![]() |
লেখিকা :নূরজাহান আক্তার আলোপর্ব : ৪২প্রথম খন্ডের সমাপ্তি---------------------_'তার বুকজমিনে এভাবে চুমু এঁকে আগে আমার নামটাআগে খোদাই করতাম। তাহলে কেউ নজর দিতেও পারত নাকেড়ে নেওয়ার কথাও ভাবত না।'
শুদ্ধ জবাব দিলো না শুধু শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।বুকেরকাছটায় অদ্ভুত শিহরণ হচ্ছে। বারে বারে এভাবে মনের কথাজানালে আর কত সংযম করা যায়? আর কত ধৈর্য্যেরপরীক্ষা দেওয়া যায়?সে তো মানুষ। তারও তো ধৈর্য্যের সীমা পরিসীমা আছে। চাওয়া-পাওয়াআছে। ইচ্ছে আকাঙ্খা আছে। আজকাল ইচ্ছে করেশীতলকে জানিয়ে দিতে যে তার বুকের গহীনে ছোট্ট একটিরাজকুঠুরি আছে৷ সেই কুঠুরিটা দলিল করা একমাত্রব্যক্তিগত নারীর জন্য। সেই নারীর জন্য কুঠুরিতে একটু একটুকরে জমা করেছে প্রেম সাগর। সেই সাগরে ঢেউ নেই। পানিনেই। নেই কোনো গর্জন। তবুও ভালোবাসার কমতি নেইসেখানে। বরং দিনকে দিন তা বেড়েই চলেছে। এদিকে শীতলএকবুক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে শুদ্ধর দিকে। আরকীভাবে বোঝালে বুঝবে শুদ্ধভাই? কতভাবে বোঝাব সেও এমানুষটাকেই খুব করে চায়। যতটা চাইলে নিজের করেপাওয়াযাবে ঠিক ততটা চায়। এবার আর মিথ্যাে ভালোবাসা নিয়েমানুষটার সামনে দাঁড়ায় নি। এবার সত্যি সত্যি অনুভব করছেকিছু একটা। পূর্বের মতো আজও শুদ্ধকে চুপ দেখে শীতলেরহাসি ধীরে ধীরে মুছে গেল। সে তবুও শেষ আশাটুকু নিয়েতাকিয়েই রইল যেন বিশুদ্ধ পুরুষ কিছু বলে।কিন্তু তাকে হতাশ করে শুদ্ধ সামনে থেকে সরে গেল।ড্রেসিংটেবিলের সামনের দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করল। আতরলাগল। পুরো রুমে সেই সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়ে উঠল।শীতলের খুব ইচ্ছে করল তার বুকে মুখ লুকিয়ে সুগন্ধ নিতে। কিন্তু এবার করলে সেটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।মার জুটতে পারে কপালে তাই আর দাঁড়াল না নিচে চলেগেল। বাড়ির পুরুষরা একে একে নামাজে চলে গেল। শীতলনিজেও ভাবল গোসল সেরে ফুলপরী সেজে রেডি হয়েথাকবে। বাবা-চাচা, ভাইয়ারা ফিরলেই সালামীর জন্য ধরবে।কিন্তু হঠাৎ পেট ব্যথা অনুভব করায়নস্মরণ হয়ে গেলআজকের ডেট। সে চট করে উঠে রুমের দিকে ছুটল।মেয়েকে এভাবে যেতে দেখে সিমিন খেঁকিয়ে উঠে আস্তেযেতে বললেন। কিন্তু শীতল শুনলে তো সে দৌড়ে চলে গেলতার রুমে। এরপর গোসল, সাজগোছ তো দূর পেটের ব্যথায়জুবুথুবু হয়ে বিছানায় পড়ে রইল। অনেকক্ষণ হয়ে গেছেশীতল নামছে না দেখে সিমিন উপরে এলেন। মেয়েকে পেটেবালিশ চেপে ধরে শুয়ে থাকতে দেখে যা বোঝার বুঝেগেলেন। এই কষ্টের ভাগ তো আর নেওয়া যায় না। কিন্তু কষ্টযাতে একটু কম হয় তাই খাবার, মেডিসিন, হট ওয়াটার পট এনে দিলেন। শীতল ঘুমাবে বলে মাকে যেতেবলে চোখ বন্ধ করে নিলো। সিমিন আর কথা বাড়ালেন নাদরজা হালকা ভিজিয়ে চলে গেলেন। সিঁতারা, সিমিন শীতলের কথা জিজ্ঞাসা করলেসমস্যার কথা বলায় চুপ হয়ে গেলেন। ওদিকে ঈদগাহ মাঠে নামাজের জন্য কাতারে কাতারেদাঁড়িয়ে শতশত মুসল্লি। যথাসময়ে নামাজ শেষ করে চললকোলাকুলি। তারপর সেখান থেকে ফিরে চৌধুরীরা ফিরেএলেন বাড়িতে। খাওয়া-দাওয়াও করলেন।সাম্য সৃজন একে একে সবার থেকে সালামি নিলো।শারাফাতচৌধুরী ছোটো ভাই, ছেলে-মেয়ে কিংবা বাড়ির বউদেরকেসালামি দিতেও বাদ রাখেন না। সিঁতারাও দেয় দুই জাকে।সালামি দেওয়া-নেওয়ার পর্ব শেষ করে যে যার মতো ঘুরতেবের হলো। রুবার বের হলো ঐশ্বর্যের সাথে দেখা করতে।সায়ন ঘুমানোর নাম করে স্বর্ণকে ইশারা করে গেল নিজেররুমে। শুদ্ধ আশেপাশে চোখ বুলিয়ে কাঙ্ক্ষিত কাউকে নাপেয়ে নিজের রুমে গিয়ে টুকটাক ফোনকল সারল। কথাবলতে বলতে খেয়াল করল এখনো একটা পড়ে আছে।খামের উপরে নাম লেখা 'সুবহানা চৌধুরী।'তারমানে সে সালামি নিতে রুমে আসে নি। এমনটা তোহওয়ার কথা না।নিচেও তো নেই তাহলে গেল কোথায়? কিয়ারার সাথে রাস্তাঘুরতে বের হয়েছে নাকি? যদি তাই হয় তো মার একটাওমাটিতে পারবে না। কান টেনে লম্বা করে দেবে। একথা ভেবেশীতলের রুম পার হতে গিয়ে দেখল দরজা ভিজিয়ে রাখা।রুমে আছে নাকি? ইদের দিন রুমে বসে থাকার মেয়েও তোসে নয়। তবুও একবার নক করতেই শীতল খ্যাঁক করে বলেউঠল,_'ওই কে রে বাল? উঠতে পারব না যার দরকার ভেতরে চলেআসুন।'ঝাঁঝালো কন্ঠে শুনে শুদ্ধ বিরবির করে বলল,_'বেয়াদবটাকে ম্যানার্স শিখাতে পারলাম না। ওই কে রে বালআবার কি কথা? চড়িয়ে দাঁত ফেলে দিলে যদি শিক্ষা হয়।'বিরবির করতে করতে সে রুমে ঢুকে দেখে শীতল পেটেবালিশ চেপে চুপ করে শুয়ে আছে। মুখটা শুকিয়ে এইটুকুহয়ে আছে। সকালে যেই ড্রেসে দেখে গেছেএখনো পরনে ওই ড্রেস।তারমানে শাওয়ারও নেয় নি, কিন্তু কেন? কেন এরউত্তর খুঁজতে গিয়ে কিছু একটা বুঝে নিলো।সব কথা মুখে নাবললেও বুদ্ধিমানরা ঠিক ঠিকই ধরে ফেলে। হঠাৎ শুদ্ধকেদেখে শীতল শোয়া থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। ওড়না কোথাও?তড়িঘড়ি ওড়না খুঁজতে গিয়ে খেয়াল করল ওড়না দিয়ে তারপায়ের পেটি বাঁধা। কোমর থেকে পা অবধি কেমনকামড়াচ্ছিল তাই পা বেঁধে রেখেছিল। ওড়নায় যা গিট্টু মারামেরেছে খুলতেও দু'মিনিট লাগবে তাই পাশে রাখা তোয়ালেগলায় ঝুলিয়ে নিলো। শুদ্ধর দৃষ্টি ততক্ষণ ছিল শীতলেরস্টাডি টেবিলের চেয়ারে। চেয়ারে ঝুলানো নতুন টি-শার্ট।একদিন পরে তারপর আর খুঁজে পায় নি। এই লোভী বিড়ালহাতিয়েছে আন্দাজ করে খোঁজও করে নি। শুদ্ধর পরনেএখনো সকালের সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। শীতল মুগ্ধ হলো। মিনমিন করে বলল,_'কিছু বলবেন শুদ্ধ ভাই?'_'ডাকাতি করে নয় হাজার টাকা দিয়ে ড্রেস কিনে নিলি।বলিস নি তো সেটা তুলে রাখার জন্য?'_'পরে পরব।'_'পরে কেন?'_'এমনি।'_'যা শাওয়ার নিয়ে আয় ঘুরতে বের হবো।'_' শরীর ভালো লাগছে না। মাথা ঘুরছে। আপুদের নিয়ে যান।'অথচ অন্যসময় হলে ঘুরতে যাওয়ার কথা শোনামাত্রই সেইলাফিয়ে উঠত। আজ যেন তার সব খুশি ফুরিয়ে গেছে। শুদ্ধসালামির খামটা এগিয়ে দিলে শীতল অভিমানে থমথমে মুখতাকিয়ে রইল। সকালে তো বললই সালামি হিসেবে টাকানিবে না এবার। যা চেয়েছে দিলে পারলে যেন সেটাই দেয়।নতুবা টাকা ফাঁকা লাগবে না তার। বাবা এসেছে একটু ঢংকরে মুখ ফুলালেই টাকা পেয়ে যাবে। কিন্তু টাকা তো চায় নাতার। চায় জলজ্যান্ত বিশুদ্ধ পুরুষটাকে। একদম আপন করে।নিজের করে। শীতল খাম ধরছে না দেখে শুদ্ধ বলল,_'ধরছিস না কেন?'_'লাগবে না।'_'না লাগলেও ধর।'_'আমার বাবার অনেক টাকা আছে অন্যের টাকা না নিলেওচলবে।'শুদ্ধ ভ্রুঁ কুঁচকাল। নিচের ঠোঁট কামড়ে কোনোমতে হাসিআঁটকে বলল,_'তোর বাপের যা আছে সেটা নিবি না তাই তো? তা তোরবাপের কিসের অভাব? কি লাগবে, কিসে খুশি তোর বাপ?'_'মেয়ের খুশির ধার ধাঁরে না আসছে মেয়ের বাপের খুশিঠেকাতে।'একথা বলে শীতল মুখ বাঁকাল। দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছেতাই বসল। একটু আগে খাওয়া শীতলের এঁটো পানিটুকু শুদ্ধপান করে বলল,_'আজ বিশেষ দিন যেহেতু অখুশি রাখব না কাউকে,বল কি চাস?'_'আর কতবার বলব?'—'যতবার জানতে চাইব।'_'এতবার জানিয়েও যখন প্রাপ্তির খাতা শূন্য তাহলে জানাবকেন?'একথা বলে শীতল অভিমানপূর্ন চোখে শুদ্ধর দিকে তাকাল।তবে তারচোখ যেন বলে দিচ্ছে মনের কথা। কন্ঠস্বর যেন চিৎকার করেবলতে চাচ্ছে, 'আমার হয়ে যান বিশুদ্ধ পুরুষ। ইদ সালামিহিসেবে আপনার 'আমিটা' শুধু আমার জন্য চিরস্থায়ী হোক।'শীতলকে চুপ থাকতে দেখে শুদ্ধ পুনরায় খাম এগিয়ে দিলো।শীতলপুনরায় গোঁ ধরে বলল,_'বললামই তো সালামি লাগবে না।'_'অন্যদের দিয়ে দিবো?'_'হুম।'_'ভেবে বলছিস?'_'হুম।'_' সালামি হিসেবে স্বয়ং শুদ্ধ ছিল, তাকেও কি তবে..?'_'হুম।'একথা বলে শীতল তড়িৎ তাকাল শুদ্ধর দিকে। চোখ-মুখেবিষ্ময়। তাকে আরেকদফা অবাক করে দিয়ে শুদ্ধ হাত ধরেটেনে বুকে জড়িয়ে নিলো শীতলকে। আকষ্মিক কান্ডে শীতলবাকহারা। নড়চড়ও ভুলে গেছে যেন। বুকের ভেতর অদ্ভুত শিহরণ। হাত-পা যেন কাঁপছে। তার মাথাঠেঁকেছে শুদ্ধর বুকে। তবে কি শুদ্ধ ভাই মেনে নিচ্ছে তাকে?সত্যি? সত্যি সত্যিই তার ব্যক্তিগত পুরুষ হবে শুদ্ধ ভাই? তারএখনো স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছে কেন? নাকি সত্যিই স্বপ্ন দেখছেএকটুপরেই ঘুম ভেঙে যাবে? যদি স্বপ্ন হয় তো এই ঘুম নাভাঙ্গুক। আর যদি সত্যি হয় তো আজ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখীমানুষ সে। তার অবস্থা দেখে শুদ্ধ ফিচেল হাসল। বাঁধন একটুশক্ত করে ধরল। তারপর একটু ঝুঁকে কানে কানে বলল, _'ইদের দিন সম্পর্কের দৃঢ়তা বাড়াতে কোলাকুলি করা উত্তম।'একথা শুনে শীতল শুধু লাজুক হাসল। তার গালজোড়া কেনজানি লাল হয়ে উঠেছে। সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না।হঠাৎ কি ভেবে তারকম্পিত হাতজোড়া রাখল শুদ্ধর পিঠের উপর।না স্বপ্ন নয় এইযে প্রিয় পুরুষটাকে ধরতে পারছে। ছুঁতে পারছে। অনুভবকরতে পারছে। তখন শুদ্ধ হঠাৎ বলল,-'এবার সবার সামনে আমাকে গ্রহন করতে যদি পিছিয়েওযাস তাহলে আমায় চিরতরে হারাবি। ওয়াদা করে বলছি,সত্যিই হারাবি। কেঁদে মরে গেলেও আমাকে পাবি না। যেন নাপাস এজন্য তোকে আমার বিয়েতে প্রধান সাক্ষী করে অন্যমেয়েকে নিয়ে বাসরে ঢুকব আমি।'একথা শুনে শীতল শক্ত করে খামচে ধরল শুদ্ধকে।কয়েকবার মাথা নাড়িয়ে বোঝাল এসব শুনতে চাস না। এসবকথা শুনলে তার নিঃশ্বাস আঁটকে আসে। তার অবস্থা দেখেশুদ্ধর বুকের ভারটা যেন কমে এলো।বুঝল, হারানোর ভয়টা ভালো ভাবেই শীতলের মনে ঢুকাতেপেরেছে।তাই মনে মনে খুশি হয়ে সামনে তাকাতেই দেখে সিমিনদাঁড়িয়ে আছে। উনাকে দেখে শুদ্ধ সোজা হয়ে দাঁড়াতেই শীতল বাঁধা দিলো।মাকে না দেখে শুদ্ধকে খাবলে ধরে পুনরায় মাথা রাখল প্রিয়পুরুষটার বুকে। এবার শুদ্ধ তাকে সরাল না বরং সিমিনেরআগুন চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে রইল একদৃষ্টিতে। তখনসিমিন হাতের প্লেটটা স্বজোরে আছড়ে ফেলতেই শীতলচমকে উঠল। বিষ্ফোরিত দৃষ্টিকে মাকে দেখে হতভম্ব হয়েতাকিয়ে রইল। মেয়ের বেহায়াগিরি নিজের চোখে দেখেরাগটাকে সামলাতে পারলেন না তিনি।মারতে তেড়ে আসতেইশুদ্ধ শীতলকে আড়াল করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল।তারপর ঠান্ডা সুরে বলল,-'এখানে এই বিষয়ে কোনো কথা হবে না ছোটো আম্মু।যাবতীয় কথা হবে ড্রয়িংরুমে সবার সামনে।'একথা বলে সে শীতলের হাত ধরে টেনে নিচে নিয়ে গেল।শুরুর দিকে জোরে হাঁটলেও কিছু একটা মনে করে ধীরেসুস্থে সিঁড়ি দিয়ে নামল।এদিকে সিমিনের সাথে তখন সাম্য সৃজনও গিয়েছিল। কারণসকাল থেকে শীতলকে তারা দেখে নি। এদিকে সালামি টাকাগুনার সময় হয়ে গেছে। কিন্তু তারা শুদ্ধ শীতলকে জড়াজড়িঅবস্থায় দেখে সিমিনের প্লেট ছোঁড়া দেখে বিপদের সংকেতবুঝে গেছে। তাই দৌড়ে চলে গেছে সায়নের কাছে। ঘুমন্তসায়নকে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ডাকছে,-' সায়ন ভাইয়া! এই সায়ন ভাইয়া, ওঠো তাড়াতাড়ি দেখোসর্বনাশ হয়ে গেছে।'-'প্যাঙ্গার দল জ্বালাস না তো। ঘুমাতে দে।'-'ওইদিকে গিয়ে আগে দেখো কি হয়েছে? শুদ্ধ ভাইয়া আরশীতল আপু চুপিচুপি প্রেম করছিল। তখন ছোটো আম্মুদেখে ফেলেছে। এখন ওদের দুমদুম করে মারবে বোধহয়।'-'শুদ্ধ আর শীতলের প্রেম কবে হলো যে তারা প্রেম করছিল?'-'জড়াজড়ি করলেই তো প্রেম হয়ে যায়। তুমি কিছুই জানোনা দেখছি।'এবার সায়নের ঘুম ছুটে গেল। চোখ বড় বড় তাকিয়ে কিছুবলার আগে শুনতে পেল নিচে গোলমাল হচ্ছে। তাহলে ঘটনাসত্যি নাকি? সে তড়িৎলাফ মেরে উঠে নিচে যাওয়ার জন্য ছুটল। সিঁড়ি বেয়ে নামতেনামতেই দেখল বড়রা সবাই জড়ো হয়ে গেছে। শুদ্ধরকোমরের কাছটার পাঞ্জাবি খামচে ধরে তার পেছনে শীতল দাঁড়িয়ে আছে। ফিসফিসকরে কাঁদছে। সে গিয়ে দাঁড়াতেই সিমিন শাহাদত চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বললেন,-'এবার হলো তো? মিলল আমার কথা?'-'সিমিন থামো। ব্যাপারটা আগে বুঝতে দাও। শুদ্ধ কিহয়েছে?'শুদ্ধ তখনো শিনা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। না আছে তারচোখে ভয়। আর না কন্ঠে বিব্রতবোধ। শাহাদত চৌধুরীরকথায় সে এবার অকপটে জবাব দিলো,-' আমি শীতলকে বিয়ে করতে চাই। কবে, কখন, জানি নাতবে সে বউ হলে আমার বউ হবে।'অকপটে বলা কথা শুনে থমকে গেল ড্রয়িংরুম। হতবাক হয়েতাকিয়ে রইলেন সকলে। তখন সিমিন খেঁকিয়ে উঠে বললেন,-'এ হয় না এটা রক্তের অপমান!'-'কেন হয় না?'-'কারণ তোমরা ভাই-বোন..!'শুদ্ধ এবার উনার কথা কেড়ে ভুলটা সংশোধন করে দিলো,-'উহুম একটু ভুল হলো। আমরা চাচাতো ভাই-বোন। যেখানেআমাদের ধর্মে জায়েজ আছে সেখানে আর কোনো বাড়তিকথার কারণ দেখছি না।'এবার সিরাত মুখ খুললেন,-'মানলাম ধর্মে জায়েজ তবুও মানুষ কি বলবে?'-'বাইরের মানুষের ধাঁর কবে ধারলাম আমি ,ঠিকঠাক মনেওতো পড়ছে না? আর তোমরা কেউ বলে দাও নি কেন চাচাতোভাই-বোনের মধ্যে কিছু হওয়া যাবে না। এখানে মূলত ভুলটাআমাদের নয়, তোমাদের!' একথা শুনে এবার সিমিন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন,-'এত যুক্তিতর্ক শুনতে চাই না। আমি মানি না তোমাদেরসম্পর্ক।'-'সেটা তোমার ব্যাপার। জানানো দরকার তাই জানালামমানলে ভালো নয়তো আমাদের পথ আমরা বেছে নেবো।'( প্রথম খন্ডের সমাপ্তি) |
Home »
Bangla Romantic Golpo
,
BANGLA THRILLRE GOLPO
,
গল্প : শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ
,
লেখিকা :নূরজাহান আক্তার আলো
» গল্প: শেষ চৈত্রের ঘ্বান (পর্ব:৪২ শেষ পর্ব)







0 comments:
Post a Comment