিস।'


আরো পড়ুন.......
বাংলা রোমান্টিক গল্প 





শীতলের অবুজ মন ভার হলো। অভিমানে সব রাগ গিয়ে 

ড়ল শুদ্ধর উপরে। নিজের করা ভুলের কথা ভুলে শুদ্ধর 

দিকে অভিযোগ তুলল সে,

-'বেশ করি। উনি কি ভালো করে কথা বলতে জানে? 

বলেছে কখনো?

আমাদের তিন বোনকে সব সময় ধমকের উপরে রাখে। 

সামান্য কারণে কেন ধমকাবে, কেন মারবে? সায়ন ভাই 

তো করে না, তাহলে সব সমস্যা উনার কেন?'

তার কথার জবাব দিলো স্বর্ণ। সে বোনকে বুঝিয়ে বলতে 

নরম সুরে বলল,

-'শুদ্ধ ভাইয়া শাষণ করে বলেই সায়ন ভাইয়া 

আমাদেরকে 

ছাড় দেয়।

যেদিন শুদ্ধ ভাইয়া শাষণ করা ছেড়ে দেবে সেদিন দেখবি 

সায়ন ভাই আমাদেরকে শাষণ করবে। একভাই শাষণ 

করে বলেই আরেকজন ছাড় দেয় যাতে আমরা 

মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ি। এখন কথা হচ্ছে শান্ত হ তুই। 

কিছু খা। সারাদিন না খেয়ে তোর মাথা আউলিয়ে গেছে।'

শীতল না করার আগেই শখ তার মুখে খাবার পুরে দিলো। 

মুখে খাবার পড়তেই পেট চনমনিয়ে উঠে জানান দিলো 

ভীষণ ক্ষুধার্থ সে। কথা না বাড়িয়ে কয়েক লোকমা খেয়ে 

শীতল শখকে বলল,

-'আপু কি করব এখন? ভুলটা তো শুধরাতে হবে।'

-'আগে শুদ্ধ ভাইয়াকে গিয়ে সরি বলবি। তারপর বলবি, 

জীবনেও আর এসব টিকটক ফিকটক করবি না। ভাইয়া 

যেন তোর টিকটক আইডিটা ডিলিট করে দেয়। আর 

এসব যেন আর না ছড়ায় সেই ব্যবস্থা করে।'

-'হুম।'

-'মন খারাপ করিস না সোনা। এসব টিকটক ভালো কাজ 

নয়। টিকটক থেকে মানুষ বিপথে চলে যায়। ভিউ, ফ্যান 

ফলোয়ার বাড়ানোর নেশায় মার্জিত রুচি হারিয়ে ফেলে। 

আবেদনময়ী পোশাকে নিজেদের মুড়াতে মুড়াতে 

নিজেদের সস্তা বানিয়ে ফেলে। শুদ্ধ ভাইয়া আমাদেরকে 

হিজাব ছাড়া বাইরে যেতে নিষেধ করেছে। আর তুই চুল 

ছেড়ে টিকটক করিস। 

মাথা ঠান্ডা কর, তুই একটাবার ভেবে দেখ ভাইয়ার 

রাগটাও অযৌক্তিক নয়। কারণ ভাইয়া আমাদের ভালোর 

জন্য শাষণ করে, বকাঝকা করে।

-'কিন্তু.. কিন্তু সরি বলতে গেলে যদি আবার মারে?'

-'মারুক, বকুক, মনে রাখবি আমাদের ভাই'রা আমাদের 

ছায়া। ভালোর জন্যই তারা আমাদেরকে বকে, মারে।'

-'হুম। তাহলে কি এখনই সরি বলতে যাব?'

-'ভাইয়া বাসায় নেই। খেয়ে উঠে কোথায় যেন গেল বের 

হলো। কালকে যা বলার বলিস, এখন ঘুমা।'

একথা বলে শীতলকে খাইয়ে দিয়ে শখ আর স্বর্ণ চলে 

গেল। শীতল মুখ ধুয়ে এসে শুদ্ধর রুমের দরজায় অবধি 

ঘুরে এলো।সত্যি সত্যি শুদ্ধ নেই।

সায়নের রুমেও দরজা বন্ধ। তাই ফিরে এসে শুয়ে অনেক 

কথা সাজাল।



ভেবে নিলো আগামীকাল শুদ্ধকে কিভাবে সরি বলবে। 


এসব ভাবতে ভাবতেই চোখের পাতা ভার হয়ে এলে সেও 


বিনাবিঘ্নে ঘুমে তলিয়ে গেল।




পরেরদিন সকাল থেকে শুরু হলো অত্যন্ত ব্যস্ততা নিয়ে।

সকলের হাতে কাজ। আগের দিনের কথা ভুলে শীতলের

সকালটা শুরু হলো চমৎকার ভাবে। চেনা জানা মানুষদের

সঙ্গে দেখা হলো, কথা হলে। দুপুরের আগে


এতিমখানায় খাবার পাঠিয়ে দেওয়া হলো। দেওয়া হলো

নতুন পোশাক।


দুপুর বারোটার পর দলে দলে মানুষ এসে খেয়ে যাচ্ছে।

বাগানের এক প্রান্তে মানুষ খাচ্ছে অন্যপ্রান্তে রান্না হচ্ছে।

চৌধুরারা ব্যস্ত হাতে মেহমান আপ্যায়ন করছে। শারাফাত,

সাফওয়ান, শাহাদাত, শুদ্ধ, সাম্য, সৃজনের পরনে ধবধবে

সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। এত মানুষের ভিড়ে তারাই যেন

জ্বলজল করছে। সায়ন নিচে নামে নি কারণ তার হাত-

পায়ের ব্যান্ডেজ খোলা হয় নি। ব্যান্ডেজ দেখে অনেকের

প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে ভেবে ইচ্ছে করে নামে নি।

কেউ জোরও করে নি। সকাল থেকে শীতল

শুদ্ধকে খেয়াল করছে। কিছুক্ষণ আগে শুদ্ধ ফোনে কথা

বলতে বলতে রুমে ঢুকেছে ফ্রেশ হতে। সে বোনদের

উৎসাহে শুদ্ধর রুমের দরজায় নক করল। ভেতর থেকে
শুদ্ধ চেঁচিয়ে বলল,

-'কে?'

-'আ আমি শীতল। ভেতরে আসব ভাইয়া?'

-'না!'


শীতল ঘাড় ঘুরিয়ে অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা বোনদের দিকে

অসহায় চোখে তাকাল। মুখের উপর না বলে দিলে

কিভাবে যাবে ভেতরে? জোর করে 


গেলে যদি আবার রেগে যায়? শখ দূরে দাঁড়িয়ে ইশারায়

বোঝাল আবার নক করতে। সরি বলতে। শীতল তাই

করল। তবে ভেতর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে আবার

বলল,


-'একটু কথা বলার ছিল ভাইয়া, আসি না একটু? প্লিজ!'


শুদ্ধ এবার কথাও বলল না। সাড়াও দিলো না। তবে সায়ন

তার রুমে থেকে চেঁচিয়ে বলল,


-'শীতল! এদিকে আয়।'


আরো পড়ুন....
বাংলা থ্রিলার গল্প 




সায়নের ডাকে শীতল শুদ্ধর বন্ধ রুমের দিকে একবার

তাকিয়ে সায়নের রুমে গেল। মুখ গোমড়া করে বসল

বিছানার এক কোণে। সায়ন ফোনটা রেখে বিছানার

হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে ভ্রুঁ কুঁচতে তাকিয়ে রইল। এরপর


ধীরে সুস্থে জিজ্ঞাসা করল,


-'কি হয়েছে? এত হাকডাক কিসের? পাগলটাকে আবার

খেঁপিয়েছিস?' 


-'কেউ ভুল করলে তাকে সরি বলার সুযোগ দিতে হয়।

আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি ভাইয়া। জীবনেও আর

এমন বোকামি করব না। আমি আমার টিকটক

একাউন্টটা ডিলিট করতে চাই। কিভাবে করব ভাইয়া?'


-'ভেবে বল। পরে আবার কান্নাকাটি করবি না তো?'


-'না, ভেবেই বলছি।'


-'ঠিক আছে, চিল থাক, কাজ হয়ে যাবে। তবে মনে

রাখিস, আমাদের দুই ভাইকে ছাপিয়ে তোরা বোনরা কেউ

কিছু করতে পারবি না। আর কেন পারবি না, বল তো?

কারণ আমাদের দৃষ্টি সবসময় তোদের দিকে থাকে। তাই

বলছি যা করেছিস করেছিস এসব আর মাথাতেও আনিস

না। ছোটো বলে একবার মাফ করা যায় বারবার না।'


-'আর হবে না।'



-'গুড। আর এসব নিয়ে মন খারাপ করতে থাকতে যেন না

দেখি। আমরা আছি।'


একথা শুনে শীতল মিষ্টি করে হাসল। এতক্ষণে বুকের

ভারটা যেন কমে আসল। শান্তি লাগছে এখন। একজনকে

বলে তো ঝামেলা মেটানো গেল আরেকজন নাহয় পরে

সামলানো যাবে। একথা ভেবে সে সায়নের রুম থেকে

বেরিয়ে বোনদের সঙ্গে তাদের রুমে গেল। তিনজনে

গালগল্পে মেতে উঠল। কি নিয়ে একযোগে হাসল। নিচে

অনেক মানুষ তাই কেউই আর নিচে না গিয়ে মুভি দেখতে

বসল। মুভি দেখতে দেখতে অনেকটা সময় পার করে

সন্ধ্যার আজানের পর তিনজনে একসাথে নিচে নামল।

খাওয়া এবং খাওয়ানোর পর্ব শেষ। অনেক মেহমান চলেও

গেছে। যারা আছে কাল সকালে চলে যাবে। সিঁতারা


বেগম ব্যস্ত হাতে খাবার প্যাক করছে দেখে শীতল

রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ল। জিজ্ঞাসা করল,


-' এগুলো কাকে পাঠাবে বড় মা?'


-'শুদ্ধ চলে যাবে। তাই দিয়ে দিচ্ছি।'

-'আজই?'


-'হ্যাঁ, ল্যাবে নাকি জরুরি কাজ পড়ে গেছে।'

একথা বলতে বলতে তড়িঘড়ি করে শুদ্ধ নেমে এলো।

বাবা চাচার থেকে বিদায় নিয়ে মায়ের কাছে আসতেই

শীতলের সঙ্গে চোখাচোখি হলো। সে দ্রুত চোখ সরিয়ে

মাকে বলল,


-'সারাদিন কাজ করেও কাজ শেষ হচ্ছে না তোমার?

বললাম না একটু রেস্ট নিতে।'


-'এইতো হয়ে গেছে। এখনই যাচ্ছি বাবা।'


-' সবাইকে নিয়ে সাবধানে থেকো। বের হচ্ছি আমি।'


একথা বলে সিঁতারা চৌধুরী শুদ্ধর দিকে একটা ব্যাগ

এগিয়ে দিলো।


এসব দিতে না করার পরও দিয়েছে দেখে খুব বিরক্ত'ও

হলো। ছেলের বিরক্তমাখা মুখ দেখে সিঁতারা চৌধুরী তার

মাথায়, পিঠে, স্নেহের হাত


 বুলিয়ে বলল,


-'এবার তাড়াতাড়ি আসিস আব্বা। গেলে তো বাড়ি আসার

কথা মনে থাকে না। আর বেশি কিছু দেই নি তো তিন

পাগলের জন্য অল্প একটু খাবার দিয়েছি। ওরা তো এলো

না তাই।'


শুদ্ধ কথা বাড়াল না। সময় দেখে ব্যাগটা নিয়ে ভাই

বোনদের উদ্দেশ্য করে বলল,


-'আমার রুমে গিফ্ট বক্স আছে যার যারটা নিয়ে নিস।

আমার কানে যেন কারো নামে অভিযোগ না আসে।'

একথা বলতে বলতে সে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।

গিফ্টের কথা শুনে সাম্য, সৃজন, শীতল, শখ আর স্বর্ণ

 একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে ছুটতে শুরু করল।

বড় রা সাবধান করলেও শুনল না। হুড়মুড় করে সিঁড়ি ।

বেয়ে উঠে গেল শুদ্ধর রুমে। শুদ্ধর রুমের সেন্টার

টেবিলের উপর যার যার নামে গিফ্ট বক্স রাখা। সৃজন,

সাম্য, শখ, স্বর্ণ যার যার নামের গিফ্ট বক্স তুলে নিলো।

শীতলের নামের কোনো গিফ্ট বক্স নেই দেখে খুব অবাক

হলো সকলে। কোনোবার এমনটা তো হয় না। তবে শীতল

কথা বাড়াল না শুধু মন খারাপ করে নিজের রুমের দিকে হাঁটা ধরল।

To be continue.......!!

 

Share:

0 comments:

Post a Comment

Xgossip. Bangla Choty Golpo

Tags

Xgossip— Bangla Choty Golpo. Powered by Blogger.

Ad Space

Featured post

গ্রাম্য জীবনের সুখ দুঃখে মা ও ছেলে(১৫)

  পর্ব:১৫ বাবা- কি বলব বাবা তোকে, আসলে তোর মাকে বকা ঝকা করেছি তার কারন আছে তুই আমার ছেলে তোকে কি বলব সব তো খুলে বলা যায়না। আমি- কেন বাবা আমি...

Search This Blog

🔞 ১৮% সতর্কবার্তা

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন।

About Us

About Us
এই খানে পাবেন বিভিন্ন লেখকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরির চটি গল্প।

Translate

Popular Posts

Popular Posts