গল্প: ক্ষতিপূরণ‌ হিসেবে মাকে (পর্ব:০৫)


লেখক:Shimul dey



(৫)



----------





কদিন ধরেই আয়নার ভেতরে নিজের মাথার চুলগুলো মনযোগ

দেখছিল রাসেল। ও যখন সকাল সকাল গোসলের পর আয়নায়

নিজের চেহারাটা দেখে তখন রোজই ওর ভ্রু কুচকানো মুখটা দেখে

সহজেই আন্দাজ করা যায় কিছু একটা ঘটেছে। হয়ত চেহারায় কোন

একটা অসঙ্গতি থাকায় খানিকটা চিন্তিত থাকে রাসেল। কিন্তু সেটা

কী!  




আসলে কয়েকদিন ধরেই রাসেল খেয়াল করছে যে ওর মাথার

ডানপাশের কয়েকটা চুলে হালকা পাক ধরেছে। বহুক্ষণ ইতস্তত ভাব

নিয়ে তাকিয়ে থেকে স্বাভাবিকভাবেই তখন ওর মনে একটা প্রশ্ন আসে-

" তবে কী তরুন বয়সটা শেষ হতে চলল! " প্রতিদিন সকালে গোসলের

পর রাসেলের এটা রোজকার কর্ম, নিজের মাথার পাকা চুলগুলো

দেখে আফসোস করা। অজান্তেই প্রতিনিয়ত মনের গভীরে একটা

বিশেষ  ভয়ের কাছে নিজেকে সারেন্ডার করা। ভয়টা হল- কোন অল্প

বয়সী একটা সুন্দরী মেয়ে হয়ত ওকে আর পছন্দ করবে না! হয়ত

কুত্সিত অসুন্দর কাউকেই শেষমেষ তার বিয়ে করতে হবে! শেষে ভয়

নিয়েই কোন রকমে চুল আঁচড়ে রাসেল অফিসের জন্য বের হয়ে যায়।

নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে পাচ মিনিটের মধ্যে অফিসে চলে

আসে।



রাসেলের অফিস বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে, বাজার সংলগ্ন একটা

বাড়ির নীচতলায়। তাতে একটা ফ্ল্যাটের মতো ঘরে তিনটে রুমের ছোট

অফিস বাড়ি। জুনিয়র অফিসারদের বসার জন্য একটা বড় ঘরে

টেবিল পাতা, সাথে সারি সারি চেয়ার। তারপরে কাগজপত্র আর

কম্পিউটার রুম। তারপরে রাসেলের বসার জন্য আরেকটা ছোট্ট রুম।

রাসেল রোজই এসে প্রথমে ফিল্ড অফিসারদের ব্রিফ করে কাজে

পাঠিয়ে দেয়, ওরা সাইকেল বা মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়ে।

হাওরের এই এলাকাগুলোতে শীতকালেই কেবল সাইকেল,

মোটরসাইকেল চলে। নইলে ছাড়া ছাড়া গ্রামগুলোতে বছরে ছয়মাস

ফিল্ড অফিসারদের নৌকা দিয়েই চলাচল করতে হয়, বাড়ি বাড়ি যেতে

হয়।  




ফিল্ড অফিসারদের ডিল করে তারপর রাসেল রোজকার হিসেব

নিকেশ, খাতাপত্র দেখে রিপোর্ট তৈরি করে। লাঞ্চের পর ওকে রোজ

বিকেলে কর্মীদের নিয়ে মিটিং করতে হয় বা নিজের মোটর সাইকেল

নিয়ে জেলা অফিসে যেতে হয়। ওখান থেকে দিকনির্দেশনা নিয়ে

আসতে হয়। মাঝে মাঝে রাসেলকে অফিসের কাজে ঢাকাও যেতে হয়।

নিত্যদিনের রুটিনমাফিক জীবন যাকে বলে আরকি।





রাসেলের অফিসের জুনিয়র কলিগরা অনেকেই বিবাহিত। ওরা

রাসেলকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। ওরা মাঝে মাঝেই বলে, " স্যার

আপনার লাইগাতো মাইয়া আছে! বিয়া কইরা লান, মাইয়াটা ভালো। "

রাসেল ওদের বলে," একটা বইন আছেরে ভাই, কেমনে বিয়া করি। " 



তখন অনেকেই বলে, " স্যার কী যে কন! বইন থাকব বইনের জায়গায়!

বিয়া করলে দোষ কী! বইন যহন বিয়ার লায়েক অইব, বিয়া দিবেন।" 



রাসেল শুধু হু হু করে, সত্যি কথাটা কাউকে আর বলতে পারে না।

রাসেল বলতে পারে না, ওর মা ওর বিয়ের কথা তুলতে চায় না, এখন

পর্যন্ত কোনো কথাই উঠে নাই। রাসেল আস্তে করে বিয়ের আলোচনাটা

এড়িয়ে যায়। তবে কলিগদের বউ শালীদের নিয়ে নানা রসিকতা ওর

কানে আসলে রাসেল মনে মনে কেবল কষ্ট পায়। মাঝে মাঝেই রাসেল

ভাবে, এবার বাড়ি গিয়ে মাকে বিয়ের কথাটা বলবে। কিন্তু বাড়ি গেলেই

রাসেলের মা হাসিনা বেগম অমুক সমস্যা তমুক সমস্যার নানা ফর্দ

ধরিয়ে দিয়ে রাসেলকে বিড়ম্বনায় ফেলে দেয়। তখন রাসেলের মনে

হয়," ধূর শালা! জীবনে বিয়াই করমু না! মাইয়া মাইনসের এত্ত ঝামেলা

ভাল লাগে না!" সুপুরুষ রাসেলকে দেখে দিরাইয়ের মুরুব্বিরাও বিয়ার

কথা বলে। বলে, " মাইয়া আছে বাজান! বিয়া কইরা লান! আপনের

বাড়ির ঠিকানা দেন! খোঁজ খবর লই!"




রাসেল মায়ের কথা ভেবে কিছুতেই সাড়া দিতে পারে না। এসব ঘটক

মুরুব্বিদেরও এড়িয়ে যায়। তবে ওর যে বয়স , সবাইকে এড়িয়ে

গেলেও যৌনজ্বালাকে এড়িয়ে যেতে পারে না। বাড়ি গিয়েই রোজ

ল্যাংটো মেয়েদের মাই আর গুদের খোলা ছবি দেখে হাত মারে। আগে

এত হাত মারত না ও। ইদানিং হতাশায় যেন সেটা বেড়ে গেছে। খুব কষ্ট

হয় রাসেলের, হাত মারার পরই নিজের ওপর ঘেন্না ধরে যায়।



 

Post a Comment

0 Comments

🔞 সতর্কতা: আমার ওয়েবসাইটে কিছু পোস্ট আছে ১৮+ (Adult) কনটেন্টের জন্য। অনুগ্রহ করে সচেতনভাবে ভিজিট করুন। ×