![]() |
নবম পর্ব |
গাড়ির ভেতরে বাতাস ভারী। এসি চলছে, কিন্তু সেই হিমেল হাওয়ায়ও সমুদ্রের নোনা গন্ধটা মিশে আছে। ড্রাইভারের হাত স্টিয়ারিংয়ে, কিন্তু তার নজর বারবার রিয়ার-ভিউ মিররের দিকে যাচ্ছে। পিছনের সিটে সৌম্য আর প্রতিমা। মাঝখানে এক হাত দূরত্ব, কিন্তু সেই শূন্যস্থানটি যেন এক গভীর খাদ। প্রতিমা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। বাইরের গাছপালাগুলো দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে, ঠিক যেমন গত দুদিনের স্মৃতিগুলো তার মস্তিষ্ক থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে সে। দুপুরের তপ্ত রোদ কাঁচ ভেদ করে তার গালে এসে পড়ছে। চামড়ার ওপর সেই সোনালি আভা সৌম্যর চোখে ধরা পড়ছে। সে দেখছে তার মায়ের ঘাড়ের সেই ছোট তিলটি, যা গত রাতে তার ঠোঁটের স্পর্শ পেয়েছিল। সৌম্যর গলা শুকিয়ে আসছে। সে খুব সাবধানে কথাটি শুরু করল। "মা, তুমি কি কিছু খাবে? কোথাও গাড়ি থামাবো?" প্রতিমা জানালার বাইরে থেকে দৃষ্টি সরাল না। তার কণ্ঠস্বর এখন শীতল, যেন এক বরফখণ্ডের টুকরো। "না, বাড়ি পৌঁছে খাবো।" সৌম্যর বুকের ভেতরটাটা যেন একটু সংকুচিত হলো। সে আবার চেষ্টা করল। "কিন্তু তুমি তো সকাল থেকে খুব অল্প খেয়েছ। শরীর খারাপ করবে।" প্রতিমা এবার তার দিকে তাকালো। চোখে ক্লান্তি, কিন্তু তার চেয়ে বেশি সেখানে এক অদ্ভুত আতঙ্ক। "আমি বলেছি না, বাড়ি পৌঁছে খাবো? এখন চুপ থাকো, সৌম্য।" গাড়িতে আবার নীরবতা নেমে এল। শুধু ইঞ্জিনের একটানা শব্দ আর রাস্তার ঘর্ষণে চাকার শব্দ শোনা যাচ্ছে। প্রতিমা চোখ বন্ধ করল। অন্ধকারের ভেতর ভেসে উঠছে সেই হোটেলের রুম। বিছানার চাদরে ছড়িয়ে থাকা তাদের নগ্ন শরীর। ছেলের সেই বিশাল দণ্ড যখন তার শরীরের গভীরে প্রবেশ করছিল, সে চিৎকার করেছিল। সেই চিৎকার এখন তার মনে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সে জানে, তারা এক নিষিদ্ধ সীমারেখা পেরিয়ে এসেছে। এই পথ থেকে ফেরার কোনো রাস্তা নেই। বাড়ি পৌঁছাতে বিকেল হয়ে গেল। গাড়ি থামার সাথে সাথে প্রতিমা যেন মুক্তি পেল। সে দ্রুত গাড়ি থেকে নামল। একবারও সৌম্যের দিকে তাকালো না। তার হাঁটার গতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। সে সোজা ভেতরে ঢুকে নিজের ঘরের দরজাটা সশব্দে বন্ধ করে দিল। সৌম্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে ব্যাগগুলো নিল। সে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তার মনে হচ্ছিল, ওই বন্ধ দরজার ওপারে প্রতিমা হয়তো কাঁদছে, অথবা সেও তার কথা ভাবছে। সৌম্য নিজের রুমে ঢুকে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। সমুদ্রের ওই দুই দিন ছিল এক রঙিন স্বপ্ন। সেখানে কোনো সমাজ ছিল না, কোনো রক্ত সম্পর্কের বাধা ছিল না। ছিল শুধু দুটি তৃষ্ণার্ত শরীর আর এক আদিম লালসা। কিন্তু এই চার দেয়ালের ভেতরে সেই স্বপ্নগুলো এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামল। বাড়িটা এখন নিস্তব্ধ। প্রতিমা রান্নাঘরে ঢুকেছে। সৌম্য বসার ঘরে টিভি দেখছিল, যদিও তার মনোযোগ স্ক্রিনে ছিল না। সে লক্ষ্য করল, প্রতিমা যখন রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছে, সে যেন এক অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি করে নিয়েছে। সে সৌম্যর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শরীরটা একটু সংকুচিত করে নিচ্ছে, যেন স্পর্শ লাগলে সে পুড়ে যাবে। সৌম্য আর থাকতে পারল না। সে উঠে দাঁড়াল এবং প্রতিমার পিছু নিল। "মা..." প্রতিমা চমকে উঠে দাঁড়ালো। তার হাতের খুন্তিটা বেসিনের ওপর শব্দ করে পড়ল। সে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ালো, চোখে এখন কঠোরতা। "কী চাই তোর?" সৌম্যর কণ্ঠে আকুতি। "তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছো কেন? আমরা তো..." "আমরা কি?" প্রতিমা কথাটি মাঝপথে থামিয়ে দিল। তার চোখগুলো চারপাশে ঘুরে দেখল, যেন দেয়ালগুলোরও কান আছে। সে নিচু স্বরে কিন্তু ধারালো কণ্ঠে বলল, "সৌম্য, তুমি তোমার কাজ করো। আমার খেয়াল রাখার দরকার নেই।" সৌম্যর মুখটা ম্লান হয়ে গেল। "আমি শুধু জানতে চাইছি তুমি কেমন আছো।" "আমি ভালো আছি। আর এই ভালো থাকাটা বজায় রাখতে চাইলে তুই তোর রুমে যা। এখন এই মুহূর্তে আমার সামনে থেকে দূর হ।" সৌম্য থমকে দাঁড়ালো। সে দেখল তার মা এখন কেবল তার মা নন, বরং একজন কঠোর অভিভাবক, যিনি তার পাপের কথা গোপন করতে বদ্ধপরিকর। সে নিঃশব্দে নিজের রুমে ফিরে গেল। রাতের খাবারের টেবিলে পরিবেশটা আরও বিষণ্ণ। চামচের ঠোকাঠুকির শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। প্রতিমা অল্প কিছু ভাত মুখে দিয়ে দ্রুত উঠে পড়ল। "তুমি এত অল্প খেলে কেন?" সৌম্য জিজ্ঞেস করল। প্রতিমা কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু প্লেটটা নিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল। সৌম্য শেষ করে প্লেট ধুতে গিয়ে দেখল, প্রতিমা তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে লক করে দিয়েছে। এই বাড়িতে প্রতিমা রাতে কখনও দরজা বন্ধ করত না। এই একটি কাজই বলে দিচ্ছে, সে এখন সৌম্যর থেকে নিজেকে কতটা দূরে রাখতে চায়। সৌম্য নিজের বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল। ঘুম তার চোখের সামনে থেকে পালিয়ে গেছে। সে ভাবছিল—মা কি সত্যিই এই সম্পর্ক শেষ করতে চান? নাকি এই ভয় তাকে কুঁকড়ে দিচ্ছে? সে অস্থির হয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। পাশের বাড়ির জানালার আলো জ্বলছে। প্রতিবেশীদের হাসির শব্দ, বাসন মাজার শব্দ ভেসে আসছে। সৌম্যর বুকটা ধক করে উঠল। এই মানুষগুলোই যদি একবার সন্দেহ করে? যদি কেউ জানতে পারে যে এই বাড়ির ভেতরে কী ঘটেছে? তাহলে শুধু প্রতিমা নয়, তার নিজের অস্তিত্বও মুছে যাবে। রাত ১১টা। হঠাৎ প্রতিমার রুমের আলো নিভে গেল। সৌম্যর হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। সে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার পা যেন তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সেই বন্ধ দরজার কাছে। সে দরজায় কান পাতল। ভেতর থেকে খুব হালকা শব্দ আসছে। ডুকরে কেঁদে ওঠার শব্দ। প্রতিমা বালিশে মুখ চাপা দিয়ে কাঁদছে। সেই চাপা কান্নার শব্দ সৌম্যর বুকটা মুচড়ে দিল। সে অনুভব করল, প্রতিমা কেবল ভয়ে কাঁদছে না, সে হয়তো এক তীব্র অপরাধবোধে দগ্ধ হচ্ছে। সৌম্য খুব আস্তে দরজায় টোকা দিল। ফিসফিস করে ডাকল। "মা..." ভেতরের কান্নাটা হঠাৎ থেমে গেল। কিছুক্ষণ গভীর নীরবতা। তারপর প্রতিমার কণ্ঠস্বর ভেসে এল। স্নিগ্ধ, কিন্তু তাতে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। "ঘুমোতে যা, সৌম্য।" সৌম্যর কণ্ঠ কাঁপছে। "মা, তুমি কাঁদছো কেন? আমি জানি তুমি কষ্ট পাচ্ছো। প্লিজ দরজাটা খোলো।" "আমি বলেছি ঘুমোতে যা। আগামীকাল তোর দোকান খুলতে হবে। তুই রুমে গিয়ে শুয়ে পড়। আর কখনও আমার কাছে আসতে চাইবো না।" সৌম্যর মনে হলো তার বুকের ভেতর কেউ হাত দিয়ে চেপে ধরেছে। সে আর কিছু বলল না। মাথা নিচু করে নিজের রুমে ফিরে এল। সে জানত, প্রতিমা এই কথাটি কেবল বলছে না, সে এটি পালন করবে। কিন্তু সৌম্যর ভেতরের সেই আদিম বাসনা তাকে বলছে—এই দূরত্ব বেশিদিন টিকবে না। তাদের শরীরের টান, সেই নিষিদ্ধ মিলন তাদের এমন এক বন্ধনে বেঁধেছে, যা সামাজিক কোনো বাধা দিয়ে ভাঙা সম্ভব নয়। পরদিন সকাল। প্রতিমা খুব ভোরে উঠে রান্না শেষ করেছে। সৌম্যর জন্য খাবার তৈরি করে রেখে সে দ্রুত নিজের রুমে চলে গেছে। সৌম্য যখন দোকান খোলার জন্য বের হচ্ছিল, প্রতিমার সাথে তার কোনো কথা হয়নি। দুপুরে দোকানের সামনে দিয়ে প্রতিমার প্রতিবেশী মেয়েটি হেঁটে যাচ্ছিল। সে প্রতিমাকে ডাকল। "দিদি! একটু শুনুন না, আমার ওই মশলাটা কি আপনার কাছে হবে?" প্রতিমা হাসিমুখে বাইরে বেরোল। তার মুখে এখন সেই পরিচিত শান্ত ভাব। "হ্যাঁ রে, একটু দাঁড়াও, আমি ভেতরে থেকে নিয়ে আসি।" সৌম্য ঠিক সেই সময় দোকান থেকে ফিরছিল। সে দেখল তার মা ওই মেয়েটির সাথে খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন। কিন্তু যখনই প্রতিমার নজর সৌম্যর দিকে পড়ল, তিনি দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলেন। যেন সৌম্যর চোখের দিকে তাকালে তার সব গোপন পাপগুলো ফাঁস হয়ে যাবে। এভাবে দিনগুলো কাটতে লাগল। একই ছাদের নিচে দুজন মানুষ, কিন্তু তাদের মাঝে এক বিশাল হিমশৈল। দিনের বেলা তারা একে অপরের কাছে অপরিচিত। প্রতিমা খুব সংযত, কঠোর। সে সৌম্যর সাথে কথা বলে কেবল প্রয়োজনে। কিন্তু রাত নামলেই দৃশ্যপট বদলে যায়। যখন পুরো বাড়ি চুপচাপ হয়ে যায়, সৌম্য তার মায়ের ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সে দরজায় হাত বুলিয়ে দেয়, কখনও কপাল ঠেকিয়ে রাখে কাঠের প্যানে। সে অনুভব করতে পারে, দরজার ওপারে প্রতিমাও হয়তো একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের ভেতরে প্রতিমা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীর দেখছিল। তার চোখগুলো ভিজে আছে। সে নিজের স্তন দুটির দিকে তাকালো, যেখানে সৌম্যর ঠোঁটের দাগ এখনও যেন স্পষ্ট। তার যোনিতে সেই দহন অনুভব করতে পারে সে। শরীরটা প্রতি মুহূর্তে সৌম্যর কাছে ছুটে যেতে চায়। সে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরল। মনে মনে বলল, "আমি পারব। আমি ওকে থামাবো। এই পাপের শেষ হবে ধ্বংস।" কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতা যখন তাকে ঘিরে ধরে, প্রতিমার কল্পনাগুলো তাকে আক্রমণ করে। সে কল্পনা করে—হঠাৎ সৌম্য দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ল। তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল এবং তার সেই বিশাল লিঙ্গ দিয়ে তাকে আবার তৃপ্ত করল। এই কল্পনা প্রতিমার রক্তে এক অদ্ভুত উত্তেজা জাগিয়ে তোলে। তার নিপলগুলো শক্ত হয়ে ওঠে, যোনি থেকে রস ঝরতে শুরু করে। সে বুঝতে পারে, সে হেরে যাচ্ছে। সে প্রতিদিন সকালে নিজেকে শক্ত করে বলে, "আমি থামাবো সৌম্যকে।" কিন্তু রাতের অন্ধকারে সে শুধু অপেক্ষা করে—কবে সেই বাঁধ ভেঙে যাবে। প্রতিবেশীদের কথা, তাদের হাসাহাসি, সংসারের ছোটখাটো শব্দ—সবই প্রতিমার কানে বাজছে। সে জানে, এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সে জানে, সমাজ তাকে ক্ষমা করবে না। কিন্তু তার শরীর আর মন এখন আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই। একদিন বিকেলে সৌম্য বসার ঘরে বসে ছিল। প্রতিমা চা নিয়ে এল। টেবিলের ওপর কাপটা রাখার সময় তার হাতের আঙুলটা খুব সামান্য সৌম্যর হাতে স্পর্শ করল। প্রতিমা দ্রুত হাত সরিয়ে নিলেন, কিন্তু সৌম্য সেই স্পর্শটা অনুভব করল। "মা, আর কতদিন এভাবে থাকবে?" সৌম্যর কণ্ঠে এবার বিরক্তি। প্রতিমা তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন, "কীভাবে থাকবো? আমি তো স্বাভাবিকভাবেই থাকছি।" "স্বাভাবিক? তুমি কি মনে করো এই নীরবতা স্বাভাবিক? আমরা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা কি এত সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব?" প্রতিমা তার দিকে তাকালেন। তার চোখে এখন জল। "ভুলে যাওয়া সহজ নয়, সৌম্য। কিন্তু মনে রেখো, আমরা কী করেছি। তুই আমার ছেলে। আমি তোর মা। এই সম্পর্কটা কোনোদিন স্বীকৃত হবে না।" সৌম্য উঠে দাঁড়াল। তার উচ্চতা প্রতিমার চেয়ে অনেক বেশি, সে প্রতিমার খুব কাছে চলে এল। "আমি জানি এটা স্বীকৃত হবে না। কিন্তু আমার শরীর কি সেটা জানে? আমার মন কি সেটা মেনে নিয়েছে? আমি তোমাকে ভালোবাসি, মা। শুধু মা হিসেবে নয়।" প্রতিমা দ্রুত পিছিয়ে গেলেন। তার কণ্ঠে আতঙ্ক। "চুপ কর! এই কথা আর কখনও বলবি না। তুই যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসিস, তবে এই দূরত্বটা মেনে নে। অন্যথা আমরা দুজনেই শেষ হয়ে যাবো।" সৌম্যর মুখে একটা করুণ হাসি ফুটে উঠল। "আমরা তো শেষ হয়েই গেছি, মা। সমুদ্রের ওই হোটেলে আমরা নিজেদের শেষ করে দিয়েছি। এখন শুধু এই ধ্বংসাবশেষ নিয়ে বেঁচে থাকা।" প্রতিমা আর কোনো কথা বললেন না। দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলেন। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় তার শরীরের কাঁপন সৌম্যর চোখে ধরা পড়ল। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ির নিস্তব্ধতা আরও গভীর হয়। প্রতিমা তার বিছানায় শুয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে জানে, সৌম্য দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। সে শুনতে পায় সৌম্যর ভারী নিঃশ্বাস। সে নিজেকে বোঝায়—"আমি পারব।" কিন্তু তার মন ফিসফিস করে বলে—"একবার শুধু তাকে ভেতরে আসতে দাও।" এই দ্বন্দ্বই এখন প্রতিমার জীবন। ভয় আর আকাঙ্ক্ষার এক অন্তহীন যুদ্ধ। সে জানে, একদিন এই বাঁধ ভেঙে পড়বে। কারণ লোভ এবং লালসা যখন রক্তের সাথে মিশে যায়, তখন কোনো সামাজিক আইনই তাকে আটকাতে পারে না। সে কেবল সময় বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে তার সন্তান সৌম্যর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ধ্বংস না হয়। কিন্তু সে নিজেও জানে, এই লড়াইয়ে সে ইতিমধ্যেই হেরে গেছে। |







0 comments:
Post a Comment