![]() |
লেখিকা:সানজিদা আক্তার মুন্নীপর্ব:০২--------------------আনভির কথার কোনো উত্তরই দেয় না ওয়াহেজ। উল্টোনিস্পৃহ কণ্ঠে শুধু জানিয়ে দেয়,"তুমি চাইলে সোফায়থাকতে পারো,কিন্তু আমার বিছানায় তোমার জায়গা হবেনা।"আনভিও এর বিপরীতে কোনো প্রতিবাদ করে না, মুখফুটে একটি টু শব্দও করে না। নীরবে মেনে নিয়ে আলাদাএকটা ব্লাংকেট হাতে চুপচাপ সোফায় শুয়ে পড়ে। সবযন্ত্রণা কষ্ট এক পাশে রেখে নিদ্রায় ডুব দেয়।
ঘড়িতে এখন রাত চারটে।আনভি নিজের অন্য কিছু সাথে না আনলেও ফোনটাসাথে রেখেছে। নিস্তব্ধতা ভেঙে তার ফোনে বেজে ওঠেতাহাজ্জুদের এলার্ম। রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়ায় আজএলার্মটা ইচ্ছে করেই একটু দেরিতে দিয়েছে সে।এলার্মের শব্দে চোখ মেলতেই অভ্যাসবশত বিড়বিড় করেও"বিসমিল্লাহ"। ঘুম ছেড়ে উঠতে শরীর সায় দেয় না।আনভির চোখের পাতায় আঠার মতো লেগে আছে ঘুম।তবু সেই আড়ষ্টতা কাটিয়েঘুমজড়ানো চোখে উঠে দাঁড়ায় সে।অন্ধকারে কিছুটা সামনেই জায়নামাজে বসে আছেওয়াহেজ। নামাজ শেষ করে আপন ধ্যানে মগ্ন হয়ে বসেআছে জায়নামাজে। আনভির জেগে ওঠার শব্দটা কানেযেতেই মনে মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করেওয়াহেজ। যাক! মেয়েটা তাহলে নামাজ-কালাম পড়ে।অবশ্য তার পর্দার কড়াকড়ি দেখেই এমনটা আন্দাজকরেছিল সে, আর এখন হাতেনাতে তার প্রমাণ পেলো।এদিকে ঘুমের ঘোরে আনভি টেরই পায় না সামনে কেউআছে। হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ ওয়াহেজের পায়ের ওপর পাড়াদিয়ে বসে সে। পায়ের নিচে জ্যান্ত মানুষের স্পর্শ পেতেইছিটকে সরে দাঁড়ায় আনভি। অন্ধকারে বুঝতে পারে নাকার গায়ে লাগল! ওদিকে ওয়াহেজ একদম নিশ্চুপ, টুশব্দটিও করেন না সে যেমন বসে ছিল তেমনই স্থির হয়েবসে থাকে।ছিটকে সরে গিয়ে চোখ কচলাতে কচলাতে ঘরেরলাইটটা অন করে আনভি।আলো জ্বলে উঠতেই তার বিস্ময়েরসীমা থাকে না ওয়াহেজ কে জায়নামাজে বসে থাকতেদেখে! তার মানে ওয়াহেজ তাহাজ্জুদ পড়ছিলো?আর সেকিনা তার পায়েই... ছিঃ বিষয়টা মগজে আসতেইলজ্জায়আর অপরাধবোধে কুঁকড়ে যায় আনভি।দ্রুত ওয়াহেজেরসামনে বসে তার পায়ে আলতো হাত ছুঁয়ে তোতলামিকরেবলে ওঠে, "স..সরি! আমি... আমি আসলে খেয়ালইকরিনি আপনাকে।"ওয়াহেজ কোনো উত্তর দেয় না। ভারী এক নীরবতা সঙ্গীকরে সে জায়নামাজ থেকে উঠে দাঁড়ায়। মুখটা থমথমে,গম্ভীর করে রাখে। খুব যত্ন করে জায়নামাজটা ভাঁজ করেসে, এই ভাজের ভেতরেই নিজের বিরক্তিটুকু লুকিয়েরাখে। আনভি এমন দৃশ্য দেখে বেশ বিরক্তই হয়।ওয়াহেজের এমন আচরণে নিজের প্রতি এক ধরনেরঅপমানবোধ হতে থাকে তার। বুকের ভেতরটা কেমনযেনকরে ওঠে। একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে সে ধীরপায়েওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায়। মনে মনে ভাবে,কী অদ্ভুত এক মানুষ এই ওয়াহেজ ইবনান! দুর্বোধ্য এবং কঠিন একমানব।ওয়াহেজ ততক্ষণে পড়ার টেবিলে গিয়ে বসেছে। সামনেকোরআন শরীফ রাখা সেটি বিসমিল্লাহ বলে খোলে।আনভি ওজু সেরে এসে তোয়ালেতে মুখ মুছতে মুছতেচারপাশে চোখ বোলায়। সে জায়নামাজ খুঁজছে মূলত।ওটা ভাঁজ করা অবস্থায় রাখা সেই টেবিলটায়, যেখানেবসে ওয়াহেজ এখন কোরআন তেলাওয়াতের প্রস্তুতিনিচ্ছে। আনভি ধীরপায়ে টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়।এগিয়ে গিয়ে যেই না সে জায়নামাজটা স্পর্শ করে, অমনিওয়াহেজ কোরআন শরীফ বন্ধ করে তীক্ষ্ণ স্বরে ধমকেওঠে, "ওই আলমারিতে আরেকটা আছে। এইটায় হাতদেবে না। খবরদার! আমার কোনো জিনিসে হাত দেবেনা।"নিস্তব্ধ ঘরে হঠাৎ এমন ধমকে আনভি চমকে ওঠে।শরীরটা কেঁপে ওঠে তার। কিন্তু পরমুহুর্তেই নিজেকেসামলে নেয় সে। জায়নামাজ থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়েশান্ত চোখে তাকায় ওয়াহেজের দিকে তারপর সরাসরিপ্রশ্ন করে বসে, "আপনি এতটা রুড কেন বলুন তো?একটু সুন্দরভাবে কি কথা বলা যায় না?"ওয়াহেজ কিছু বলতে যাবে, তার আগেই আনভি থামিয়েদিয়ে আবার বলে, "ক্বলবের তো একটা নিজস্ব সৌন্দর্যআছে। আপনি চাইলেই সুন্দর করে বলতে পারতেন ‘এইজায়নামাজটা আমার, তুমি অন্যটা ব্যবহার করো।’ আমিআপনার স্ত্রী। আপনি সেটা মনেপ্রাণে মানুন বা না মানুন,কাগজে-কলমে আমি আপনার স্ত্রী। আর স্ত্রী হিসেবে নাহোক, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তো অন্তত মার্জিতভাষায় কথা বলা আপনার দায়িত্ব। এই জবান আল্লাহরদান, এটা আপনার একার সম্পত্তি নয়। এর সদ্ব্যবহারকরুন।"একনাগাড়ে কথাগুলো বলে আনভি উত্তরের অপেক্ষা নাকরেই আলমারির দিকে এগিয়ে যায়। ওয়াহেজ চুপ করেথাকে। আনভির যুক্তির পিঠে দাঁড় করানোর মতো কোনোশব্দ তার মুখে আসে না। আসলে সে নিরুপায়। তারমনেরগহীনে এখনো ‘সারা’র বসবাস। কাউকে ভালোবাসাঅবস্থায় অন্য কাউকে মেনে নেওয়া যে কতটা কঠিন, তাকেবল ওয়াহেজই জানে। এক বিশাল দোটানায় ভুগছেসে। আনভিকে সে কোনোভাবেই নিজের জীবনে জায়গাদিতে পারছে না, হয়তো কোনোদিন পারবেও না।আনভি নতুন জায়নামাজ বিছিয়ে নেয়। "বিসমিল্লাহ"বলে তাহাজ্জুদের নিয়ত বাঁধে। বাইরের পৃথিবী এখন ঘুমেআচ্ছন্ন, কিন্তু এই ঘরে দুজন মানুষ জেগে আছে একজনপ্রার্থনায়, আর অন্যজন অনুশোচনা আর ভালোবাসারদ্বন্দ্বে।আনভি সামাইরা সিদ্রা—আনভি ইয়াহিয়া দেওয়ানেরমেয়ে। বয়স বাইশ, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সাথেএকজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার এতটুকু এখন জেনে রাখুনতার পরিচয় সম্পর্কে।ওয়াহেজ ইবনান প্রেসিডেন্ট অব বাংলাদেশ। বয়সএকত্রিশ (গল্পের ক্ষেত্রে বয়স কম দেওয়া হলো)। ভাই-বোন তারা তিনজন: বড় বোন ওয়াজিফা, তারপর সে,তারপর তার ছোট বোন আইরা, যে আনভির বয়সি। বাবামিস্টার রেজওয়ান ইবনান, মা উষা খাতুন।সকাল গড়িয়েছে বেশ খানিকটা।হাতে একটা গাঢ় নীল রঙের দামি শাড়ি আর ছিমছামকিছু গয়না নিয়ে ওয়াহেজের মা, উষা, ধীর পায়ে ছেলেরঘরের দিকে এগিয়ে আসেন। এখন ওয়াহেজ ঘরে নেই,সম্ভবত সকালেই কোথাও বেরিয়ে গেছে। বিশাল ঘরটারএক কোণে রাখা সোফায় গুটিসুটি মেরে বসে আছেআনভি। তার করার মতো কিছুই নেই, তাই অলস সময়কাটাতে ঝিমুচ্ছে সে।তাদের ঘরের সামনে এসে উষা দেখে ঘরের দরজাটাআধখোলা। এ দেখে উষা প্রথমে একটু উঁকি দেন,তারপরসতর্ক পায়ে ঘরে প্রবেশ করেন ঘরে। হঠাৎ শাশুড়িকেদেখামাত্রই আনভির তন্দ্রা টুটে যায়। ধড়ফড় করে একলাফে দাঁড়িয়ে পড়ে সে। হঠাৎ উষাকে দেখে কিছুটাবিচলিত হয়ে তড়িঘড়ি করে মাথায় ওড়নাটা টেনে নিয়েভীরু পায়ে এগিয়ে আসে তার দিকে আনভি।উষার মুখটা থমথমে, ভীষণ ভারী হয়ে আছে। উনার এইগম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে আনভির বুকের ভেতরটামোচড় দিয়ে ওঠে। সে স্পষ্ট বুঝতে পারে, ছেলের বউহিসেবে এই নারী তাকে মন থেকে মেনে নেননি। সববুঝেও সংকোচ কাটিয়ে আনভি সালাম দেয়, কিন্তু উষাসেই সালামের কোনো উত্তর দেন না। বরং আনভির দিকেহাতের শাড়ি ও গয়নাগুলো বাড়িয়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরেবলেন, "এই নাও। এগুলো পরে তৈরি হয়ে থেকো। আজআমার বান্ধবীরা তোমাকে দেখতে আসবে। চিন্তা করোনা, ওখানে কোনো পুরুষ থাকবে না।"আনভি বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নেড়ে উত্তর দেয়, "জিআচ্ছা।"উষা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ান, কিন্তু হঠাৎ থমকেদাঁড়ান। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে আনভির দিকে ছুড়ে দেনএক কঠিন ও অপমানজনক নির্দেশ, "শোনো, কেউজিজ্ঞেস করলে বলবে তুমি ইয়াহিয়া সাহেবের একআত্মীয়ের মেয়ে। এতিম, তাই তিনি তোমাকে বড়করেছেন। এটা বললাম কারণ সমাজের সামনে তোমাকে'অবৈধ সন্তান' বলে পরিচয় করিয়ে দিতে পারব না। আরযাই হোক, আমাদের একটা সম্মান আছে।"কথাটা বলেই তিনি দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান।আনভি পাথরের মতো ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। শব্দগুলোকানের পর্দায় তীরের মতো বিঁধছে। 'অবৈধ সন্তান' শব্দটাতার সত্তায় আগুনের মতো জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। বাবারস্বীকৃতি পেলে হয়তো আজ তাকে এই অপবাদ শুনতেহতো না। সে তো অবৈধ নয়, তবে কেন সবাই তাকেএভাবে দেখে? কেন এই মিথ্যে ধারণা সবার মনে? হাতেরশাড়ি আর গয়নাগুলো একরকম অবহেলায় সোফারওপর ছুড়ে ফেলে আনভি। ঠিক তখনই সোফায় পড়েথাকা ফোনটা কেঁপে ওঠে। স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে একটাঅচেনা নম্বর। অচেনা নাম্বার দেখে আনভি কৌতূহল নিয়েফোনটা রিসিভ করে কানে তুলে। কানে তুলতেই ওপাশথেকে ভেসে আসে ইয়াহিয়া সাহেবের গলা। তিনি জানতেচান, "সব ঠিক আছে তো?"কণ্ঠস্বরটা চেনার সাথে সাথে আনভির চোয়াল শক্ত হয়েআসে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সে অত্যন্ত ঠান্ডা গলায়উত্তর দেয়, "আমাকে ফোন দেবেন না। আমার ঠিক-বেঠিক জানার কেউ নন আপনি। কে আপনি? কোনঅধিকারে ফোন দিয়েছেন? কাপুরুষ কোথাকার! ফোনরাখুন।"এটা বলা মাত্রই ওপাশ থেকে ইয়াহিয়া সাহেবের রাগান্বিতস্বর ভেসে আসে, "অদ্ভুত আচরণ! কেন করছো এমনআনভি? নিজের পিতাকে কেউ এভাবে কাপুরুষ বলে?বিয়ে হয়েছে বলে বেশি বাড়িও না। ডানা ছাঁটতে কিন্তুআমার সময় লাগবে না, মনে রেখো।"আনভি এবার আর নিজেকে সামলাতে না পেরে তীব্রঘৃণায় ফেটে পড়ে সে, "যে নিজের সন্তানকে সবার সামনেনিজের বলে পরিচয় দেয় না, যার জন্য তার সন্তানকেমানুষ 'অবৈধ' বলে ডাকে, সে তো কাপুরুষই! আর কীকরবেন আপনি? কী করার আছে আপনার? নিজেরদাপট নিজের কাছেই রাখুন, মিস্টার দেওয়ান।""সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছো তুমি আনভি! শুকরিয়া আদায়করো যে প্রেসিডেন্টের পরিবারে তোমার বিয়ে হয়েছে,সেটাও আমারই জন্য। এত বড় পরিবারে গিয়েছ…আনভি তাকে থামিয়ে দিয়ে বিদ্রূপের হাসি হেসে বলে,"হ্যাঁ, আদায় করছি। খুব করে আদায় করছি। আপনিযেমন, ঠিক তেমনই একটা পরিবারে দিয়েছেন আমাকে।যার সাথে বিয়ে দিয়েছেন, সে তো আমাকে বউ-ই মনেকরে না। আপনার মতো জানোয়ারই কেন আমার বাবাহলো, আমি ভেবে পাই না! বাবারা নাকি সন্তানের ভালোচায়, অথচ আমার বাবা সবসময় আমার খারাপ চেয়েএসেছেন। এমনকি আমার জীবনটাই আপনি বৃথা করেদিয়েছেন।"এগুলো বলে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েআনভি সজোরে ফোনটা কেটে দেয়। ফোনের স্ক্রিনটানিভে যায়, কিন্তু তার ভেতরের আগুনটা দাউদাউ করেজ্বলতে থাকে। এই কথোপকথন যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তিশুনত, তবে নির্দ্বিধায় আনভিকে 'বেয়াদব' বা 'উদ্ধত'বলে রায় দিয়ে দিত।কিন্তু কেউ যদি তার আর তার বাবারসম্পর্কের পেছনের করুণ ইতিহাসটা জানত, তবে সে-ওদীর্ঘশ্বাস ফেলে বলত "এমন বাবা যেন কারো না হয়।"ফোনটা কেটে আনভি বিরক্তি নিয়ে বিছানায় রাখা শাড়ি,চুড়ি আর গহনাগুলোর দিকে তাকায়। এসব সাজসজ্জাতার একদমই পছন্দ নয়, বরং একধরণের অস্বস্তি কাজকরছে এগুলো দেখে। তাও উপায় নেই। আনভি শাড়ি,ব্লাউজ আর পেটিকোট হাতে নিয়ে কাপড় বদলানোরকক্ষে যায়।পেটিকোট আর ব্লাউজটা কোনোমতে গায়ে চড়ালেওবিপত্তি বাধে শাড়ি নিয়ে। জীবনেও সে শাড়ি পরেনি,নিয়ম-কানুনও জানে না। অগত্যা ফোনটা হাতে নিয়েইউটিউবে শাড়ি পরার টিউটোরিয়াল অন করে সে।ভিডিওর নির্দেশনায় আপ্রাণ চেষ্টা করছে শাড়িটা কোমরেপ্যাঁচানোর, আঁচলটা মেঝের ওপর লুটোপুটি খাচ্ছে।আনভি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগে শাড়িকোমরে পেচাতে ব্যস্ত। দরজার হুক যে লাগানো হয়নি,সেদিকে তার খেয়ালই নেই।ঠিক সেই মুহূর্তে, কোনো নক ছাড়াই দরজা ঠেলে রুমেপ্রবেশ করে ওয়াহেজ। ভেতরে পা রাখতেই তার পায়েরগতি থেমে যায়, চোখ আটকে যায় সামনের দৃশ্যে। গাঢ়নীল রঙের পেটিকোট আর ব্লাউজ পরিহিত আনভিআয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। শাড়ি গায়ে জড়ানো নেই।আনভির ধবধবে ফর্সা মেদহীন পেট আর পিঠ স্পষ্ট হয়েউঠেছে ওয়াহেজের চোখে। এত কাছে দাঁড়িয়ে থাকায়আনভির নাভির পাশের ছোট্ট কালো তিলটাও তার নজরএড়ায় না।আনভি আয়নায় ওয়াহেজকে দেখেই জমে যায়।বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো দুজনই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে একেঅপরের দিকে তাকিয়ে থাকে কয়েক মুহূর্ত। সংবিৎফিরতেই আনভি মেঝের ওপর থেকে আঁচলটা তুলেকোনোমতে গায়ে জড়িয়ে আর্তনাদ করে ওঠে,"আস্তাগফিরুল্লাহ! নাউজুবিল্লাহ! আল্লাহ, আমার সবদেখে নিল! আল্লাহ তুমি এনার স্মৃতিশক্তি কেড়ে নাও!"আনভির চিৎকারে ওয়াহেজও যেন ঘোর থেকে ফিরেআসে। ঝট করে উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়ে সেও বিড়বিড় করেওঠে, "আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম! আল্লাহতুমি একি দেখালে আমায়? ছিঃ ছিঃ!"ছিঃ ছিঃ তো করছে কিন্তু পরক্ষণেই তার মনের অবচেতনকোণ থেকে আওয়াজ আসে কী সুন্দর দৃশ্য ছিল ওটা!ওয়াহেজের পায়ের তলা কাঁপছে। ইশশ এটা তার দেখাউচিত হয়নি। নাহ! একদম ঠিক হয়নি। সে তো ভেবেছিলআনভি হয়তো ঘরে নেই, নিচে আছে। তার এখনই প্রেসমিটিংয়ে বের হওয়ার কথা তাই রেডি হওয়ার জন্যএসেছে রুমে।ওদিকে আনভি লজ্জায় আর সংকোচে মাটিতেমিশে যাচ্ছে। তার হাত-পা ঠকঠক করে কাঁপছে। মনেরভেতর অজানা ভয় দানা বাঁধছে ওয়াহেজ কি তাকেডিভোর্স দেবে? যদি দেয় তাহলে তো আনভির আসলমাহরামের হক নষ্ট হয়ে গেল। ওয়াহেজ তো তার মাহরাম,কিন্তু এভাবে খোলামেলা অবস্থায় তাকে দেখে ফেলল!আনভি প্রচণ্ড ডিপ্রেশনে পড়ে যায়। যে মেয়ে কখনোকোনো পরপুরুষের মুখোমুখি হয়নি, আজ তার এইঅবস্থা!মনটা আনচান করছে ওর, তবুও অনেক কষ্টে শাড়িটাকোনোমতে জড়িয়ে আনভি ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়েআসে। মনে মনে দোয়া করছে, যাতে ওয়াহেজের সামনেপড়তে না হয়। কিন্তু রুম থেকে বের হতেই দেখেওয়াহেজও ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে।ভাগ্যিস টাওয়েল পরে নয়, টিশার্ট আর ট্রাউজার পরেইবের হয়েছে।আনভিকে দেখেই ওয়াহেজ এদিক-ওদিক তাকাতে শুরুকরে। কী ভীষণ লজ্জা! এখন সে কীভাবে আনভির দিকেতাকাবে? আনভিও লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতে পারছেনা। দুজনেরই হৃৎস্পন্দন শোনা যাচ্ছে। এক পর্যায়েনীরবতা ভেঙে ওয়াহেজ জোরে একটা অস্বস্তিকর শ্বাসছেড়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, "লিসেন, এটা একটামিস্টেক ছিল। আমাদের এটা ভুলে যাওয়া উচিত।"ওয়াহেজের কথায় আনভিও সামান্য সাহস পায়। চোখেরপাতা ঝাপটিয়ে, আমতা আমতা করে সে বলে,"জি... জিঠিক আছে। তবে এরপর থেকে নক করবেন। এভাবে হুটকরে প্রবেশ করবেন না।"ওয়াহেজও মাথা নেড়ে সায় দেয়,"তুমিও দরজাটা লক রেখো।"কথাটা বলেই ওয়াহেজ দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়েযাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। কিন্তু দরজার চৌকাঠে গিয়েইতার পা থেমে যায়। মন মানছে না। একটিবার আনভিকেদেখার প্রবল ইচ্ছে তাকে পিছু টানে। নিজের ইচ্ছাকেপ্রাধান্য দিয়ে ওয়াহেজ পিছনে ঘুরে আনভির তাকায়।নীল রঙের শাড়িতে আনভিকে আজ নিরুপমা লাগছে।অসাধারণ সুন্দর লাগছে।ইশশ এমন একজন সুন্দর মানুষঘরে রেখে কিভাবে ওয়াহেজ নিজের দৃষ্টি কে সংযতরাখবে? আনভির থেকেও বেশি সুন্দর লাগছে আনভিরচুলগুলো। ওয়াহেজ এই প্রথম খেয়াল করল আনভিরচুল এত লম্বা!খোলা চুলগুলো পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে ঝরঝরকরে পড়ছে। ঘন কালো কেশরাশি। এমন চুল ওয়াহেজবাস্তবে কখনো দেখেনি, তবে তার জানা আছে এই চুলসম্পর্কে। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি 'অ্যানাজেন ফেজ'-এরদীর্ঘস্থায়ী রূপ। এটি কোনো জাদুকরী বিষয় নয়, বরংজিনেটিক্সের একটি বিরল খেলা আর বিশ্বের মোটজনসংখ্যার মধ্যে ১ শতাংশেরও অনেক কম মানুষের চুলএত লম্বা হয়। ওয়াহেজ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণআনভির পানে।ওয়াহেজকে নিজের দিকে এভাবে হা করে তাকিয়েথাকতে দেখে আনভি ভ্রু কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়।আনভির সেই তাকানোতে ওয়াহেজের ধ্যান ভাঙে।অপ্রস্তুত হয়ে সে তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তারভীষণ তাড়া আছে, নাস্তা করে রেডি হয়ে প্রেস মিটিংয়েছুটতে হবে। এসব রোমান্টিকতায় মজে থাকলে চলবে না।প্রেস মিটিংয়ে বসে আছে ওয়াহেজ। কনফারেন্স রুমটাগিজগিজ করছে সাংবাদিক আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশে।বাতাসের ভারী ভাব বুঝিয়ে দিচ্ছে পরিস্থিতি কতটাথমথমে। গতকাল রাতে, অর্থাৎ তার বিয়ের রাতেই সেএক অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার জন্য সারা দেশেটিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ইউটিউবনিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তার বদলে চালু করা হয়েছেদেশীয় প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ কানেক্ট’। সাথে জুড়ে দেওয়াহয়েছে কড়া নির্দেশ তা হলো পনেরো বছরের নিচে কেউসোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবে না।তার ভাষ্যমতে, এর একমাত্র উদ্দেশ্য ‘ডেটা বা তথ্যনিরাপত্তা’। অর্থাৎ নিজেদের দেশের তথ্য নিজেদেরকাছে রাখা।কিন্তু হুজুগে বাঙালি কি আর অত প্যাঁচ বোঝে?তারা ভালো-মন্দের হিসাব কষার চেয়ে আবেগে ভাসতেবেশি পছন্দ করে। তাই তো দেশজুড়ে শুরু হয়েছেআন্দোলন ‘জ্বালাও-পোড়াও’, ‘মারো-কাটো’, ‘সরকারনামাও’। পরিস্থিতি সামাল দিতেই আজ স্বয়ং প্রেসিডেন্ট,মানে ওয়াহেজ এসেছে মিডিয়ার মুখোমুখি হতে।সাংবাদিকরা উত্তেজনায় ফুটছেন, একের পর এক প্রশ্নআর অভিযোগের তীর ছুড়ছেন ওয়াহেজের দিকে।“মিঃ প্রেসিডেন্ট, এটা কি বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়?”“তরুণ প্রজন্ম কি তবে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে?”“জনগণ কি এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে?”প্রশ্নবাণে জর্জরিত মঞ্চ, অথচ ওয়াহেজ অদ্ভুত রকমশান্তিনিয়ে বসে আছে। তার চোখেমুখে কোনো ভাবান্তরই নেই।সে শুধু মাথা নেড়ে সবার কথা শুনছে, প্রতিটি অভিযোগ ।মনোযোগ দিয়ে হজম করছে। ঘণ্টাখানেক ধরে চলা ।অভিযোগ আর প্রশ্নের ঝড় যখন কিছুটা থিতিয়ে আসে,তখন নড়েচড়ে বসে ওয়াহেজ। এতক্ষণ ধরে সবার সবকথা, সব বিষোদ্গার সে মুখ বুজে শুনেছে। হলরুমটাহঠাৎ পিনপতন নীরবতায় ডুবে যায়। সবাই অধীর আগ্রহেঅপেক্ষা করছে প্রেসিডেন্টের উত্তরের জন্য।ওয়াহেজ ধীরস্থির ভঙ্গিতে মাইকটা নিজের দিকে টেনেনেয়। তার দৃষ্টি একবার পুরো ঘরটা স্ক্যান করে নেয়,তারপর ভরাট ও গম্ভীর কণ্ঠে সে বলতে শুরু করে...বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় দেশবাসী।আপনারা জানেন কেন আজ আমি এখানে। গতকালআমার কলমের এক খোঁচায় বাংলাদেশ থেকে ফেসবুক,টিকটক, ইউটিউব, টুইটারের মতো তথাকথিত 'ডিজিটালআফিম' নিষিদ্ধ হয়েছে। আর তাতেই আপনাদেরঅনেকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে, তাই না? রাস্তায়নেমেছেন? গলার রগ ফুলিয়ে আমার মুণ্ডুপাত করছেন?করুন! যত খুশি গালি দিন! কিন্তু মনে রাখবেন বিষনামাতে গেলে শরীরে একটু জ্বালাপোড়া করবেই। এইজ্বালাপোড়া সুস্থতার লক্ষণ। আপনারা আমাকে জিজ্ঞেসকরছেন, "কেন এই নিষেধাজ্ঞা? কেন এই কঠোরতা?"আমি পাল্টা প্রশ্ন করছি আমরা কি ভিখারি?আমাদের কিনিজস্ব কোনো স্বকীয়তা নেই? কেন আমাদের জনগণেরডেটা,আমাদের রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ভিনদেশি সার্ভারেজমা থাকবে? আমরা নিজেদের মেধা দিয়ে যখন নিজস্বপ্ল্যাটফর্ম দাঁড় করিয়েছি, তখন অন্যের দোরগোড়ায়গোলামি কেন?দাসত্বের শিকল ভাঙতে কষ্ট হয়, আমি জানি। যুগ যুগধরে এই বিদেশি অ্যালগরিদমের দাসত্ব আমাদের মগজেঢুকে গেছে। কিন্তু এই শিকল আমি রাখব না! আপনারাঅহেতুক কীসের জন্য ক্ষিপ্ত হচ্ছেন? আমি কি সবকিছুনিষিদ্ধ করে আপনাদের অন্ধ করে দিয়েছি? না! আমিআপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি বিকল্প। সেই বিকল্প ব্যবহারকরুন! আমরা তৈরি করেছি একেবারে নতুন, নিজস্বএকটি অল-ইন-ওয়ান সুপার প্ল্যাটফর্ম যার নাম"Bangladesh Connect"!এক জায়গায় পাবেন সব সোশ্যাল ফিড,বিনোদনের জন্যশর্ট ভিডিও, ছবি স্টোরি শেয়ারিং, আর প্রিয়জনের সাথেদ্রুত বার্তা বিনিময়ের সুবিধা সাথে ইউটিউবের মতোভিডিও দেখতে পাবেন।এই প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি কোড, প্রতিটি পিক্সেল আমাদেরদেশি তরুণদের হাতে সাজানো। এখানে আমরা সর্বোচ্চ ।গুরুত্ব দিয়েছি তিনটি বিষয়কে:১ ডেটা সিকিউরিটি: আপনার তথ্য দেশের সার্ভারেথাকবে, কোনো বিদেশি বেনিয়াদের হাতে নয়।২. ইউজার প্রাইভেসি: আপনার ব্যক্তিগত জীবন সুরক্ষিতথাকবে।৩. আধুনিক প্রযুক্তি: যা বিশ্বের যেকোনো নামিদামিঅ্যাপের সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম।এখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজের মত প্রকাশ করতেপারবেন নিরাপদে, স্বাধীনভাবে এবং সহজভাবে। আমরাশুধু একটি অ্যাপ তৈরি করিনি আমরা উন্মোচন করেছিআমাদের 'ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের' নতুন দরজা।আমরা কোলাবোরেশন রেখেছি। আপনারা আমাদেরপ্ল্যাটফর্ম থেকেও বিদেশের প্রয়োজনীয় কনটেন্টদেখবেন, বাইরের বিশ্বও আমাদের কনটেন্ট দেখবে।কিন্তু পার্থক্য হলো এবার দড়ি থাকবে আমাদের হাতে,কোনো বিদেশী প্রভুর হাতে নয়!এবং আমার আরেকটি কথাটি স্পষ্ট শুনে রাখুন।আমিপনেরো বছরের নিচে কোনো শিশুকে এই ডিজিটালস্ক্রিনের আসক্তিতে ডুবতে দেব না। আমাদের নতুনপ্ল্যাটফর্মে একজন ব্যক্তি একবারের বেশি অ্যাকাউন্টখুলতে পারবে না এবং শর্ত একটাই বয়স হতে হবে ।পনেরোর ঊর্ধ্বে! জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনযাচাই করেই কেবল প্রবেশাধিকার মিলবে।আপনারাআন্দোলনে নেমে ১৫ বছরের নিচের বাচ্চাদের জন্য কেনসোশ্যাল ব্যান করেছি সে কথা বলছেন? একবার ওদেরদিকে তাকান! কী বানিয়েছেন আপনারা ওদের?বিশ্বের অন্য প্রান্তে যখন কিশোররাল্যাবরেটরিতে বসে মঙ্গল গ্রহেযাওয়ার ছক কষছে, তখন আমাদের বেশির-ভাগ ।কিশোররা রিলস বানিয়ে কোমর দোলাচ্ছে! 'ক্রিন্জ'কন্টেন্ট গিলতে গিলতে ওদের মগজ পচে পুঁজ হয়ে গেছে।ওরা রোবট বানাবে কী? ওরা নিজেরাই তো একেকটামগজহীন রোবট হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন! আমি এইআত্মঘাতী প্রজন্ম মেনে নেব না!স্কুলব্যাগ ফেলে হাতেস্মার্টফোন নিয়ে যারা দেশ ও সমাজকে গোল্লায় দিচ্ছে,তাদের প্রশ্রয় আমি দেব না। ছাত্ররা টেবিলে থাকবে, মাঠেথাকবে মোবাইল স্ক্রিনে নয়! রিলসে ক্রিয়েট করতেকরতেবড় হবে আর একটু বড় হয়েই দেশ ছেড়ে পালানোর ।ধান্দা, আর দেশে থাকলে চুরির ধান্দা এই কালচার আমিশেকড়সহ উপড়ে ফেলব ইনশাআল্লাহ।আপনারা আমাকে স্যালুট দেবেন কী, উল্টো চোখরাঙাচ্ছেন?শুনে রাখুন, আমি ' ওয়াহেজে ইবনান ' সেইশাসক নই যে আপনাদের হাততালির আশায় দেশেরসার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দেবে। বিশ্ব কী করছে, তাতেআমার কিছু যায় আসে না। বিশ্ব গোল্লায় যাক! আমিআমার দেশকে বাঁচাতে যা প্রয়োজন মনে হবে, সেটাই ।করব। আমরা কারো তালে নাচব না, আমরা আমাদেরতালে নাচাব!বিকল্প দিয়েছি, সেই দেশি প্ল্যাটফর্মে আসুন!'Bangladesh Connect'-এ আসুন! সেখানে শৃঙ্খলাআছে, দেশপ্রেম আছে, আমাদের মাটির সুর আছে।আর যারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে 'বাকস্বাধীনতা'র বুলিআউড়ে রাস্তায় নামার সাহস দেখাচ্ছেন তাদের আমিস্পষ্ট সাবধান করে দিচ্ছি!এটা কোনো রাজনৈতিক খেলা নয়,এটা অস্তিত্বের যুদ্ধ। আন্দোলনের নামে যদি কেউঅরাজকতা করতে আসেন, তবে মনে রাখবেন আমিযেমন গড়তে জানি, তেমন ভাঙতেও জানি।আর আগামীএক মাসের ভেতর বাকি সাইডগুলোও দ্রুত ব্যান করে ।দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। বিকল্প তৈরি হচ্ছে।দিস ইজ ওয়াহেজ ইবনান, প্রেসিডেন্ট অব বাংলাদেশ।আমি কোনো কৈফিয়ত দিতে আসিনি, আমি কালচারবদলাতে এসেছি। আজ থেকে যা নিষিদ্ধ, তা এদেশেরমাটি ও মানুষের মঙ্গলের জন্যই নিষিদ্ধ। এই সিদ্ধান্তপাথরের ওপর খোদাই করা তা আর মুছবে না।জেগেউঠুন! দাসত্বের জিঞ্জির ছিঁড়ে ফেলুন!বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!উত্তর দিতে গিয়ে ওয়াহেজ বেশ খানিকটা সময় নিয়,প্রতিটি শব্দ মেপে মেপে ছুঁড়ে। তার বাচনভঙ্গি এমন ছিলযা মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত জনতার রক্ত গরম করেদেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটা কোনো সাধারণ উত্তর ছিল না,বরং ওয়াহেজ এক অত্যন্ত চতুর কৌশল কাজে লাগাল।বিশাল এই জনশক্তিকে নিজের পক্ষে টানার জন্য এমনশক্তিশালী বক্তৃতার চেয়ে বড় কোনো হাতিয়ার আর হতেপারে না।নিজের বক্তব্য শেষ করেই সে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসেরসাথে ঘোষণা করে,"আমি আমার পক্ষ থেকে সবকিছু পরিষ্কার করে বুঝিয়েদিলাম। এখন এটা মানা বা না মানা সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণআপনাদের ওপর। তবে এটুকু নিশ্চিত থাকুন, আমিআপনাদের ভালোই চাই। আশা করি, সবাই নিজেদেরউত্তর পেয়ে গেছেন। আসসালামু আলাইকুম।"এতটুকু বলেই ওয়াহেজ তার কনফারেন্স শেষ করে।তার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার লেশমাত্র নেই।সে ধীরস্থিরভাবে সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় এবং বডিগার্ডদের কড়ানিরাপত্তার ভেতরে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে স্টেজ ত্যাগ করে।চলবে............... |
Home »
Bangla Romantic Golpo
,
গল্প:প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান
,
লেখিকা:সানজিদা আক্তার মুন্নী
» গল্প:প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান (পর্ব:০২)







0 comments:
Post a Comment