লেখিকা - আসফিয়া রহমান
পর্ব:০১
আচ্ছা, মানুষ ভালবাসে কেন বলোতো?
ভালোবাসার অনুভূতি আসলে কেমন?
প্রেমে পড়লে কেমন অনুভব হয়?
সৃষ্টিকর্তা কি এক অদ্ভুত অনুভূতি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে
মানুষকে! একটা মানুষ হঠাৎ করে আরেকটা মানুষকে
তীব্রভাবে ভালবাসতে শুরু করে। সেই ভালোবাসার কোন কূল
কিনারা হয় না। তীব্র ভালোবাসার টানে সেই মানুষটাকে ছেড়ে
থাকাটাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
_______________________
১.
আজ পূর্ণিমা। আকাশে পূর্ণিমার গোল চাঁদ, কিন্তু কালচে ভারী
মেঘে ঢাকা পড়ে গেছে তার রূপ। মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের
ঝলকানি মেঘের ফাঁক গলে এক মুহূর্তের জন্য সাদা আলোয়
ভাসিয়ে দিচ্ছে চারপাশ।
বৃষ্টির পড়ছে ঝমঝমিয়ে। ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডালপালা
দুলছে। রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট যাত্রী ছাউনি। শুভ্র দৌড়ে
এসে ছাউনিটার নিচে দাঁড়ালো।
আশেপাশে কোনো মানুষজন নেই, ঝড়ের আভাস পেয়ে সব
দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে আগেভাগেই। আজ অফিস থেকে
বেরোতে বেরোতে দেরি হয়ে গেছে শুভ্রর।
তারমধ্যে আবার গাড়িটা নষ্ট হয়ে আছে দুদিন থেকে। দুদিনে
সারানোর সময় হয়নি। অফিস থেকে বের হয়ে কোন রিকশাও
পায়নি। দেরি হয়ে গেছে বিধায় শুভ্র হাঁটতে শুরু করেছিল।
মাঝরাস্তায় এমন ঝড়ো হওয়া শুরু হলো আর তারপর এমন
মুষলধারে বৃষ্টি। এই ছাউনিটা থাকায় যা রক্ষা...
ব্লেজারটা ঝাড়তে ঝাড়তে শুভ্র এদিকওদিক তাকালো। বিদ্যুৎ
চমকের সাদা আলোয় একমুহূর্তের জন্য দৃশ্যমান হলো একটা
নারী অবয়ব। চমকে উঠলো শুভ্র।
এই ঝড়-বাদলের রাতে এরকম একটা যাত্রী ছাউনির নিচে
একটা মেয়ে একা একা কী করছে?
বিদ্যুতের ঝলক শেষ হতেই আবার সব অন্ধকার। শুভ্রর মনে
হলো, ও হয়তো ভুল দেখেছে। কিন্তু চোখের পলক ফেলার
আগেই আবার বাজ পড়লো প্রচন্ড শব্দে। সেই আলোতে দেখা
গেল কিভাবে কেঁপে উঠল মেয়েটা। তার সাথে আরো দৃশ্যমান
হলো মেয়েটার শাড়ির নীলাভ রংটা। রংটা অন্ধকারের সাথে
এমনভাবে মিশে আছে যে এতক্ষণ বোঝাই যায়নি ওখানে
কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
শাড়ি ভিজে শরীরে লেপ্টে গেছে। চুলগুলো বৃষ্টিতে ভিজে
নেমে এসেছে কাঁধ বেয়ে। এক কোণায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে বৃষ্টির
দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটা।
"এক্সকিউজ মি, মিস!"
টিনের চালে বৃষ্টির ফোটার তীব্র শব্দে শুভ্র নিজের কণ্ঠস্বর
নিজেই শুনতে পেল না। শুভ্র আবারও একটু জোরে ডাকল,
“হ্যালো… শুনতে পাচ্ছেন?”
কোনো সাড়া নেই।
মেয়েটা যেন নিজের ভেতরে ডুবে আছে। চোখ দুটো দূরে
ঝাপসা বৃষ্টিরেখার দিকে স্থির। বজ্রপাতের আলোয় মুহূর্তের
জন্য মুখটা আলোকিত হলো— মেয়েটা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে
আছে টিনের চাল থেকে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ধারার দিকে।
পরক্ষণেই আবার অন্ধকার। অন্ধকার এতক্ষণে সয়ে এসেছে
শুভ্রর চোখে। শুভ্র দুই পা বাড়িয়ে মেয়েটার কাছে গিয়ে হাত
উঁচিয়ে তুড়ি বাজালো চোখের সামনে।
এবার চমকে উঠলো মেয়েটা। তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো শুভ্রর
দিকে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিটা যেন সরাসরি এসে বিঁধে গেলো শুভ্রর
বুকে।
মুহূর্তের জন্য শুভ্র কেঁপে উঠল ভেতরে ভেতরে— এমন দৃষ্টি ও
আশা করেনি।
"কে আপনি?"
শুভ্র জবাব দেবার আগেই মেয়েটা কঠিন গলায় আবার বলল,
"তুড়ি বাজাচ্ছেন কেন? কী সমস্যা?"
শুভ্র অপ্রস্তুত হয়ে গেল, “সরি… একচুয়ালি আমি ওখান
থেকে আপনাকে ডেকেছিলাম, আপনি খেয়াল করেননি…
তাই…”
মেয়েটা এক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ওর দিকে।
চোখদুটো অস্বস্তিকরভাবে গভীর। তারপর ধীরে ধীরে মুখ
ঘুরিয়ে আবার বৃষ্টির দিকে তাকাল।
টিনের চালে ঝমঝম করে ফোঁটা ঝরছে, সেই শব্দেই যেন
কথার সমাপ্তি টেনে দিল সে।
শুভ্র দাঁড়িয়ে রইল কয়েক মুহূর্ত।
মনে হলো, মেয়েটার চারপাশে একটা অদৃশ্য দেওয়াল আছে
— যেটা ভেদ করা সহজ নয়।
বৃষ্টির তীব্রতা কমতে শুরু করলো এরমধ্যেই। বজ্রপাতও কমে
এসেছে। টিনের চালে টুপটাপ শব্দ হচ্ছে এখনো। ভিজে মাটির
গন্ধ ছড়িয়েছে, বাতাসে শীতল আর্দ্রতা।
অনিন্দিতা বড় করে নিঃশ্বাস টানল। নিঃশ্বাসের সঙ্গে ভিজে
মাটির সোঁদা গন্ধ অনেকটা টেনে নিলো বুকের ভেতর।
প্রশান্তিতে বুজে এলো চোখজোড়া।
মিনিট পাঁচেকের মাথায় টুংটাং শব্দে মোড়ের মাথায় একটা
রিকশা দেখা গেল। অনিন্দিতা হাত উঁচিয়ে ডাকলো
রিকশাটাকে।
এতক্ষন ধরে নিঃশব্দে সঙ্গ দেয়া অপরিচিত লোকটাকে
পেছনে ফেলে অনিন্দিতা রিকশায় উঠে বসলো।
"মামা, যাইবেন না?" রিকশাওয়ালা শুভ্রর দিকে প্রশ্নবোধক
দৃষ্টিতে তাকালো।
রিকশাওয়ালার প্রশ্ন শুনে শুভ্র মেয়েটার দিকে তাকালো।
অনিন্দিতা কঠিন গলায় রিকশাওয়ালাকে বলল, "না।"
শুভ্রর দিকে করুণ চোখে তাকালো রিকশাওয়ালা।
"আহারে বেচারা... না জানি কী দোষ করছে! বউটা মনে হয়
আমার বউয়ের চাইয়াও পাষাণ..." বিড়বিড় করতে করতে
প্যাডেলে পা ঘোরালো লোকটা। বৃষ্টিভেজা পিচের রাস্তা ধরে
চলতে শুরু করলো রিকশা।
রিকশাটা চোখের সামনে থেকে চলে যাবার পর শুভ্র রাস্তায়
তাকিয়ে দেখল পিচের রাস্তায় অল্প অল্প পানি জমেছে। বৃষ্টির
পরিস্কার পানিতে জ্বলজ্বল করছে কিছু একটা। শুভ্র ঝুকে
সেই বস্তুটা হাতে তুলে নিল।
একটা রূপোর নুপুর!
শুভ্র নুপূরটা উল্টেপাল্টে দেখে খানিকক্ষণ চিন্তা করলো।
মেয়েটা তো এই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে ছিল! শুভ্র রিকশাটা
যেদিকে গেছে দ্রুত সেদিকে কয়েক পা হাঁটল। রিকশাটা
ততক্ষণে অদৃশ্য হয়ে গেছে ত্রিসীমানা থেকে।
নুপুরটা কি করবে ভেবে পেল না শুভ্র। অন্ধকারেও জ্বলছে
রূপালি রংটা।
বৃষ্টিভেজা ঠান্ডা বাতাসে শরীর কেঁপে উঠল শুভ্রর। কানে
এখনো বাজছে টুংটাং রিকশার ঘণ্টা। যেন দূরে মিলিয়ে
যাওয়া সেই আওয়াজও নুপুরটার সাথে কোনো অদৃশ্য যোগে
বাঁধা।
পকেটে রাখতে গিয়ে আবার থমকালো শুভ্র। মেয়েটা যদি
খুঁজতে ফিরে আসে?
কিন্তু দামী জিনিসটা রাস্তায় ফেলে রাখাটাও তো ঠিক হবে না।
কিন্তু মেয়েটার সাথে আর কখনো দেখা হবে কি?
নইলে ফিরিয়ে দেবে কী করে!
চারপাশে ফাঁকা নির্জনতা, ঝড়ো রাতের পরের স্যাঁতসেঁতে
নীরবতা। শেষমেশ নুপুরটা ব্লেজারের পকেটে ঢুকিয়ে বাসার
উদ্দেশ্যে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল শুভ্র।
২.
গত পাঁচ মিনিট ধরে তিনবার বেল বাজিয়ে বিরক্ত ভঙ্গিতে
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনিন্দিতা। কেউ দরজা খুলছে
না। কি সমস্যা! সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি! এভাবে ভেজা
শরীরে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে!
আজকে বাহিরে বের হওয়াটাই ভুল হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে
একটার পর একটা বিরক্তিকর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে সমানে।
সন্ধ্যার কথা মনে পরতেই অনিন্দিতার রাগের মাত্রা বাড়লো।
সন্ধ্যায় প্রীতির বার্থডে পার্টি ছিল।
প্রীতি- অনিন্দিতার বেস্ট ফ্রেন্ড। কলেজ লাইফ থেকে ওর
সাথে পরিচয়। মেয়েটা ভীষণ মিশুকে কিন্তু শান্তশিষ্ট। ঠিক
অনিন্দিতার উল্টো। অনিন্দিতা মিশুকে হলেও ওর রাগটা।
বরাবরই বেশি।
সন্ধ্যায় প্রীতির বার্থডে পার্টিতে কেক কাটার পর গিফট
দেওয়ার পর্ব শেষ হতেই হঠাৎ করে ওদের আরেক ফ্রেন্ড
সায়েম যখন সবার সামনে ওকে প্রপোজ করে বসলো তখন
প্রথমে হতভম্ব হলেও হতভম্বের মাত্রা কাটিয়ে ওঠার সাথে
সাথেই সায়েমের গালে ঠাস করে কষিয়ে একটা চড় মেরেছে
অনিন্দিতা। এতদিনের বন্ধুকে এভাবে কখনোই ভাবতে
পারেনি ও।
তারপরেই কারো সাথে কোন কথা না বলে বেরিয়ে এসেছে
প্রীতি বাসা থেকে। প্রীতি পেছন থেকে ডেকেছিল অনেকবার।
কথা ছিল প্রীতির গাড়ি পৌঁছে দেবে অনিন্দিতাকে। অনিন্দিতা
দাঁড়ায়নি। কোন কথা না শুনে সোজা বেরিয়ে এসেছে। যার
ফলস্বরূপ ফেঁসে গেছিল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে।
অনিন্দিতা আরেকবার বেল বাজিয়ে হাত সরিয়ে নেবার
আগেই দরজা খুললেন রাবেয়া বেগম। মেয়ের দিকে তাকিয়ে
রীতিমতো আঁতকে উঠলেন তিনি, "এভাবে বৃষ্টিতে ভিজেছিস
কেন? তোর না প্রীতির গাড়িতে আসার কথা?"
অনিন্দিতা কিছু না বলে গম্ভীর মুখে ভেতরে ঢুকলো।
জুতোজোড়া সেলফে ঢুকিয়ে চুপচাপ চলে গেল নিজের রুমে।
রাবেয়া বেগম মেয়েকে বিরক্ত করলেন না। মেয়ের মেজাজ
খারাপ বোঝাই যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন করলে আরো রেগে যাবে।
তিনি রান্না ঘরে ঢুকলেন রাতের খাবারের বন্দোবস্ত করতে।
রাত প্রায় এগারোটার কাছাকাছি। অনিন্দিতা গোসল সেরে
শাড়ি পাল্টে একটা সুতির জামা পরলো। অনেক সময় বৃষ্টিতে
ভিজে থাকার কারণে মাথাটা ভার ভার লাগছে। জ্বর আসবে
নাকি!
বিছানায় বসে তোয়ালে দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে পায়ের
দিকে চোখ যেতেই অনিন্দিতা দেখলো ওর ডান পায়ের
নুপুরটা নেই। থমকে গেল ও। এটা বাবার দেয়া শেষ স্মৃতি।
কোথায় পড়ল নুপুরটা?
অনিন্দিতা তাড়াতাড়ি উঠে বাথরুম, ঘরের মেঝে ভালো করে
দেখলো; কোথাও নেই। প্রীতির বাসায় খুলে পড়েছে কি?
যাওয়ার সময়ও তো ছিল। কিন্তু যদি রাস্তায় পড়ে যেয়ে থাকে,
তাহলে?
এবার কান্না পেল অনিন্দিতার। বাবার শেষ স্মৃতিটা এভাবে
হারিয়ে গেল! বাবা নিজের হাতে পরিয়ে দিয়েছিলেন নুপুরটা।
চোখের পাতা ভিজে উঠল ওর, আটকাতে পারল না কান্নাটা।
কান্না গলায় ফিসফিস করল—
“বাবা… আমি হারিয়ে ফেললাম তোমার শেষ স্মৃতিটা…”
৩.
শুভ্র শাওয়ার নিয়ে বের হলো। টিশার্ট গায়ে জড়াতে জড়াতেই
শুভ্রর মা সোনালী বেগম এলেন কফি নিয়ে, "আজ এতো
দেরি হলো যে? তোর বাবা তো সেই কখন চলে এসেছে।"
শুভ্র কফি নিতে নিতে আড়চোখে তাকালো মায়ের দিকে,
"তোমার হাসব্যান্ড সব কাজ আমার ঘাড়ে চাপিয়ে রেখেছে।
নিজে তো আগে আগে আসবেই..."
সোনালী বেগম ছেলের কথা শুনে হাসলেন,
"তোর বাবার এত বড় বিজনেসের দায়িত্ব তুই না নিলে কে
নেবে? লোকটারও তো বয়স হচ্ছে।"
"এসব বিজনেস-টিজনেস বড্ড একঘেয়ে লাগে মা... তুমি তো
জানো সেটা!"
"তাহলে বিয়ে করে ফেল, আর একঘেয়ে লাগবে না!"
"বিজনেসের সাথে বিয়ের কী সম্পর্ক...?" বলতে বলতে শুভ্র
চেয়ারের উপর থেকে ব্লেজারটা হাতে নিতেই ঝুপ করে নুপুরটা
পড়ে গেল মাটিতে। কপাল কুঁচকে গেল ওর, "ওহ্... এটার
কথা তো ভুলেই গিয়েছিলাম..."
সোনালী বেগম কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকালেন, "নূপুর! কার
এটা? কোথায় পেলি?
শুভ্র নুপুরটা মেঝে থেকে তুলে হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে
রইল। চিকচিক করতে থাকা রূপালি রংটা যেন চোখে বিঁধল ওর।
"রাস্তায় পেয়েছি," শুভ্র ধীরস্বরে বলল, "রাস্তায় বৃষ্টির পানি
জমেছে, সেই পানির ভেতরে পড়ে ছিল..."
সোনালী বেগম অবাক হয়ে বললেন, "এভাবে রাস্তায় পড়ে
থাকে নাকি! নিশ্চয়ই কারও ভীষণ প্রিয় জিনিস।"
শুভ্র আনমনে উত্তর দিল, "মনে হচ্ছে তাই। ওভাবে ফেলে
দেয়ার মতো জিনিস না এটা…"
সোনালী বেগম ছেলের চোখের দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে
রইলেন। এক অদ্ভুত পরিবর্তন যেন দেখতে পেলেন সেখানে।
শুভ্রর গলায় যে টানটান নির্লিপ্ততা থাকে সবসময়, সেটা নেই।
কেমন যেন অন্যমনষ্ক হয়ে গেছে কন্ঠস্বর।
"নুপুরটা ফিরিয়ে দিবি কীভাবে?"
শুভ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলল, "জানি না মা.. মেয়েটাকে কখনো খুঁজে
পাওয়া সম্ভব হবে কি না…"
নুপুরটা আঙুলের ফাঁকে ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে শুভ্রর চোখে
আবার ভেসে উঠল অন্ধকারে ভেজা চুলে দাঁড়িয়ে থাকা শাড়ি
পরিহিত সেই নারীর মুখ, যার নামটা অব্দি জানে না ও।
To be continued...?
|
0 Comments