![]() |
| লেখা - আসফিয়া রহমান পর্ব:০৩ ----------------------------হলজুড়ে ছুটির দিনের নিস্তব্ধতা। ক্লাস নেই, সবাই বেশিরভাগই ঘুমাচ্ছে। বিনীতা চুপচাপ টেবিলে বসে পড়ছিল। রুমের অন্য দুজন তখনো ঘুমিয়ে, আরেকজন বাইরে গেছে। হঠাৎ করেই বিনীতার মনে হলো ও যেন শ্বাস নিতে পারছে না ঠিকমতো। বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে আসছে। কলম ছেড়ে ওর হাত নিজের অজান্তেই চলে গেল গলায়। রিমি আপু, বিনীতার রুমমেট, রুমে ঢুকছিল সেই সময়, তখনই মেয়েটারং চোখ গেল বিনীতার দিকে। বিনীতার মুখচোখ কেমন ফ্যাকাশে হয়ে উঠেছে। রিমি নামের মেয়েটা তাড়াতাড়ি বিনীতার কাছে এগিয়ে এলো। "কি হয়েছে বিনীতা? তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?" রিমি আপু কপালে হাত রেখে অনুভব করার চেষ্টা করল জ্বর আছে কিনা। "আপু, কেমন যেন নিঃশ্বাস নিতে পারছি না…" বিনীতার কণ্ঠ অসহায় শোনাল। রিমি আপু চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করল, "কী বলছো তুমি! শ্বাসকষ্ট হচ্ছে নাকি?" বিনীতা মাথা নাড়ল। ও কথা বলতে পারছে না, বুকের ভেতরটা চেপে আসছে আস্তে আস্তে। "একটু দাঁড়াও, আমি রূপন্তিকে ডেকে আনি!" রিমি আপু এক মুহূর্ত দেরি না করে ছুটে গেল পাশের রুমে। রূপন্তি তখন অলসভাবে বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিল। ও ঘুম থেকে উঠেছে একটু আগেই। রিমি আপুর তাড়া দেয়া গলা শুনেই লাফ দিয়ে উঠল বিছানা থেকে। "রূপন্তি, বিনীতার মনে হয় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে! তাড়াতাড়ি চলো!" "কি বলছেন আপু?! আসছি!" রুপন্তি হতভম্ব গলায় বলল। ও প্রায় দৌড়ে বিনীতার রুমে চলে এলো। বিনীতাকে দেখে ওর বুকের ভেতর ধক করে উঠল। "বিনু! তোর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে?" বিনীতার কাছে আসতে আসতে উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করল রূপন্তি। "কেমন… দম বন্ধ লাগছে…" ক্লান্ত স্বরে বলল বিনীতা। রূপন্তি দ্রুত চিন্তা করল। "দেখি, তুই সোজা হয়ে বস। ভয় পাস না, কিছু হবে না।" রিমি আপু পাশ থেকে বলল, "আমি বাতাস করছি। রূপন্তি, তুমি ওর সাথে কথা বলো, উত্তেজিত হয়ে গেলে শ্বাসকষ্ট আরও বাড়বে।" রূপন্তি বিনীতার পিঠে হাত রাখল, "দেখি, তুই শান্ত হ তো আগে। সোজা হয়ে বস, কিছু হয়নি, এখনই ভালো হয়ে যাবে।" রূপন্তির কথায় বিনীতা একটু শান্ত হলো। কয়েক মিনিটের মধ্যে ওর শ্বাসকষ্ট কমতে লাগল। "এখন কেমন লাগছে?" স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করল রূপন্তি। "এখন একটু ভালো লাগছে…" "তোমার কি আগে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে?" রিমি আপু জিজ্ঞেস করল বিনীতাকে। "না আপু, কখনো হয়নি। বিল্ডিংয়ের পাশের খালি জায়গায় কেউ কিছু একটা পোড়াচ্ছে। ধোঁয়া থেকে বোধহয় সমস্যা হয়েছিল।" উত্তর দিল বিনীতা। "বিনু, রেডি হ। ডাক্তার দেখিয়ে আসি। এটা শুধু ধোঁয়ার জন্য নাকি অন্য কিছু, সিওর হওয়া দরকার। প্রাথমিক অবস্থায় পরীক্ষা করানো ভালো, পরে যদি বাড়াবাড়ি হয়?" রুপন্তির উদ্বিগ্ন গলা শুনে বিনীতা অবাক হয়ে তাকালো, "উফ্ তেমন কিছু হয়নি তো! ডাক্তার দেখানোর দরকার নেই।" "হু, কিছু হয়নি... সেইজন্যই তো একটু আগেই ভয় পেয়ে শ্বাসকষ্ট আরও বাড়িয়ে ফেলেছিলি! চুপচাপ রেডি হ।" রুপন্তির ধমক খেয়ে ঠোঁট উল্টে বিনীতা উঠে দাঁড়ালো। ওদের গন্তব্য এখন ঢাকা মেডিকেল। ____________________ বিনীতারা বসে আছে চেম্বারের সামনে। আরো দুজন পরে বিনীতার সিরিয়াল। ভেতরে ঢুকে বিনীতা দেখলো চেম্বারে ডক্টর আফাজ আহমেদ বসে। আফাজ আহমেদকে চেনে বিনীতা- ওর বাবার বন্ধু। এগিয়ে গিয়ে ও সালাম দিল তাকে, "আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল!" "ওয়ালাইকুম আসসালাম। আরে বিনীতা মা, তুমি! কেমন আছো?" "আমি ভালো আছি, আঙ্কেল। আপনি কেমন আছেন?" "আমিও ভালো আছি। হঠাৎ এখানে যে? কোন সমস্যা?" "আঙ্কেল, আজকে সকালে হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।" "আজকেই কি প্রথম হয়েছে? নাকি আগে থেকেই সমস্যা?" "না আঙ্কেল, আজকেই প্রথম।" "আচ্ছা, তুমি বসো।" এরপর ডক্টর আফাজ আহমেদ তার পাশে বসে থাকা ইন্টার্ন ডক্টরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "অর্ণব, তুমি ওর প্রাইমারি চেকআপ-টা করে আমার কাছে পাঠাও। বিনীতা এতক্ষণে খেয়াল করল আফাজ আহমেদের পাশের একটা চেয়ারে অর্ণব বসা। আজকে ওকে দেখে বিনীতা চিনতে পেরেছে। অর্ণব উঠে দাঁড়ালো তৎক্ষণাৎ,"জ্বি স্যার।" তারপর বিনীতার দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি আমার সাথে আসুন..।" "যাও বিনীতা। অর্ণব তোমার প্রাথমিক চেকআপ করে আমাকে রিপোর্ট দিক, তারপর আমি দেখছি।" বিনীতা অর্ণবের সাথে গিয়ে বসলো একটু দূরের পর্দা দেয়া বেডে। "কেমন আছেন, মিস বিনীতা?" "ভালো আছি! আপনি কেমন আছেন?" "আমিও আছি এই...কাজের প্রেসারে চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছি! তারপর বলুন, আপনার শ্বাসকষ্ট কি প্রথম আজকে সকালেই হয়েছে?" "হ্যাঁ, আজকেই।" "আচ্ছা, তাহলে প্রথমে আপনার হার্ট রেট-টা দেখি।" স্টেথোস্কোপ দিয়ে অর্ণব বিনীতার হার্ট রেট পরীক্ষা করছে। মেয়েটার হৃদস্পন্দন শুনতে শুনতে অর্ণব সহসাই নিজের হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা খেয়াল করলো। গতদিনের ছোটখাটো ভালো লাগাটা আজ হঠাৎ করেই বড় রূপ ধারণ করেছে যেন। মেয়েটার হৃদস্পন্দনের তালে তালে যেন ওর হৃদয়ও স্পন্দিত হচ্ছে। অর্ণবের হঠাৎ করেই এলোমেলো ঠেকছে সবকিছু। আচ্ছা, প্রেমে পড়া কি এতোই সহজ? সেদিন দূর থেকে মেয়েটাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিল ও, আজ, এই মুহূর্তে তাকে এত কাছ থেকে দেখে অর্ণবের মুগ্ধতা বাড়লো কয়েকগুণ। অর্ণব নিজেকে সামলে নিয়ে বিনীতার দিকে তাকাল। মুখটা আগের মতোই স্বাভাবিক রাখতে চাইল, কিন্তু এই মুহূর্তে বুকের ভেতর দুর্বার গতিতে যে ঝড় বইছে, তা থামানোর উপায় কী? "আপনার হার্ট রেট একটু দ্রুত, তবে সেটা প্রোবাবলি শ্বাসকষ্টের কারণে। এছাড়া আর কিছু অনুভব করেছিলেন কি? মাথা ঘোরা অথবা বুকে চাপ অনুভব হওয়া?" "মাথাটা একটু হালকা লাগছিল।" অর্ণব আরেকবার মেয়েটার দিকে তাকাল। ওর হৃদস্পন্দন এলোমেলো করে দিয়ে মেয়েটা মাথা নিচু করে বসে আছে চুপচাপ, লজ্জা-অস্বস্তিতে মাথা তুলে তাকাচ্ছে না কোনোদিকে। অর্ণব ছোট্ট করে একটা নিশ্বাস ফেলল। এটা কি সত্যিই ভালোলাগা? নাকি শুধু মোহ? "অক্সিজেন স্যাচুরেশন ঠিকঠাক। এটা ধোঁয়ার কারণে অ্যালার্জিক রেসপন্স ছিল সম্ভবত," অর্ণব রিপোর্টে কিছু নোট লিখতে লিখতে বলল, "ডক্টর আফাজ আহমেদ স্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, তবে আপাতত কিছু সময় আপনাকে পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার।" "মানে আমাকে এখন এখানে থাকতে হবে?" বিনীতা এবার যেন একটু বিরক্ত হলো। "হ্যাঁ, অন্তত কিছুক্ষণ। আপনার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ঠিক আছে, তবে শ্বাসকষ্টের কারণ হিসেবে ধোঁয়ার অ্যালার্জিক রেসপন্স বলেই মনে হচ্ছে। তবুও, যেহেতু এটা প্রথমবার হয়েছে, আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে, কোনো সেকেন্ডারি রিঅ্যাকশন হচ্ছে না।" "মানে?" "অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনের ক্ষেত্রে কখনো কখনো একটু দেরিতে আবারো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন পুনরায় শ্বাসকষ্ট হওয়া, গলা ফুলে যাওয়া বা অন্য কোনো অস্বস্তি। সাধারণত কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখলে বোঝা যায়, সমস্যা বাড়বে নাকি কমবে।" এটা বলার পর অর্ণবের নিজের মনেই যেন প্রশ্ন এলো, "বিনীতাকে কি ও নিজের কাছে ধরে রাখতে চাওয়ার বাহানা খুঁজছে?" কিন্তু, না! বিনীতাকে তো সত্যিই পর্যবেক্ষণ রাখা দরকার! রূপন্তি চেম্বারের বাইরে বসে আছে উশখুশ করছে অনেক্ষণ ধরে। একটু পর পর দরজার দিকে তাকাচ্ছে। ভেতরে বিনীতার এতক্ষণ লাগছে কেন? ওদিকে হঠাৎ করে বিনীতার এবার মনে পড়ল বাইরে বসে থাকা রূপন্তির কথা। এতক্ষণে মেয়েটা অস্থির হয়ে গেছে বোধহয়। "উফ! এই রূপন্তিটা না..! আমি তো আসতেই চাইনি, আর এখন এখানে এসে আটকে গেলাম! মেয়েটা বাইরে বসে বসে কী করছে কে জানে..." বিনীতা নিজের মনে বিড়বিড় করলেও অর্ণব ওর কাছাকাছি বসে থাকায় সবই পরিষ্কার শুনতে পেল। অর্ণব রিপোর্ট লেখার ফাঁকে বললো, "আপনি চাইলে নার্সকে বলতে পারি, বাইরে গিয়ে আপনার বন্ধুকে জানিয়ে দেবে। আর চাইলে আপনাকে এখনই ছেড়ে দিতে পারি, কিন্তু পরে যদি সমস্যা বাড়ে, তখন আরও বেশি ঝামেলা হবে। এটা স্রেফ নিশ্চিত হওয়ার জন্য।" বিনীতা এক মুহূর্ত চুপ থেকে অর্ণবকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওর চোখ পড়ল দরজার দিকে। রূপন্তি দরজা দিয়ে ভেতরে উঁকি দিচ্ছে! ডক্টর আফাজ আহমেদ রূপন্তিকে দেখে মনে করলেন, ও হয়তো পরবর্তী রোগী। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি নেক্সট পেশেন্ট? তাহলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন; যিনি ভেতরে আছেন, তার একটু সময় লাগবে।" রূপন্তি সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়িয়ে বলল, "না না, আমি পেশেন্ট নই! আসলে... আমি, ভিতরে যে আছে মানে বিনীতা- ওর সাথে এসেছি! ওর ফ্রেন্ড!" ডক্টর আফাজ একটু হাসলেন, "ওহ! চিন্তার কিছু নেই। তোমার ফ্রেন্ড ঠিক আছে, চিন্তা কোরো না। ভেতরে এসো; বিনীতা ওইপাশে আছে।" ইশারায় পর্দার ওপাশটা দেখালেন তিনি। "থ্যাংক ইউ, ডক্টর!" রুপন্তি এগিয়ে গেল ওদিকে। পর্দার ওপাশে যেতেই রূপান্তি দেখল অর্ণব আছে বিনীতার সাথে। অর্ণবকে দেখে কিছুটা অবাক হলো ও। তবে ভাবল অর্ণব তো এই হসপিটালেরই ইন্টার্ন- তাই ওর এখানে থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। বিনীতা এবার রূপন্তির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল, ওর ভ্রু একটু কুঁচকে আছে, যেন মনে মনে ভাবছে, এতক্ষণ ধরে ভেতরে কি হচ্ছে! বিনীতা হাসি চেপে বলল, "আমি ঠিক আছি, ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই!" "তুই সত্যিই ঠিক আছিস তো?" অর্ণব এবার একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, "আপনার বন্ধু ঠিক আছে। শুধু পর্যবেক্ষণের জন্য কিছুটা সময় থাকতে হবে। বসুন।" অর্ণব রূপন্তিকে বেডের পাশে থাকা একটা চেয়ার ইশারা করল। চেয়ারে বসতে বসতে অর্ণবকে প্রশ্ন করলো রূপন্তি, "এটা কেবল ধোঁয়ার ব্যাপার, নাকি অন্য রকম কিছু?" অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ থেকে হাতের রিপোর্টে দিকে তাকিয়ে বলল, "বিনীতার শ্বাসকষ্টটা ধোঁয়ার কারণে অ্যালার্জিক রেসপন্স কিনা সেটা নিশ্চিত হতেই পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার ছিল। তবে এখন সব কিছু ঠিকঠাক, তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে সামনের দিনগুলোতে সতর্ক থাকতে হবে।" রুপন্তি চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো, "বুঝতে পেরেছি।" বিনীতা রুপন্তির দিকে তাকিয়ে বলল, "এখন তো ঠিক লাগছে আমার। এত চিন্তা করিস না তো!" অর্ণব সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে, বিনীতাকে আবার পরীক্ষা করলো, প্রথমে হার্ট রেট ও শ্বাস প্রশ্বাসের গতি দেখল, তারপর অক্সিজেন স্যাচুরেশন চেক করল। সবকিছু ঠিক আছে দেখে নিয়ে নিশ্চিতভাবে বলল, "হ্যাঁ, এখন ঠিক আছে সব কিছু ঠিকঠাক আছে। আসুন।" তারপর লেখা রিপোর্টগুলো নিয়ে আফাজ আহমেদের টেবিলে চলে গেল অর্ণব। ডক্টর আফাজ সব দেখে শুনে বললেন, "সবকিছু নরমাল আছে।" রূপন্তি এবার সত্যিই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। "ঠিক আছে, তাহলে এবার চলে যাওয়া যাবে, তাই না?" আফাজ আহমেদ বললেন, "হ্যাঁ, এখন তুমি যেতে পারো। তবে বিনীতা, আগামীতে যদি কোনো সমস্যা হয়, দ্রুত ডাক্তার দেখাবে। খুব একটা দেরি কোরো না, বিশেষ করে যেসব জায়গায় ধোঁয়া বা দূষণ বেশি থাকে, সেখান থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করো।" বিনীতা এবার কৃতজ্ঞতা নিয়ে বলল, "জ্বি আঙ্কেল, ধন্যবাদ!" আফাজ আহমেদ আবার বললেন, "একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। আমি ইসিজি করিয়ে নিতে বলব। এতে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে, বিশেষ করে যদি হার্টের কোনো সমস্যা থাকে। তুমি চাইলে এখনই প্যাথলজি বিভাগে যেতে পারো।" বিনীতা একটু চিন্তিত হয়ে বলল, "ঠিক আছে, আঙ্কেল, আমি ইসিজি করিয়ে নেব।" অর্ণব তখন রিপোর্টের কিছু নোট নিচ্ছিল। চোখ তুলে এক মুহূর্ত বিনীতার দিকে তাকাল, তারপর বলল, "নিজের খেয়াল রাখবেন, মিস বিনীতা।" বিনীতা একটু অবাক হলো। ডাক্তারদের মুখে এমন কথা স্বাভাবিক, কিন্তু কেন যেন অর্ণবের কথাটা একটু অন্যরকম লাগল ওর কাছে। রূপন্তি ওর হাত টেনে বলল, "চল, অনেক দেরি হয়ে গেছে!" বিনীতা পেছনে একবার তাকিয়ে দেখল, অর্ণব ওদের বেরিয়ে যেতে দেখছে, কিন্তু চোখের ভাষাটা অন্যরকম- সেটা বুঝতে ব্যর্থ হল বিনীতা। সেটা কি শুধুই সাধারণ একজন ডাক্তার হিসেবে রোগীর প্রতি উদ্বেগ? না কি অন্য কিছু? তবে এতকিছু ভাবার সময় পেলোনা বিনীতা। রূপন্তি ওকে প্রায় টেনে বের করে আনল চেম্বার থেকে! তারপর ওরা দ্রুত চলে গেল প্যাথলজি বিভাগের দিকে। To be continued.......... |

0 Comments